বিজ্ঞাপন
ঘুম থেকে উঠেই প্রাতরাশ করা জরুরি নয়। শরীরের খিদে, হজমক্ষমতা ও দৈনন্দিন রুটিনের ওপর নির্ভর করেই সকালের খাবারের সময় ঠিক করা যেতে পারে। তবে খুব বেশি দেরি করাও ঠিক নয়।
ঘুম থেকে উঠেই কি খেতে হবে? নাকি এক-দুই ঘণ্টা অপেক্ষা করে প্রাতরাশ করা ভালো? সকালে কখন জলখাবার খেলে শরীর ভালো থাকে—এ নিয়ে অনেকের মনেই রয়েছে নানা প্রশ্ন।
কেউ ঘুম থেকে উঠেই প্রাতরাশ করে নেন। আবার কারও সকাল শুরু হয় পানি বা চা দিয়ে। কেউ সংসারের কাজ কিংবা পুজো-পাঠ সেরে তবেই খাবার খান। ব্যস্ততার কারণে অনেকের আবার জলখাবার করতে করতে সকাল গড়িয়ে দুপুরের কাছাকাছি চলে আসে।
তবে ঘুম থেকে ওঠার পর ঠিক কতক্ষণ পর প্রাতরাশ করতে হবে, তার নির্দিষ্ট কোনো নিয়ম নেই বলছেন পুষ্টিবিদেরা। কারণ, খিদে পাওয়ার সময় ব্যক্তি অনুযায়ী আলাদা হতে পারে।
ঘুম থেকে উঠেই কি খেতে হবে?
পুষ্টিবিদ অনন্যা ভৌমিকের মতে, ব্যক্তির বিপাকক্রিয়া ও হজমপ্রক্রিয়ার ওপর খিদে পাওয়ার বিষয়টি অনেকটাই নির্ভর করে। তাই ঘুম থেকে উঠেই খিদে পেলে তখনই প্রাতরাশ করা যেতে পারে। আবার ঘুম থেকে ওঠার পর সঙ্গে সঙ্গে খেতে ইচ্ছা না করলে জোর করে খাবার খাওয়ার প্রয়োজন নেই। কারও এক ঘণ্টা পর খিদে পেতে পারে, কারও ক্ষেত্রে আরও কিছুটা সময় লাগতে পারে।
তবে প্রাতরাশ এবং মধ্যাহ্নভোজের মধ্যে পর্যাপ্ত সময়ের ব্যবধান রাখা জরুরি। সাধারণত দুই খাবারের মধ্যে প্রায় তিন ঘণ্টা বিরতি থাকলে ভালো।
দিন শুরু করুন পানি দিয়ে
রাতে দীর্ঘ সময় পানি পান না করার কারণে ঘুম থেকে ওঠার পর শরীরে পানির প্রয়োজন হতে পারে। তাই দিনের শুরুতে এক গ্লাস পানি পান করার অভ্যাস করা যেতে পারে। চাইলে ঈষদুষ্ণ পানি দিয়ে সকাল শুরু করা যায়। কেউ লেবু-মধুর পানি, ভেজানো চিয়া বা তিসির পানি কিংবা মৌরির পানিও খেতে পারেন। সকালে কয়েকটি ভেজানো বাদামও খাওয়া যেতে পারে।
এরপর খিদে অনুযায়ী কিছুক্ষণ পর প্রাতরাশ করা যেতে পারে।
বেশি দেরি করে খাওয়াও ঠিক নয়
ঘুম থেকে উঠে খিদে পেলেও দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকা ভালো অভ্যাস নয়। কারণ, অতিরিক্ত ক্ষুধা নিয়ে প্রাতরাশ করতে বসলে একসঙ্গে বেশি খাবার খেয়ে ফেলার প্রবণতা তৈরি হতে পারে। এতে শুধু অতিরিক্ত খাওয়ার ঝুঁকিই বাড়ে না, দিনের পরের খাবারের সময় ও পরিমাণের ওপরও প্রভাব পড়তে পারে।
তাই ঘুম থেকে ওঠার পর শরীরের সংকেতকে গুরুত্ব দেওয়া জরুরি। খিদে পেলে খেতে হবে, আবার খিদে না থাকলে জোর করে খাওয়ার প্রয়োজন নেই।
প্রাতরাশে কী থাকা উচিত?
সকালের খাবার শুধু পেট ভরানোর জন্য নয়। দিনের শুরুতে শরীরকে প্রয়োজনীয় পুষ্টি দেওয়ার জন্যও প্রাতরাশ গুরুত্বপূর্ণ। পুষ্টিবিদদের পরামর্শ অনুযায়ী, সকালের খাবারে কার্বোহাইড্রেটের পাশাপাশি প্রোটিন, স্বাস্থ্যকর ফ্যাট, ভিটামিন ও প্রয়োজনীয় খনিজের সমন্বয় থাকা ভালো।
তবে প্রাতরাশ যেন অতিরিক্ত ভারী না হয়। খুব বেশি খেয়ে ফেললে দুপুরের খাবারের সময় স্বাভাবিক খিদে নষ্ট হয়ে যেতে পারে।
সকাল কতটার মধ্যে প্রাতরাশ করবেন?
ঘুম থেকে ওঠার পর ঠিক ৩০ মিনিট, এক ঘণ্টা বা দুই ঘণ্টার মধ্যেই প্রাতরাশ করতে হবে—এমন কোনো সর্বজনীন নিয়ম নেই। ব্যক্তির ঘুম থেকে ওঠার সময়, খিদে, দৈনন্দিন কাজের সময়সূচি এবং হজমক্ষমতার ওপর সকালের খাবারের সময় নির্ভর করতে পারে।
তবে সাধারণভাবে সকাল ৮টা থেকে ১১টার মধ্যে প্রাতরাশ সেরে নেওয়া ভালো। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো অতিরিক্ত দেরি না করা এবং প্রাতরাশে পরিমাণের পাশাপাশি খাবারের পুষ্টিগুণের দিকেও নজর দেওয়া।
ঘুম থেকে উঠেই খেতে হবে—এমন বাধ্যতামূলক নিয়ম নেই। খিদে অনুযায়ী প্রাতরাশের সময় ঠিক করা যেতে পারে। তবে খুব বেশি দেরি না করে সুষম খাবার খাওয়া এবং প্রাতরাশ ও মধ্যাহ্নভোজের মধ্যে পর্যাপ্ত বিরতি রাখা জরুরি।
বিজ্ঞাপন