ব্রেকিং নিউজ
প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৯ শিক্ষার্থীকে জিম্মি, কৌশলে ২ জন পালিয়ে বাঁচালো সাবাইকে নালিতাবাড়ীতে নির্বাচনী মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত কুমিল্লায় রোসার নতুন শোরুম জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির পর দূরপাল্লা ও শহরের বাসের ভাড়া বাড়ানোর প্রস্তাব “একদিন গাড়ি চালালে তিনদিন যায় গায়ে ব্যাথা” ঢাকায় স্বামী কর্তৃক স্ত্রীকে কুপিয়ে  হত্যা, দশমিনায় মানববন্ধন শেষে ঘর পুড়িয়ে দিয়েছে জনতা জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধিতে বেড়েছে ট্রাকভাড়া, প্রভাব পড়বে সবজিসহ পণ্যের দামে কেরানীগঞ্জে জুয়েলারি ব্যবসায়ীসহ দুজনকে গুলি করে ২০–২৫ ভরি সোনা ছিনতাই জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে এনসিপির বিক্ষোভ সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহকেরা চাহিদার অর্ধেক টাকাও তোলেননি
সারাদেশ

১৩ বছরের অপ্রতিমের সঙ্গে ১৯ বছরের তুহিনের বন্ধুত্ব যেভাবে

b
bd24live অনলাইন ডেস্ক
1 বার পঠিত
বিজ্ঞাপন Ad
কুমিল্লার ১৩ বছরের ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের তদন্তে একের পর এক নতুন তথ্য সামনে আসছে। শুরুতে পুলিশ ধারণা করেছিল, অপ্রতিমের কাছে থাকা দামি আইফোন ছিনিয়ে নিতেই তাকে ডেকে নিয়ে হত্যা করা হয়েছে। তবে তদন্তে আইফোনের পাশাপাশি পাঁচ হাজার টাকা পাওনা, বয়সে বড়দের সঙ্গে অপ্রতিমের ঘনিষ্ঠতা এবং টিকটক ভিডিও তৈরির প্রলোভনের মতো বিষয়ও সামনে এসেছে। তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ঘটনার দিন অপ্রতিমকে মোবাইলে বারবার বার্তা পাঠাচ্ছিল ১৯ বছরের সাইফুল ইসলাম তুহিন। তাকে বাসা থেকে বের হতে বলা হয়। অপ্রতিমের আইফোন দিয়ে টিকটকের ভিডিও ও ছবি তোলার কথা বলেও তাকে রাজি করানো হয়। শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বেলা আড়াইটার দিকে মায়ের আইফোন ১৭ প্রো-ম্যাক্স নিয়ে বাসা থেকে বের হয় অপ্রতিম। পরিবারকে সে জানিয়েছিল, বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তুলবে। এরপর বিকেল ৩টা থেকে ৩টা ১০ মিনিটের মধ্যে তুহিনের সঙ্গে তার দেখা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, এরপর বিভিন্ন এলাকার অন্তত চারটি সিসিটিভি ক্যামেরায় তাদের চলাফেরা ধরা পড়ে। ফুটেজে দুজনকে পাশাপাশি হাঁটতে ও কথা বলতে দেখা যায়। একটি ফুটেজে তাদের পেছনে আরও দুজনকে এবং পরে চারজনকেই একসঙ্গে দেখা যায়। নির্জন পাহাড়ে নিয়ে হত্যা পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত অনুযায়ী, অপ্রতিম ও তুহিন পরে লালমাই পাহাড়ের সানন্দা এলাকার একটি নির্জন জঙ্গলে যায়। মূল সড়ক থেকে প্রায় দেড় কিলোমিটার ভেতরে ওই এলাকায় পৌঁছাতে হয়। তদন্ত সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, সেখানে আরও দুই কিশোর তাদের সঙ্গে যোগ দেয়। বিকেল ৫টা থেকে ৬টার মধ্যে অপ্রতিমের কাছ থেকে আইফোনটি নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। এতে বাধা দিলে ধস্তাধস্তি শুরু হয়। একপর্যায়ে তুহিন বাঁশের লাঠি দিয়ে অপ্রতিমের মাথায় আঘাত করে। পরে অন্যরাও তাকে আঘাত করে। অপ্রতিমের মৃত্যু হলে তার ফোন নিয়ে তারা ঘটনাস্থল ত্যাগ করে বলে জানিয়েছে পুলিশ। অপ্রতিমের মাথায় গুরুতর আঘাতসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে ক্ষত পাওয়া গেছে। কিছু ক্ষত মৃত্যুর পর তৈরি হয়ে থাকতে পারে বলে তদন্তকারীদের ধারণা। রাতে শিয়াল মরদেহটি টানাটানি করেছিল বলেও জানা গেছে। ময়নাতদন্ত ও ফরেনসিক প্রতিবেদন থেকে এসব বিষয়ে আরও নিশ্চিত হওয়ার চেষ্টা চলছে। আইফোনের পাশাপাশি পাঁচ হাজার টাকার বিরোধ তদন্তে অপ্রতিমের আইফোনের পাশাপাশি পাঁচ হাজার টাকা নিয়ে বিরোধের তথ্যও পেয়েছে পুলিশ। অপ্রতিমের বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ারের মোবাইল যন্ত্রাংশের প্রতিষ্ঠান ইয়েসটেকে কাজ করত গ্রেপ্তার হওয়া এক কিশোর। তদন্ত সূত্রের দাবি, ওই কিশোরকে পাঁচ হাজার টাকা ধার দিয়েছিল অপ্রতিম। সম্প্রতি সে টাকা ফেরত চাইছিল। এ নিয়ে তার মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছিল বলে জিজ্ঞাসাবাদে তথ্য পাওয়া গেছে। পুলিশের তদন্তকারীদের ধারণা, টাকা ফেরত দেওয়ার বিষয়টি এড়ানোর চিন্তাও ওই কিশোরের মধ্যে থাকতে পারে। তবে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে তার ভূমিকা ও উদ্দেশ্য নিশ্চিত করতে আরও তদন্ত চলছে। জিজ্ঞাসাবাদে বেরিয়ে আসে অন্যদের নাম তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি আসে তুহিনকে জিজ্ঞাসাবাদের সময়। শনিবার সকাল ৯টার দিকে তাকে হেফাজতে নেওয়া হয়। তখনও তদন্তকারীরা জানতেন না যে অপ্রতিম মারা গেছে। