সারাদেশ

আকাশ থেকে মাছ পড়ে! পৃথিবীর কোন কোন জায়গায় এমন ঘটনা সত্যিই ঘটে?

b
bd24live অনলাইন ডেস্ক
1 বার পঠিত
বিজ্ঞাপন Ad
বৃষ্টি নামার কথা আকাশ থেকে—কিন্তু কখনও কখনও সেই বৃষ্টির সঙ্গে মাটিতে পড়ে মাছ, ব্যাঙ কিংবা ছোট জলজ প্রাণী! শুনতে অবিশ্বাস্য হলেও বিশ্বের বিভিন্ন জায়গায় এমন ঘটনার নথি রয়েছে। তবে সত্যিই কি মাছ আকাশে জন্ম নেয়? নাকি এর পেছনে লুকিয়ে আছে ভয়ংকর কোনো ঝড়ের শক্তি? মাছ বা ব্যাঙ ‘আকাশ থেকে পড়েছে’—এমন বহু ঘটনার নথি পাওয়া যায়। তবে এটাকে সাধারণ বৃষ্টির মতো কোনো প্রাকৃতিক precipitation বলা ঠিক নয়। বিজ্ঞানীদের সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য ব্যাখ্যা হলো waterspout—পানির ওপর তৈরি এক ধরনের ঘূর্ণায়মান শক্তিশালী বায়ুস্তম্ভ। এটি অনেকটা পানির ওপর তৈরি টর্নেডোর মতো কাজ করতে পারে। শক্তিশালী ঘূর্ণিবায়ু ছোট মাছ, ব্যাঙ কিংবা অন্যান্য জলজ প্রাণীকে পানি থেকে তুলে নিয়ে যেতে পারে। পরে ঝড়ের শক্তি কমে গেলে সেগুলো মাটিতে পড়ে।  অর্থাৎ, মাছ মেঘে তৈরি হয় না; ঝড় তাদের এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় বহন করে নিয়ে যেতে পারে। একটি শক্তিশালী waterspout-এর কেন্দ্রে ঘূর্ণায়মান বায়ুর গতি তৈরি হয়। এর সঙ্গে থাকে প্রবল ঊর্ধ্বমুখী বায়ুপ্রবাহ। যদি ঘূর্ণিটি কোনো জলাশয়ের ওপর দিয়ে যায়, তখন পানির সঙ্গে ছোট মাছ বা ব্যাঙও এর মধ্যে উঠে যেতে পারে। বাতাসের শক্তি যথেষ্ট থাকলে সেগুলো কিছু দূর পর্যন্ত বহন হতে পারে। ঝড় দুর্বল হয়ে গেলে বা স্থলভাগে পৌঁছালে সেই প্রাণীগুলো আর বাতাসে ভেসে থাকতে পারে না। তখন একসঙ্গে অনেক মাছ মাটিতে পড়ে যেতে পারে—যেন আকাশ থেকেই মাছের বৃষ্টি হচ্ছে। NOAA-এর তথ্য অনুযায়ী, waterspout মূলত ঘূর্ণায়মান বায়ু ও জলকণার একটি স্তম্ভ। এর দুই প্রধান ধরন হলো fair-weather waterspout এবং tornadic waterspout। দ্বিতীয়টি টর্নেডোর সঙ্গে সম্পর্কিত এবং তুলনামূলকভাবে বেশি শক্তিশালী।  এই অদ্ভুত ঘটনার সবচেয়ে আলোচিত উদাহরণগুলোর একটি অস্ট্রেলিয়ার Northern Territory-এর Lajamanu। ২০১০ সালের ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে সেখানে প্রবল আবহাওয়ার পর বাসিন্দারা দেখতে পান, চারদিকে ছোট মাছ পড়ে আছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, শত শত মাছ আকাশ থেকে পড়েছিল এবং রাস্তা ও আশপাশের এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছিল। ঘটনাটি এতটাই অস্বাভাবিক ছিল