
বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করতে একটি সমঝোতা স্মারক (MoU) ও দুটি গুরুত্বপূর্ণ দলিল বিনিময় করা হয়েছে। সংস্কৃতি, সন্ত্রাসবাদ দমন এবং বিনিয়োগের মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতে পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়াতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সোমবার (২২ জুন ২০২৬) মালয়েশিয়ার পুত্রাজায়ায় দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের উপস্থিতিতে এই ঐতিহাসিক চুক্তি ও দলিল বিনিময় সম্পন্ন হয়।
মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম এবং বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মধ্যে একটি একান্ত ও ফলপ্রসূ দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে দুই প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতেই সংস্কৃতি বিষয়ক সমঝোতা স্মারকটি স্বাক্ষরিত হয়।
এছাড়া, দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদার করতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ে দুটি গুরুত্বপূর্ণ দলিল বিনিময় করা হয়েছে: ১. সন্ত্রাসবাদ দমন: সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় যৌথ গবেষণা ও সক্ষমতা বৃদ্ধি সংক্রান্ত সহযোগিতা দলিল। ২. বিনিয়োগ বৃদ্ধি: দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ প্রসারে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা দলিল।
বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান এবং মালয়েশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী উতামা হাজি মোহাম্মদ বিন হাজি হাসান নিজ নিজ দেশের পক্ষে এই দলিলগুলো বিনিময় করেন।
বৈঠক শেষে আয়োজিত এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম প্রথমে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত ও শুভেচ্ছা জানান। পরবর্তীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দ্বিপক্ষীয় আলোচনার বিভিন্ন দিক তুলে ধরে বক্তব্য রাখেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন:
"আজকের এই চুক্তি ও দলিল বিনিময় আমাদের পারস্পরিক সহযোগিতাকে আরও সুদৃঢ় করবে এবং সম্পর্কের ইতিবাচক গতিধারা বজায় রাখতে বড় ভূমিকা রাখবে। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, এই আলোচনা বাংলাদেশ–মালয়েশিয়া সম্পর্কের এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে।"
তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, মালয়েশিয়া বাংলাদেশের একটি দীর্ঘদিনের বিশ্বস্ত ও ঘনিষ্ঠ অংশীদার। দুই দেশের এই সম্পর্ক গড়ে উঠেছে পারস্পরিক আস্থা, অভিন্ন মূল্যবোধ এবং জনগণের শক্তিশালী বন্ধনের ওপর ভিত্তি করে।
সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী জানান, দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের বর্তমান প্রবৃদ্ধিকে উভয় দেশই স্বাগত জানিয়েছে। বাণিজ্য সম্পর্ককে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিতে বাংলাদেশ–মালয়েশিয়া মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (FTA) নিয়ে আলোচনা দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এছাড়া, নিয়মিত যৌথ কমিশন বৈঠক এবং দুই দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় পরামর্শ প্রক্রিয়াসহ বিদ্যমান প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর মাধ্যমে সম্পৃক্ততা বাড়ানোর বিষয়ে দুই নেতাই একমত পোষণ করেছেন। আঞ্চলিক শান্তি, যৌথ সমৃদ্ধি এবং একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে দুই দেশ একসঙ্গে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে।