বিজ্ঞাপন
খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি: পার্বত্য অঞ্চলে শিক্ষার আলো ছড়ানো, অর্থনৈতিক সংকটে ঝরে পড়া রোধ এবং নারীদের স্বাবলম্বী করার ক্ষেত্রে এক নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলল খাগড়াছড়িতে। পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড ও জেলা পরিষদের যৌথ উদ্যোগে শিক্ষার্থী ও আত্মকর্মসংস্থানমুখী নারীদের মাঝে কোটি টাকার সহায়তা প্রদানসহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক অবকাঠামোর উদ্বোধন করা হয়েছে।
বুধবার পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের উদ্যোগে খাগড়াছড়ি পৌর টাউন হলে আয়োজিত এক সমন্বিত কর্মসূচিতে পাহাড়ের ৭৭৮ জন সুবিধাবঞ্চিত ও মেধাবী শিক্ষার্থীর হাতে মোট ৯২ লাখ ৫ হাজার টাকার শিক্ষা বৃত্তির মঞ্জুরি তুলে দেওয়া হয়। এর মধ্যে উচ্চমাধ্যমিক ও স্নাতক পর্যায়ের ৪৯৩ জন কলেজ শিক্ষার্থীকে ১০ হাজার টাকা এবং বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও উচ্চতর প্রতিষ্ঠানের ২৮৫ জন শিক্ষার্থীকে ১৫ হাজার টাকা করে এককালীন এই আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়।
শিক্ষাকে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর করতে জেলার ২৩টি প্রত্যন্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিতরণ করা হয়েছে ডিজিটাল মাল্টিমিডিয়া সরঞ্জাম। অন্যদিকে, প্রান্তিক নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে তুলতে সদর উপজেলার ১০ জন নারীর হাতে সেলাই মেশিন হস্তান্তর করা হয়। পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, এই ধারাবাহিকতায় জেলার ৯টি উপজেলার মোট ৯০ জন নারীকে পর্যায়ক্রমে সেলাই মেশিন দিয়ে আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা হবে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম ও ভূমি মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খাগড়াছড়ির সংসদ সদস্য ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক স্থায়ী কমিটির সভাপতি ওয়াদুদ ভূইয়া এমপি।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে পার্বত্য চট্টগ্রাম ও ভূমি মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর সামগ্রিক উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরে বলেন, 'শিক্ষাই একটি জাতির স্থায়ী ভিত্তি। অর্থাভাব যেন পাহাড়ের কোনো শিক্ষার্থীর মেধা ও শিক্ষাজীবন বিকাশে বাধা হতে না পারে- সরকার সেটি নিশ্চিত করতে কাজ করছে। প্রযুক্তিভিত্তিক আধুনিক শিক্ষার সুবিধা প্রতিটি প্রত্যন্ত স্কুলেও পৌঁছে দেওয়া হবে।' তিনি আরও জানান, কেবল শিক্ষা নয়, পাহাড়ের নারীদের দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তর ও স্থানীয় পর্যায়ে যোগাযোগের সুবিধার্থে টেকসই অবকাঠামো বিনির্মাণে সরকার নিয়মিত বাজেট বাড়াচ্ছে।'
পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের ভাইস-চেয়ারম্যান (যুগ্ম সচিব) শেখ ছালেহ্ আহাম্মদ-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সংসদ সদস্য ও সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ওয়াদুদ ভূঁইয়া, জেলা প্রশাসক মো. আনোয়ার সাদাত, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ম্রাসা থোয়াই মারমা ও পুলিশ সুপার মো. মোরতোজা আলী খাঁন।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, ১৯৭৬ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকেই উন্নয়ন বোর্ড পাহাড়ের অবহেলিত মানুষের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে ইতিবাচক পরিবর্তন এনেছে।
শিক্ষা সহায়তার পাশাপাশি খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের অর্থায়নে খাগড়াছড়ি সদর উপজেলার বহুল প্রতিক্ষীত বেতছড়ি মুখ খালের ওপর নির্মিত সেতুর শুভ উদ্বোধন করেন অতিথিবৃন্দ। এই ব্রিজটি চালুর ফলে স্থানীয় কৃষিপণ্য পরিবহন ও যাতায়াত ব্যবস্থায় দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ দূর হবে। পরবর্তীতে তিনি পেরাছড়ার হেডম্যান পাড়ায় ‘গিরিফুল শিশু সদন’-এর নবনির্মিত ছাত্রাবাস উদ্বোধন করেন। এরপর বিকালে দীঘিনালা উপজেলার জোড়াব্রিজ এলাকায় একটি বিদ্যালয় ভবনের শুভ উদ্বোধন করেন প্রতি মন্ত্রী।
এর আগের দিন মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের অর্থায়নে মাটিরাঙ্গার তপ্ত মাস্টারপাড়া ব্রিজ এবং নতুন পাড়া মসজিদ ভবনেরও শুভ উদ্বোধন করা হয়।
স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, একই সঙ্গে শিক্ষা বৃত্তি, আধুনিক শিক্ষা সরঞ্জাম, আত্মকর্মসংস্থান সামগ্রী ও সেতু উদ্বোধনের মতো উদ্যোগগুলো খাগড়াছড়ির সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে সরাসরি ভূমিকা রাখবে।
বিজ্ঞাপন