সারাদেশ

আজ আন্তর্জাতিক গণতন্ত্র দিবস: ভোটের বাইরে গণতন্ত্রের আসল শক্তি কোথায়?

b
bd24live অনলাইন ডেস্ক
1 বার পঠিত
বিজ্ঞাপন Ad
গণতন্ত্র মানেই শুধু ভোট দেওয়া নয়। মানুষের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, আইনের শাসন, মানবাধিকার, অংশগ্রহণ এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণে নাগরিকের কণ্ঠস্বর—সব মিলেই একটি কার্যকর গণতন্ত্র। প্রতি বছর ১৫ সেপ্টেম্বর পালিত আন্তর্জাতিক গণতন্ত্র দিবস তাই শুধু একটি রাজনৈতিক ব্যবস্থা উদ্‌যাপনের দিন নয়; বরং বিশ্বজুড়ে গণতন্ত্রের অবস্থা, সংকট ও সম্ভাবনা নিয়ে ভাবারও দিন। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ ২০০৭ সালে ১৫ সেপ্টেম্বরকে আন্তর্জাতিক গণতন্ত্র দিবস হিসেবে ঘোষণা করে। ২০০৮ সাল থেকে বিশ্বজুড়ে দিবসটি পালিত হয়ে আসছে। দিবসটির উদ্দেশ্য হলো গণতন্ত্রের গুরুত্ব সম্পর্কে জনসচেতনতা বাড়ানো এবং দেশগুলোকে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান ও চর্চা আরও শক্তিশালী করতে উৎসাহিত করা। দিবসটির উদ্যোগের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল Inter-Parliamentary Union (IPU)-এর। সংস্থাটি মনে করে, গণতন্ত্র শক্তিশালী করতে জনগণের অংশগ্রহণ এবং কার্যকর, প্রতিনিধিত্বশীল ও জবাবদিহিমূলক সংসদ অপরিহার্য। নির্বাচন গণতন্ত্রের অন্যতম প্রধান উপাদান। কিন্তু নির্বাচন হলেই একটি রাষ্ট্রে গণতন্ত্র পুরোপুরি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে—এমনটি বলা যায় না। জাতিসংঘের মতে, গণতন্ত্র একটি প্রক্রিয়া এবং একই সঙ্গে একটি লক্ষ্য। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে মানবাধিকার, আইনের শাসন এবং মানুষের অর্থবহ অংশগ্রহণ। অর্থাৎ, ভোট দেওয়ার অধিকার থাকার পাশাপাশি একজন নাগরিকের নিজের মত প্রকাশের সুযোগ থাকতে হবে, তথ্য পাওয়ার অধিকার থাকতে হবে এবং রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্তে নিজের কণ্ঠস্বর পৌঁছানোর সুযোগ থাকতে হবে। ২০২৬ সালের আন্তর্জাতিক গণতন্ত্র দিবসে জাতিসংঘ বিশেষভাবে গুরুত্ব দিচ্ছে deliberative democracy বা আলোচনাভিত্তিক/অংশগ্রহণমূলক গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার ওপর। লক্ষ্য হলো সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি ও মতের মানুষকে সিদ্ধান্ত গ্রহণের আলোচনায় যুক্ত করা, যাতে মানুষের অংশগ্রহণ বাড়ে এবং রাষ্ট্র ও নাগরিকের মধ্যে আস্থা শক্তিশালী হয়। এ বছর IPU-এর নির্ধারিত ফোকাস হলো “Bring human rights into focus”—অর্থাৎ গণতন্ত্রের আলোচনায় মানবাধিকারের বিষয়টিকে আরও সামনে আনা।  একটি গণতান্ত্রিক সমাজে সবাই একই মত পোষণ করবে—এমন প্রত্যাশা বাস্তবসম্মত নয়। মতপার্থক্য, বিতর্ক ও সমালোচনা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার স্বাভাবিক অংশ। জাতিসংঘের ২০২৬ সালের বার্তায়ও বলা হয়েছে, সংলাপ, সহযোগিতা এবং ভিন্ন মত বোঝার চেষ্টা গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করে। মতের পার্থক্যকে সংঘাতে পরিণত না করে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পথ খুঁজে নেওয়াই গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য।  