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে মরদেহ উদ্ধারের খবর পাওয়ার পর জিজ্ঞাসাবাদের ধরন বদলে যায়। পুলিশের ভাষ্য, শুরুতে তুহিন হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করে। দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের পর শনিবার রাত ৮টার দিকে সে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করে। তবে অন্যদের নাম জানাতে অনাগ্রহী ছিল। জিজ্ঞাসাবাদের সময় তুহিনের ফোনে বারবার কল আসছিল। কলদাতাদের একজন ছিলেন অপ্রতিমের বাবার প্রতিষ্ঠানে কাজ করা ওই কিশোর। বিষয়টি তদন্তকারীদের নজরে এলে তাকেও হেফাজতে নেওয়া হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আরও এক কিশোরকে আটক করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, অপ্রতিমের বাবার প্রতিষ্ঠানে কাজ করা ১৫ বছর বয়সী ওই কিশোর প্রযুক্তি ও মোবাইল ফোন সম্পর্কে ভালো ধারণা রাখত। ঘটনার দিন সে নিজের ফোন না নিয়ে পরিবারের অন্য একজনের ফোন নিয়ে বের হয়েছিল। ঘটনাস্থলে তার উপস্থিতি যেন প্রযুক্তিগতভাবে শনাক্ত না হয়, সে উদ্দেশ্যে এমনটি করা হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। তুহিনের সঙ্গে বন্ধুত্ব কীভাবে অপ্রতিম ছিল বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী। স্কুল কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, সে শান্ত, মিশুক ও পড়াশোনায় ভালো ছিল। অপ্রতিমের মামা কাজী মাহবুবুর রহমান জানান, আগে তারা গন্ধমতি এলাকায় থাকতেন। সেখানে অপ্রতিমের ১৫-১৬ বছর বয়সী রাফিন নামে এক বন্ধুত্ব ছিল। রাফিনের বন্ধু ছিল তুহিন। সেই সূত্রেই অপ্রতিমের সঙ্গে তুহিনের পরিচয় হয়। তুহিনের মোটরসাইকেল থাকায় অপ্রতিম প্রায়ই তার সঙ্গে বিভিন্ন জায়গায় ঘুরতে যেত বলে জানান মামা। এভাবেই দুজনের সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ হয়ে ওঠে। অপ্রতিমের গৃহশিক্ষক মো. আল আমিনও জানান, অপ্রতিম বয়সে বড়দের সঙ্গে সহজেই মিশত। তুহিনের সঙ্গে তার সম্পর্ক কত দিনের, তা তিনি জানেন না। তবে তুহিন মোটরসাইকেলে করে অপ্রতিমকে বিভিন্ন জায়গায় নিয়ে যেত বলে তিনি জানতে পেরেছেন। পুলিশের কাছে অপ্রতিম ও বয়সে বড় ওই তরুণদের একসঙ্গে চলাফেরা, ছবি তোলা এবং টিকটক ভিডিও তৈরির তথ্য রয়েছে। তদন্তকারীরা বলছেন, অপ্রতিমের সঙ্গে যাদের ওঠাবসা ছিল, তারা তার সহপাঠী নয়; বয়সেও তারা বড়। রবিবার জেলা পুলিশের সংবাদ সম্মেলনে কিশোর গ্যাংয়ের সম্পৃক্ততা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান বলেন, বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আগে কোনো পুলিশ রেকর্ড পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় সাইফুল ইসলাম তুহিনসহ তিনজনকে গ্রেপ্তারের কথা জানিয়েছে জেলা পুলিশ। তাদের মধ্যে তুহিন ছাড়া অন্য দুজন কিশোর। আরও একজন তরুণের সম্পৃক্ততা যাচাই করা হচ্ছে। অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডে আইফোন, পাঁচ হাজার টাকা, তুহিনের সঙ্গে তার সম্পর্ক এবং ঘটনার সময় আরও কয়েকজনের উপস্থিতি—সবকিছুই এখন তদন্তের আওতায়। সিসিটিভি ফুটেজ, মোবাইল ফোনের তথ্য, ময়নাতদন্ত ও অন্যান্য ফরেনসিক আলামত বিশ্লেষণ করে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ এবং প্রত্যেকের ভূমিকা নিশ্চিত করার চেষ্টা করছে পুলিশ।
বিজ্ঞাপন Ad
পাঠকের মতামত
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন Ad
বিজ্ঞাপন Ad

সম্পাদক ও প্রকাশক: <b>ডি. হাসান. খান</b> | নির্বাহী সম্পাদক: <b>এ. এইচ. সুমন</b>
<div><b>বেলভিউ টাওয়ার ৭১ বীর উত্তম সিআর দত্ত রোড, হাতিরপুল, ঢাকা-১২০৫</b></div>