বিজ্ঞাপন
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নিয়ন্ত্রণে কার্যকর নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের হাতে হয়তো আর মাত্র এক বছর সময় আছে। এরপর পরিস্থিতি মানুষের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে বলে সতর্ক করেছেন নোবেলজয়ী কম্পিউটার বিজ্ঞানী জিওফ্রি হিন্টন। এআই নিয়ে পথিকৃৎ কাজের জন্য যিনি ‘এআই গডফাদার’ নামে পরিচিত।
বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের সদস্যদের সঙ্গে এক রুদ্ধদ্বার বৈঠকের পর হিন্টন সাংবাদিকদের বলেন, এআই নিয়ন্ত্রণে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সময় আছে “হয়তো এক বছর, তবে এর চেয়ে খুব বেশি নয়।” তাঁর মতে, উন্নত এআই বা সুপারইন্টেলিজেন্স তৈরির সম্ভাব্য সময় নিয়ে গবেষকদের ধারণা গত কয়েক বছরে দ্রুত বদলেছে।
হিন্টন বলেন, একসময় ধারণা করা হতো মানুষের চেয়ে বেশি বুদ্ধিমান এআই তৈরি হতে ৩০ থেকে ৫০ বছর সময় লাগতে পারে। পরে সেই হিসাব নেমে আসে ১০ থেকে ২০ বছরে। এখন অনেক গবেষক মনে করছেন, এটি ঘটতে পারে মাত্র কয়েক বছরের মধ্যেই।
সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্সের আমন্ত্রণে কংগ্রেসের উভয় কক্ষের আইনপ্রণেতাদের সঙ্গে ওই বৈঠকে অংশ নেন হিন্টনসহ কয়েকজন এআই বিশেষজ্ঞ। বৈঠকটি এমন এক সময়ে হলো, যখন যুক্তরাষ্ট্রে এআই নিয়ন্ত্রণে নতুন আইন নিয়ে আলোচনা চললেও বড় কোনো আইন পাসের ক্ষেত্রে তেমন অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে না।
হিন্টনের উদ্বেগের অন্যতম কারণ সাম্প্রতিক একটি ঘটনা, যেখানে এআই এজেন্টের একটি দল ওপেন-সোর্স প্ল্যাটফর্ম Hugging Face-এ প্রবেশ করে এবং নিজেদের কর্মকাণ্ড আড়াল করার চেষ্টা করে। হিন্টনের মতে, এ ঘটনা এআই ব্যবস্থার ক্রমবর্ধমান স্বায়ত্তশাসনের ঝুঁকি সামনে এনেছে।
তিনি বলেন, এআই এখন এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে, যেখানে এআই নিজেই আরও উন্নত এআই তৈরি করতে পারছে। প্রযুক্তির এই প্রক্রিয়াকে ‘রিকার্সিভ সেলফ-ইমপ্রুভমেন্ট’ বলা হয়। তাঁর আশঙ্কা, যথাযথ নিয়ন্ত্রণ না থাকলে এআই উন্নয়নের গতি মানুষের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে।
হিন্টন ২০২৩ সালে গুগলের ভাইস প্রেসিডেন্ট ও ইঞ্জিনিয়ারিং ফেলোর পদ থেকে সরে দাঁড়ান। এআইয়ের সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশের পর তিনি এ সিদ্ধান্ত নেন। পরের বছর পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার পান তিনি।
এদিকে এআই নিয়ন্ত্রণে নতুন আইন প্রণয়নের উদ্যোগও চলছে যুক্তরাষ্ট্রে। কংগ্রেসের সদস্য টেড লিউ ও নাথানিয়েল মোরান এমন একটি বিল এনেছেন, যাতে শক্তিশালী এআই মডেলগুলোর ক্ষেত্রে জরুরি প্রয়োজনে সিস্টেম স্থগিত বা বন্ধ করার প্রযুক্তিগত সক্ষমতা রাখার প্রস্তাব রয়েছে। তবে বিলটি কবে পাস হবে, তা এখনো অনিশ্চিত।
বৈঠকের পর সিনেটর এলিজাবেথ ওয়ারেন বলেন, মানুষের নিয়ন্ত্রণে এআইকে রাখার সুযোগ দ্রুত সংকুচিত হচ্ছে। আর সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্সের ভাষ্য, এআই নিয়ে মানবজাতির ভবিষ্যৎ এবং মানুষের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে—এমন প্রযুক্তি তৈরির বিষয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
হিন্টনের সতর্কবার্তার পাশাপাশি কংগ্রেসের আলোচনায় উঠে এসেছে আরও বড় একটি প্রশ্ন—এআই যদি নিজেই নিজের উন্নতি করতে থাকে এবং একসময় মানুষের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়, তখন এর পরিণতি কী হতে পারে?
এআই নিয়ন্ত্রণে বিশ্বব্যাপী নীতিমালা ও নিরাপত্তাব্যবস্থা তৈরির প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা চললেও, হিন্টনের বক্তব্যে বিষয়টি নিয়ে দ্রুত পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তাই আবার সামনে এসেছে।
সূত্র: এনবিসি নিউজ
বিজ্ঞাপন