বিজ্ঞাপন
জ্বালানি তেলের দাম আবারও বাড়ানো হয়েছে। ডিজেল, কেরোসিন, পেট্রোল ও অকটেন—চার ধরনের জ্বালানি তেলের দামই লিটারপ্রতি ২০ টাকা করে বাড়ানো হয়েছে। নতুন দাম আজ সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) থেকে কার্যকর হয়েছে।
নতুন মূল্য অনুযায়ী, ডিজেলের দাম লিটারপ্রতি ১৩৫ টাকা, কেরোসিন ১৫৫ টাকা, পেট্রোল ১৬০ টাকা এবং অকটেন ১৬৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। দেশের ইতিহাসে এটিই জ্বালানি তেলের সর্বোচ্চ দাম।
বিএনপি সরকারের সময়ে ৩৫-৪৫ টাকা বেড়েছেবিএনপি সরকার ১৭ ফেব্রুয়ারি দায়িত্ব নেওয়ার সময় ডিজেল, কেরোসিন, পেট্রোল ও অকটেনের দাম ছিল যথাক্রমে ১০০, ১১২, ১১৬ ও ১২০ টাকা। সর্বশেষ মূল্যবৃদ্ধির পর ফেব্রুয়ারির তুলনায় ডিজেলের দাম ৩৫ টাকা, কেরোসিন ৪৩ টাকা, পেট্রোল ৪৪ টাকা এবং অকটেনের দাম ৪৫ টাকা বেড়েছে।
অর্থাৎ গত সাত মাসে চার ধরনের জ্বালানি তেলের দাম লিটারপ্রতি ৩৫ থেকে ৪৫ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।
এর আগে গত ১৯ এপ্রিল থেকে ডিজেলের দাম ১৫ টাকা, কেরোসিন ১৮ টাকা, পেট্রোল ১৯ টাকা এবং অকটেন ২০ টাকা বাড়ানো হয়েছিল। তখন দাম দাঁড়ায় যথাক্রমে ১১৫, ১৩০, ১৩৫ ও ১৪০ টাকা।
এরপর জুনে কেরোসিন, পেট্রোল ও অকটেনের দাম আরও পাঁচ টাকা করে বাড়ানো হয়। তবে ডিজেলের দাম অপরিবর্তিত রাখা হয়েছিল। জুনে নির্ধারিত দাম জুলাই, আগস্ট ও সেপ্টেম্বরের শুরু পর্যন্ত বহাল ছিল।
আন্তর্জাতিক বাজারের দামের প্রভাবরোববার জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের জারি করা প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের কারণে মার্চ থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম ও ফ্রেইট চার্জ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এ পরিস্থিতি এখনও অব্যাহত রয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম দ্বিগুণের বেশি বাড়লেও জনস্বার্থে দেশে সেই হারে মূল্য সমন্বয় করা হয়নি। এতে মার্চ থেকে আগস্ট পর্যন্ত বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) ২২ হাজার ৮৭৫ কোটি ৬৬ লাখ টাকা লোকসান হয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ও পরিবহন ব্যয় বাড়তে থাকায় গত এপ্রিলেও বড় ধরনের মূল্যবৃদ্ধি করা হয়েছিল। ওই সময় মার্চের শেষ দিকে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রায় ১২০ ডলারে উঠে গিয়েছিল।
পরিবহন ও নিত্যপণ্যে পড়তে পারে প্রভাবজ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় পরিবহন খরচ, কৃষি উৎপাদন এবং পণ্য পরিবহনের ব্যয় বাড়তে পারে। এর প্রভাব নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারেও পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বিশেষ করে ডিজেলের দাম বাড়ায় বাস, ট্রাক, পণ্যবাহী যানসহ বিভিন্ন পরিবহন খাতে ব্যয় বাড়বে। কৃষি খাতেও সেচ ও কৃষিপণ্য পরিবহনের খরচ বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে।
আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে দাম বেড়েছিল ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত২০০৯ থেকে ২০২৪ সালের জুলাই পর্যন্ত আওয়ামী লীগ সরকারের সাড়ে ১৫ বছরে ডিজেল ও কেরোসিনের দাম লিটারপ্রতি ৪৪ টাকা থেকে বেড়ে ১০৬ টাকা ৭৫ পয়সায় দাঁড়ায়। অর্থাৎ এ সময়ে দাম বেড়েছিল প্রায় ১৪২ শতাংশ।
অন্যদিকে পেট্রোলের দাম ৭৪ টাকা থেকে বেড়ে ১২২ টাকা এবং অকটেনের দাম ৭৭ টাকা থেকে বেড়ে ১২৭ টাকা হয়। দুই ক্ষেত্রেই দাম বৃদ্ধির হার ছিল প্রায় ৬৫ শতাংশ।
আন্তর্জাতিক বাজার, আমদানি ব্যয় ও ভর্তুকির চাপের কথা উল্লেখ করে ওই সময়ে কয়েক দফা জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হয়। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় মূল্যবৃদ্ধি হয় ২০২২ সালের ৫ আগস্ট। ওই রাতে চার ধরনের জ্বালানি তেলের দাম ৪২ থেকে ৫১ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছিল। অকটেনের দাম ৫১ দশমিক ৭ শতাংশ এবং পেট্রোলের দাম ৫১ দশমিক ১ শতাংশ বাড়ে।
এর আগে ২০২১ সালের নভেম্বরে ডিজেলের দাম এক লাফে ১৫ টাকা বাড়ানো হয়েছিল। পরে ২০২৪ সালের মার্চে আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে স্বয়ংক্রিয় মাসিক মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতি চালু করা হয়।
অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে কয়েক দফা সমন্বয়২০২৪ সালের আগস্টে ক্ষমতায় আসা অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কয়েক দফা জ্বালানি তেলের দাম সমন্বয় করা হয়।
ওই বছরের সেপ্টেম্বরে অকটেন ও পেট্রোলের দাম ছয় টাকা এবং ডিজেল ও কেরোসিনের দাম এক টাকা ২৫ পয়সা করে কমানো হয়। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে চার ধরনের জ্বালানি তেলের দাম এক টাকা করে বাড়ানো হলেও জুনে ডিজেলের দাম দুই টাকা এবং পেট্রোল ও অকটেনের দাম তিন টাকা করে কমানো হয়।
এরপর ডিসেম্বরে চার ধরনের জ্বালানি তেলের দাম লিটারপ্রতি দুই টাকা করে বাড়ানো হয়। ২০২৬ সালের জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে আরও দুই দফায় চার ধরনের জ্বালানি তেলের দাম লিটারপ্রতি দুই টাকা করে কমানো হয়েছিল।
ফেব্রুয়ারির সর্বশেষ সমন্বয়ের পর ডিজেলের দাম ছিল ১০০ টাকা, কেরোসিন ১১২ টাকা, পেট্রোল ১১৬ টাকা এবং অকটেন ১২০ টাকা। সোমবার থেকে নতুন মূল্য কার্যকর হওয়ায় এসব জ্বালানি তেলের দাম এখন সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।
বিজ্ঞাপন