গণতন্ত্রের সঙ্গে স্বাধীন ও বহুমাত্রিক সংবাদমাধ্যমের সম্পর্ক গভীর। নাগরিকরা যদি তথ্যই না পান, তাহলে তারা কীভাবে রাষ্ট্রের নীতি, সিদ্ধান্ত বা জনপ্রতিনিধিদের কাজ সম্পর্কে মত গঠন করবেন? জাতিসংঘের ২০২৬ সালের আন্তর্জাতিক গণতন্ত্র দিবসের বার্তায় মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকে মৌলিক মানবাধিকার হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। জাতিসংঘ সনদের পাশাপাশি মানবাধিকারের সর্বজনীন ঘোষণাপত্রের ১৯ নম্বর অনুচ্ছেদেও মতামত ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার অধিকার স্বীকৃত।  তাই স্বাধীন সংবাদমাধ্যম, তথ্যের অধিকার এবং নাগরিকের মতপ্রকাশের সুযোগ—গণতান্ত্রিক সমাজের গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি। গণতন্ত্র শুধু বর্তমান প্রজন্মের বিষয় নয়; ভবিষ্যৎ প্রজন্মের রাজনৈতিক ও সামাজিক অংশগ্রহণও এর সঙ্গে জড়িত। তরুণদের মতামত, নেতৃত্ব ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের সুযোগ যত বাড়বে, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোও তত বেশি সমাজের বাস্তব চিত্র ধারণ করতে পারবে। একইভাবে নারী, সংখ্যালঘু, প্রান্তিক জনগোষ্ঠী এবং বিভিন্ন সামাজিক শ্রেণির মানুষের অংশগ্রহণ ছাড়া প্রতিনিধিত্বশীল গণতন্ত্র পূর্ণতা পায় না। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে গণতন্ত্র নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। রাজনৈতিক মেরুকরণ, বিভাজন, ভুল তথ্য ও অপতথ্য, নাগরিক পরিসর সংকুচিত হওয়া এবং রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানের প্রতি আস্থার ঘাটতি গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার জন্য বড় প্রশ্ন তৈরি করছে। জাতিসংঘের ২০২৬ সালের বার্তাতেও বিশ্বজুড়ে বিভাজন বাড়া এবং নাগরিক ও সরকারের মধ্যকার আস্থা দুর্বল হওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।  তবে গণতন্ত্রের শক্তি এখানেই—সমস্যা দেখা দিলে তা নিয়ে কথা বলার, প্রশ্ন তোলার এবং পরিবর্তনের দাবি জানানোর সুযোগ তৈরি করা। গণতন্ত্র শুধু একটি ভোটের দিন নয়; এটি প্রতিদিনের চর্চা। কেউ কথা বলবে, কেউ তার সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করবে—তারপরও দুজনের কথা বলার অধিকার থাকবে। সরকার সিদ্ধান্ত নেবে, নাগরিক প্রশ্ন করবে। জনপ্রতিনিধি ক্ষমতায় যাবেন, কিন্তু একই সঙ্গে জনগণের কাছে জবাবদিহিও করবেন। সুতরাং ১৫ সেপ্টেম্বরের আন্তর্জাতিক গণতন্ত্র দিবস আমাদের মনে করিয়ে দেয়—গণতন্ত্রের প্রকৃত শক্তি শুধু সংখ্যাগরিষ্ঠতার মধ্যে নয়; বরং প্রতিটি মানুষের কণ্ঠস্বরকে গুরুত্ব দেওয়ার সক্ষমতার মধ্যে। জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের ২০২৬ সালের বার্তার সারকথাও তাই—বিভেদের বদলে সংলাপ এবং সংঘাতের বদলে সহযোগিতা বেছে নিলেই গণতন্ত্র আরও শক্তিশালী হয়। সূত্র: জাতিসংঘ ও ইন্টার পারলামেন্টরি ইউনিয়ন 
বিজ্ঞাপন Ad
পাঠকের মতামত
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন Ad
বিজ্ঞাপন Ad

সম্পাদক ও প্রকাশক: <b>ডি. হাসান. খান</b> | নির্বাহী সম্পাদক: <b>এ. এইচ. সুমন</b>
<div><b>বেলভিউ টাওয়ার ৭১ বীর উত্তম সিআর দত্ত রোড, হাতিরপুল, ঢাকা-১২০৫</b></div>