যে স্থানীয় বাসিন্দারা মাছ কুড়িয়ে নিয়েছিলেন। Library of Congress-এর নথিতেও Lajamanu-র এই মাছ পড়ার ঘটনাটি উল্লেখ করা হয়েছে। বিজ্ঞানীদের সম্ভাব্য ব্যাখ্যা ছিল—প্রবল ঝড়ের সঙ্গে তৈরি শক্তিশালী ঊর্ধ্বমুখী বায়ুপ্রবাহ বা waterspout মাছগুলোকে বহন করে নিয়ে যেতে পারে। হন্ডুরাসে ‘মাছের বৃষ্টি’ যেন নিয়মিত ঘটনা! আরও রহস্যময় একটি জায়গা হলো হন্ডুরাসের Yoro। এখানে কথিত “Lluvia de Peces” বা “Rain of Fish” নিয়ে বহু বছর ধরে গল্প চলে আসছে। সাধারণত মে থেকে জুলাইয়ের মধ্যে প্রবল ঝড়ের পর রাস্তায় ছোট মাছ পড়ে থাকার কথা স্থানীয়ভাবে বলা হয়। স্থানীয়দের কাছে এটি অনেকটা আশীর্বাদের মতো। ঝড় থামার পর মানুষ মাছ সংগ্রহ করে। তবে এখানেই বিজ্ঞানের একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা আছে। Yoro-র মাছ কোথা থেকে আসে? এখনও এর চূড়ান্ত বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা প্রতিষ্ঠিত হয়নি। একটি সম্ভাবনা হলো waterspout বা প্রবল ঝড়ের বাতাস মাছকে বহন করে আনে। কিন্তু Yoro-র ক্ষেত্রে এই ব্যাখ্যার কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। কারণ সেখানে পাওয়া মাছগুলো স্থানীয় মিঠাপানির মাছ বলে বর্ণিত হয়েছে এবং নিকটতম সমুদ্র অনেক দূরে। ফলে প্রতিবছর একই অঞ্চলে একই ধরনের মাছ পড়ার ঘটনাকে শুধু সমুদ্রের waterspout দিয়ে ব্যাখ্যা করা সহজ নয়। আরেকটি সম্ভাবনা হলো প্রবল বৃষ্টিতে স্থানীয় ভূগর্ভস্থ জলপথ, ছোট জলাধার বা লুকানো পানির উৎস প্লাবিত হয়ে মাছকে বাইরে নিয়ে আসতে পারে। তবে এটিও নিশ্চিতভাবে প্রমাণিত ব্যাখ্যা নয়। তাই Yoro-কে নিয়ে সবচেয়ে সঠিক সাংবাদিকতা হবে—“মাছ পড়ার ঘটনা স্থানীয়ভাবে নথিভুক্ত হলেও এর সুনির্দিষ্ট কারণ নিয়ে বৈজ্ঞানিক বিতর্ক রয়েছে।” শুধু মাছ নয়, ব্যাঙও ‘আকাশ থেকে’ পড়ে! এ ধরনের ঘটনা শুধু মাছের ক্ষেত্রে নয়। বিশ্বের বিভিন্ন জায়গায় ব্যাঙ আকাশ থেকে পড়ার ঘটনাও নথিভুক্ত হয়েছে। Library of Congress-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০০৫ সালে সার্বিয়ার Odžaci এলাকায় ঝড়ের পর হাজার হাজার ব্যাঙ পড়ে থাকার খবর পাওয়া যায়। বিজ্ঞানীদের ব্যাখ্যা ছিল, ঝড়ের শক্তিশালী বাতাস বা updraft ছোট ব্যাঙকে তুলে নিয়ে যেতে পারে। তবে প্রতিটি এমন ঘটনাকে যে আকাশ থেকে পড়া প্রাণী হিসেবে ধরে নিতে হবে, তা নয়। অনেক সময় প্রবল বৃষ্টিতে গর্ত ও জলাশয় থেকে ব্যাঙ বেরিয়ে আসে, মাছ পানির স্রোতে ভেসে রাস্তায় চলে আসে কিংবা ঝড়ে পাখি গাছ থেকে পড়ে যায়। পরে মানুষ মনে করতে পারে, এগুলো আকাশ থেকে পড়েছে।  এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—“মাছের বৃষ্টি” নিয়ে প্রচুর লোককথা ও প্রত্যক্ষদর্শীর দাবি থাকলেও সব ঘটনার বৈজ্ঞানিক প্রমাণ সমান শক্তিশালী নয়। Library of Congress-ও সতর্ক করেছে, ঐতিহাসিক অনেক ঘটনার তথ্য এসেছে দ্বিতীয় বা তৃতীয় পক্ষের বর্ণনা থেকে। তাই প্রতিটি ঘটনাকে নিশ্চিতভাবে আকাশ থেকে মাছ পড়া বলা যায় না। তবে কিছু ঘটনায় প্রত্যক্ষদর্শীর বিবরণ, সংগ্রহ করা মাছ এবং ঘটনার সময়কার আবহাওয়ার তথ্য এমন সম্ভাবনা তৈরি করে যে প্রবল ঝড় সত্যিই ছোট প্রাণীকে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় বহন করতে পারে। ইতিহাসে বিভিন্ন দেশে মাছ, ব্যাঙসহ প্রাণী পড়ার খবর পাওয়া গেছে। Library of Congress-এর নথিতে রয়েছে—Lajamanu, Australia — ২০১০ সালে শত শত মাছ পড়ার ঘটনাYoro, Honduras — দীর্ঘদিনের “Rain of Fish” স্থানীয় ঘটনাOdžaci, Serbia — ২০০৫ সালে ব্যাঙ পড়ার খবরMarksville, Louisiana — ১৯৪৭ সালে মাছ পড়ার প্রত্যক্ষ নথিDubuque, Iowa — ১৮৮২ সালে ব্যাঙ পড়ার ঘটনা এসব ঘটনার সবগুলোর কারণ একই—এমন দাবি করা যায় না। তবে শক্তিশালী ঝড়, waterspout ও updraft-কে প্রাণী পরিবহনের অন্যতম সম্ভাব্য প্রাকৃতিক কারণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।  আকাশ থেকে মাছ পড়ার গল্প শুনলে প্রথমেই মনে হতে পারে—এটা নিশ্চয়ই কুসংস্কার বা বানানো গল্প। কিন্তু বিজ্ঞানের ব্যাখ্যা বলছে, প্রবল ঘূর্ণিবায়ু ও ঝড় ছোট জলজ প্রাণীকে পানি থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে অন্য জায়গায় ফেলে দিতে পারে। তবে প্রতিটি ঘটনার ক্ষেত্রে একই ব্যাখ্যা প্রযোজ্য নয়—বিশেষ করে হন্ডুরাসের Yoro-র মতো নিয়মিত ও স্থানীয়ভাবে পরিচিত ঘটনাগুলোর ক্ষেত্রে। তাই সবচেয়ে চমকপ্রদ সত্যটি হলো—আকাশ থেকে মাছ পড়া সম্ভব; কিন্তু মাছ বৃষ্টি হয়ে মেঘ থেকে তৈরি হয় না।প্রকৃতির বিশাল শক্তি কখনও কখনও এমন দৃশ্য তৈরি করতে পারে, যা প্রথম দেখায় অলৌকিক বলেই মনে হয়। সূত্র: ন্যাশনাল ওসান সার্ভিস, লাইভ সাইন্স, ইএল হেরালডো
বিজ্ঞাপন Ad
পাঠকের মতামত
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন Ad
বিজ্ঞাপন Ad

সম্পাদক ও প্রকাশক: <b>ডি. হাসান. খান</b> | নির্বাহী সম্পাদক: <b>এ. এইচ. সুমন</b>
<div><b>বেলভিউ টাওয়ার ৭১ বীর উত্তম সিআর দত্ত রোড, হাতিরপুল, ঢাকা-১২০৫</b></div>