বিজ্ঞাপন
সুনামগঞ্জে বিক্ষোভ মিছিল ও জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করেছে সুনামগঞ্জে হোটেল-রেস্তোরাঁ শ্রমিক সংঘটন।
হোটেল ও রেস্তোরাঁ সেক্টরে সরকার ঘোষিত সর্বনিম্ন মজুরি বাস্তবায়ন, শ্রম আইন কার্যকরী করা এবং শ্রমিক নেতৃবৃন্দের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মিথ্যা ও হয়রানি মূলক মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে দেশব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।
সোমবার (৩১ আগস্ট) দুপুরে জেলা প্রশাসকের পক্ষে স্মারকলিপি গ্রহণ করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মতিউর রহমান।
এরপূর্বে পূর্বঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে সকাল ১১টায় সুনামগঞ্জ শহরের রায়পাড়াস্থ সংগঠনের অস্থায়ী কার্যালয় থেকে শ্রমিকরা লালপতাকা ও ব্যানারসহ একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়ে শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো প্রদক্ষিণ করে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে গিয়ে শেষ হয়।
স্মারকলিপি প্রদান শেষে শ্রমিকরা পুনরায় বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে আলফাত উদ্দিন চত্বরে এসে একটি প্রতিবাদ সমাবেশে মিলিত হন।
সুনামগঞ্জ জেলা হোটেল রেস্টুরেন্ট মিষ্টি বেকারি শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি সুরঞ্জিত দাসের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক টিটু দাসের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন: বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন সংঘের সুনামগঞ্জ জেলা কমিটির সভাপতি সুখেন্দু তালুকদার মিন্টু, জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট সুনামগঞ্জ জেলা কমিটি সাধারণ সম্পাদক সাইফুল আলম ছদরুল,বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন সংঘ সুনামগঞ্জ জেলা কমিটি ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মনির মিয়া,হোটেল রেষ্টুরেন্ট মিষ্টি বেকারী শ্রমিক ইউনিয়ন অর্থ সম্পাদক জিয়াউর রহমান এছাড়া বক্তব্য রাখেন সংগঠনটির সদস্য লিটন দাস, জিষু পাল প্রমুখ।
সমাবেশে নেতৃবৃন্দ হুশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, দ্রুততম সময়ে শ্রমিকদের যৌক্তিক দাবিগুলো না মেনে নেওয়া হলে সারা দেশে কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।
স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, হোটেল ও রেস্তোরাঁ খাতের প্রায় ৪০ লক্ষ শ্রমিক নামমাত্র মজুরিতে অত্যন্ত মানবেতর জীবনযাপন করছেন। ২০২৩ সালে সর্বনিম্ন মজুরির চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশিত হলেও দীর্ঘ সময় পার হয়ে গেলেও তা বাস্তবায়ন করা হয়নি। বাংলাদেশ শ্রম আইন অনুযায়ী নিয়োগপত্র, পরিচয়পত্র প্রদান, ৮ ঘণ্টা কর্মদিবস ও অতিরিক্ত কাজের জন্য দ্বিগুণ মজুরি দেওয়ার বিধান থাকলেও মালিকপক্ষ জোরপূর্বক ১২-১৩ ঘণ্টা কাজ করিয়ে শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করছে।
স্মারকলিপিতে আরও বলা হয়, সম্প্রতি ঢাকার স্টার কাবাব রেস্তোরাঁর ৪ জন নিরীহ শ্রমিকসহ নেত্রকোনা ও সিলেটের বিভিন্ন শ্রমিক নেতাদের বিরুদ্ধে হয়রানিমূলক মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। এছাড়া ১৬ জুন রংপুরে খামারবাড়ি আলম হোটেলের শ্রমিক শাওনকে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং আইএলও কনভেনশন অনুযায়ী ক্ষতিপূরণের জোর দাবি জানানো হয়।
শ্রমিক ইউনিয়নের মূল দাবিগুলো হলো:
১. অবিলম্বে হোটেল, রেস্তোরাঁ ও বেকারী সেক্টরে সরকার ঘোষিত সর্বনিম্ন মজুরি বাস্তবায়ন করতে হবে।
২. শ্রম আইন অনুযায়ী নিয়োগপত্র, পরিচয়পত্র, সার্ভিস বই প্রদান এবং ৮ ঘণ্টা কর্মদিবস পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন করতে হবে।
৩. গেজেট ও শ্রম আইন লঙ্ঘনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নিতে হবে।
৪. কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের মাধ্যমে নিয়মিত তদারকি নিশ্চিত করা এবং অসাধু কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া।
৫. স্টার কাবাবের ৪ জন শ্রমিকসহ দেশের বিভিন্ন স্থানের শ্রমিক ও নেতৃবৃন্দের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলা অবিলম্বে প্রত্যাহার করতে হবে।
৬. রংপুর নগরীতে নির্মমভাবে নিহত শ্রমিক শাওনের পরিবারকে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দিতে হবে এবং হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
বিজ্ঞাপন