বিজ্ঞাপন
ভোরের আলো ফুটতেই কৃষকরা ছুটছেন মাঠে। কাদামাটিতে সারিবদ্ধভাবে রোপণ করা হচ্ছে সবুজ ধানের চারা। রোদ-বৃষ্টির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে আমন ধান চাষে ব্যস্ত সময় পার করছেন বরগুনার কৃষকরা। জেলার বিভিন্ন এলাকায় চলছে জমি প্রস্তুত, ধানের চারা তোলা ও ধান রোপণের কর্মযজ্ঞ। কোথাও লাঙ্গল, আবার কোথাও যন্ত্রচালিত ট্রাক্টর ও পাওয়ার টিলার দিয়ে জমি প্রস্তুত করা হচ্ছে। হাঁটু সমান কাদা পানিতে নেমে চারা রোপণে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষক ও শ্রমিকরা।বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার কালমেঘা ইউনিয়নের আমড়াতলা গ্রামের কৃষক আবদুস সোবাহান জানান, এবারের মৌসুমে তিনি আড়াইশ শতক জমিতে আমন ধানের আবাদ করছেন। এর মধ্যে একশ শতক জমিতে চারা রোপণ সম্পন্ন হয়েছে। তবে সরকারি সহায়তা পাওয়ার ক্ষেত্রে তিনি অনিয়মের অভিযোগ তুলে বলেন, প্রকৃত কৃষকরা কৃষি অফিসের পরামর্শ বা সহায়তা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। অনেক ক্ষেত্রে যাদের জমি নেই বা যারা কৃষির সঙ্গে জড়িত নন, তাদের নামে সার, বীজ ও ওষুধ বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে। নিজস্ব অর্থায়নেই তারা চাষাবাদ চালিয়ে যাচ্ছেন। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে ভালো ফলনের আশা করলেও সার, বীজ, কীটনাশক ও শ্রমিকের মজুরি বৃদ্ধি পাওয়ায় উৎপাদন খরচ নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন তিনি।এ বিষয়ে বরগুনা খামারবাড়ির উপ-পরিচালক বদরুল আলম বলেন, চলতি মৌসুমে আমন আবাদের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হবে বলে আশা করছি। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে কৃষকরা ভালো ফলন পাবেন। কৃষকদের অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।মাঠজুড়ে রোপণ করা সবুজ ধানের চারা কয়েক মাস পর সোনালি ফসলে রূপ নেবে। সেই ফসলের ওপরই নির্ভর করছে বরগুনার কৃষকদের স্বপ্ন ও জীবিকা।
বিজ্ঞাপন