
নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি:
নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলায় পারিবারিক কলহের জেরে স্ত্রীকে গলা কেটে হত্যার অভিযোগে অভিযুক্ত স্বামীকে ঘটনার মাত্র পাঁচ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বুধবার (১৭ জুন) রাতে সিদ্ধিরগঞ্জের শিমুলপাড়া বিহারী কলোনি এলাকায় অভিযান চালিয়ে মো. জনি (৪০) নামে ওই ব্যক্তিকে আটক করা হয়।
এর আগে একই দিন বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে বন্দর উপজেলার কলাবাগ সরদারবাড়ী এলাকার একটি ভাড়া বাসায় এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। নিহত সাথী বেগম (৩৮) দুই সন্তানের জননী।
পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, প্রায় ২০ বছর আগে ঢাকার মিরপুর মুসলিম ক্যাম্প এলাকার রাজু মিয়ার মেয়ে সাথী বেগমের সঙ্গে জনির বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই বিভিন্ন বিষয়কে কেন্দ্র করে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে পারিবারিক বিরোধ চলছিল। পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, জনি দীর্ঘদিন ধরে স্ত্রীকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করতেন।
নিহতের ভাই ইমরান হোসেন জানান, বোনের সংসার টিকিয়ে রাখতে ২০২৪ সালে তিনি প্রায় ৪ লাখ টাকা ব্যয়ে জনির পৈতৃক এলাকায় একটি আধাপাকা বাড়ি নির্মাণ করে দেন। পরবর্তীতে ওই বাড়ি ভাড়া দিয়ে জনি ও সাথী বন্দর উপজেলার কলাবাগ সরদারবাড়ী এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস শুরু করেন। তবে এরপরও তাদের দাম্পত্য কলহ অব্যাহত ছিল।
বুধবার বিকেলে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে তুচ্ছ বিষয় নিয়ে বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে জনি ধারালো অস্ত্র দিয়ে সাথী বেগমের গলায় আঘাত করেন। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। ঘটনার পরপরই অভিযুক্ত জনি পালিয়ে যান।
খবর পেয়ে বন্দর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে এবং তদন্ত শুরু করে। পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযুক্তের অবস্থান শনাক্ত করে রাত ৯টার দিকে সিদ্ধিরগঞ্জের শিমুলপাড়া বিহারী কলোনি এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, প্রাথমিক তদন্তে পারিবারিক কলহের জেরেই এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। গ্রেপ্তারকৃত জনি জিজ্ঞাসাবাদে ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।
এ ঘটনায় থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে আদালতে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।
এদিকে, এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের বিস্তারিত কারণ উদ্ঘাটনে পুলিশ তদন্ত অব্যাহত রেখেছে।