বিজ্ঞাপন
৪১টি ব্যাংকের করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা (সিএসআর) তহবিল থেকে ২৭৬ কোটি ৩৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তার বোন শেখ রেহানা এবং বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকসের (বিএবি) সাবেক সভাপতি মো. নজরুল ইসলাম মজুমদারের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
বৃহস্পতিবার (৩ আগস্ট) দুদকের সহকারী পরিচালক মো. ইসমাইল হোসেন বাদী হয়ে সংস্থাটির সমন্বিত জেলা কার্যালয় ঢাকা-১ এ মামলাটি দায়ের করেন।
মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, আসামিরা পরস্পরের যোগসাজশে ক্ষমতার অপব্যবহার ও অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গের মাধ্যমে ৪১টি তফসিলি ব্যাংকের সিএসআর তহবিল থেকে মোট ২৭৬ কোটি ৩৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেমোরিয়াল ট্রাস্ট’-এর নামে সংগ্রহ করেন, যা রাষ্ট্রের আর্থিক ক্ষতির কারণ হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
দুদকের তথ্যমতে, ট্রাস্টটি ট্রাস্টস অ্যাক্ট, ১৮৮২-এর আওতায় গঠিত হয়েছিল। এতে শেখ হাসিনা সভাপতি এবং শেখ রেহানা সহসভাপতির দায়িত্বে ছিলেন।
অনুসন্ধানে দুদক জানতে পারে, তৎকালীন বিএবি সভাপতি নজরুল ইসলাম মজুমদার নির্বাহী কমিটির নির্ধারিত আলোচ্যসূচিতে বিষয়টি না থাকলেও ‘বিবিধ’ আলোচনায় ট্রাস্টের জন্য ব্যাংকগুলোর সিএসআর তহবিল থেকে অর্থ দেওয়ার প্রস্তাব উত্থাপন করেন। পরে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের পর কোন ব্যাংক কত অর্থ দেবে তা উল্লেখ করে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোতে চিঠি পাঠানো হয়। এর ভিত্তিতে ৪১টি ব্যাংক থেকে মোট ২৭৬ কোটি ৩৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা সংগ্রহ করা হয়।
মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে, বাংলাদেশ ব্যাংকের সিএসআর নীতিমালায় এ ধরনের ট্রাস্টকে অনুদান দেওয়ার কোনো বিধান নেই। এ বিষয়ে ২০০৮ সালের ডিওএস সার্কুলার এবং ২০২২ সালের ‘পলিসি গাইডলাইন অন করপোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি ফর ব্যাংকস অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল ইনস্টিটিউশনস’-এর নির্দেশনার কথাও তুলে ধরা হয়েছে।
দুদক আরও দাবি করেছে, সরেজমিনে পরিদর্শন করে ট্রাস্টের ঘোষিত ঠিকানায় কোনো দাপ্তরিক কার্যক্রমের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। পাশাপাশি ট্রাস্টটি সমাজসেবা অধিদপ্তর বা এনজিও বিষয়ক ব্যুরোর অনুমোদিত প্রতিষ্ঠান নয় বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
সংস্থাটির ভাষ্য, ট্রাস্টের ঘোষিত কার্যক্রম বাস্তবায়নেরও কোনো প্রমাণ অনুসন্ধানে পাওয়া যায়নি। এ কারণে শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানার বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত লাভের উদ্দেশ্যে ট্রাস্ট গঠন এবং প্রভাব খাটিয়ে ব্যাংকগুলোর সিএসআর তহবিল থেকে অর্থ সংগ্রহের অভিযোগ আনা হয়েছে।
অন্যদিকে, নজরুল ইসলাম মজুমদারের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়েছে যে, বিএবির সভাপতি হিসেবে তিনি তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর প্রভাব ব্যবহার করে ব্যাংকগুলোকে ট্রাস্টে অর্থ প্রদানে উৎসাহিত ও সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে ভূমিকা রাখেন।
এ মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪০৯ ও ১০৯ ধারা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
বিজ্ঞাপন