
দীর্ঘ কয়েক দশক পর বঙ্গোপসাগরে নিজেদের সামরিক উপস্থিতি বাড়ানোর বড় ধরণের পরিকল্পনা করছে পাকিস্তান। দেশটির নৌবাহিনী তাদের বহরে যুক্ত হওয়া নতুন এবং সবচেয়ে অত্যাধুনিক সাবমেরিন ‘পিএনএস হাঙ্গর’ (PNS Hangor) বঙ্গোপসাগরে মোতায়েনের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছে বলে জানা গেছে।
মেরিটাইম বিষয়ক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম 'বেয়ার্ড মেরিটাইম'-এর এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
পাকিস্তান নৌবাহিনীর কমোডর ওমর ফারুক জানিয়েছেন, সম্প্রতি নৌবহরে যুক্ত হওয়া এই ডিজেল-ইলেকট্রিক সাবমেরিনটিকে ভবিষ্যতে বঙ্গোপসাগরে মোতায়েন করার একটি দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা রয়েছে।
১৯৭১ সালের ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের পর থেকে এই অঞ্চলে পাকিস্তান নৌবাহিনীর সামরিক তৎপরতা বা উপস্থিতি ছিল না বললেই চলে। এতদিন তাদের নৌ-কার্যক্রম মূলত আরব সাগর এবং নিজস্ব উপকূলীয় প্রতিরক্ষা বলয়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। কমোডর ওমর ফারুক জানান, হাঙ্গর এবং একই শ্রেণির আরও সাতটি অত্যাধুনিক সাবমেরিন যুক্ত হলে পাকিস্তান এখন থেকে বঙ্গোপসাগরে নিয়মিত ও দীর্ঘমেয়াদী উপস্থিতি বজায় রাখার সক্ষমতা অর্জন করবে।
চীন থেকে নির্মাণ কাজ শেষ করে সাবমেরিনটি যখন পাকিস্তানে আনা হচ্ছিল, তখন পথিমধ্যে শ্রীলঙ্কায় একটি সংক্ষিপ্ত যাত্রাবিরতি নেয় নৌবহরটি। চীন থেকে পিএনএস হাঙ্গরকে নিরাপদে পাকিস্তানে নিয়ে আসার দায়িত্বে থাকা ওই নৌবহরের নেতৃত্বে ছিলেন কমোডর ওমর ফারুক এবং সেখানেই তিনি এই মন্তব্য করেন।
বর্তমানে বঙ্গোপসাগর অঞ্চলে এককভাবে সবচেয়ে শক্তিশালী নৌ উপস্থিতি রয়েছে ভারতের। এই বিশাল সমুদ্রসীমা এবং আন্দামান-নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় নৌ কমান্ডের সরাসরি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। সামরিক বিশেষজ্ঞদের ধারণা, নতুন হাঙ্গর-শ্রেণির সাবমেরিনগুলো যুক্ত হওয়ার পর পাকিস্তান এখন আরব সাগর ছাড়িয়ে পুরো ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে নিজেদের সামরিক প্রভাব ও কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করার কৌশলগত লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছে।