বিজ্ঞাপন
<p><strong>সন্দীপ সরকার, কলকাতা: </strong>জুলাই মাসে সিএবি-র বিশেষ সাধারণ সভা ও যুগ্মসচিব নির্বাচন আটকে গিয়েছিল চিঠির ঝড়ে। ১৮ জেলাশাসক আর প্রায় দশটি ক্লাব চিঠি পাঠিয়ে দাবি করেছিল, সিএবি-র এসজিএমে প্রতিনিধিত্ব করার ক্ষেত্রেও লোঢা আইন মানতে হবে। যার জেরে এমন ধোঁয়াশা তৈরি হয় যে, যুগ্মসচিব পদে কোনও মনোনয়নই জমা পড়েনি।</p>
<p>ফের চিঠির ধাক্কায় কাবু সিএবি। এবার অনিশ্চয়তা তৈরি হল সিএবির বার্ষিক সাধারণ সভা (AGM) নিয়ে। ২৪ সেপ্টেম্বরের যে সভায় তিনটি পদে নির্বাচন হওয়ার কথা। সচিব, যুগ্মসচিব ও অ্যাপেক্স কাউন্সিলের একটি শূন্যস্থান। ইতিমধ্যেই মনোনয়ন চেয়ে বিজ্ঞপ্তি জারি করেছেন ইলেক্টোরাল অফিসার সুশান্তরঞ্জন উপাধ্যায়। ১৬ সেপ্টেম্বর মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ দিন।</p>
<p>আর তার মাঝেই ফের সিএবি-তে চিঠি পাঠালেন ৬ জন জেলাশাসক। ফের একই দাবি নিয়ে। বার্ষিক সাধারণ সভায় প্রতিনিধিরা যাতে লোঢা সুপারিশ মেনে আসেন। অর্থাৎ, সত্তোরোর্ধ্ব বা রাজ্য ক্রিকেট প্রশাসনে পদাধিকারী হিসাবে ৯ বছর কাটিয়ে ফেলেছেন, এমন কেউ যেন এজিএমে যোগ না দেন। যা নিয়ে ফের ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে সিএবি সদস্যদের মধ্যে।</p>
<p>সিএবি প্রেসিডেন্ট সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় সোমবার সন্ধ্যায় ইডেন গার্ডেন্সে দাঁড়িয়ে বললেন, '৬ জন জেলাশাসক চিঠি পাঠিয়েছেন। নির্বাচন বন্ধ করার কথা লিখেছেন। তবে এজিএম আটকাবে না।' কিন্তু দুই পদাধিকারী ও অ্যাপেক্স কাউন্সিলের একটি শূন্যপদের কী হবে? সৌরভ বললেন, 'সেগুলি ফাঁকা রেখেই এজিএম হবে। পরে প্রয়োজনে বিশেষ সাধারণ সভা করে নির্বাচন করা যেতে পারে।'</p>
<p>যদিও একাধিক প্রশ্নও উঠছে সিএবির বিভিন্ন মহল থেকে।</p>
<ul>
<li>লোঢা আইন মেনে এজিএমে প্রতিনিধিত্ব করার শর্তে যদি নির্বাচন আটকে যায়, তা হলে ওই একই নিয়মে বার্ষিক সাধারণ সভাই বা হবে কী করে?</li>
<li>বিশেষ সাধারণ সভার আগে জেলাশাসক ও কয়েকটি ক্লাব এই চিঠি দেওয়ার পর কেন প্রতিনিধিত্ব করা নিয়ে লোঢা আইন মানা হবে কি না, তা নিয়ে স্পষ্ট অবস্থান নেওয়া হল না? জরুরি সাধারণ সভা করে বলা হল যে, কারও আপত্তি থাকলে আদালতে যেতে পারে! কেন সরকারের সঙ্গে বসে সমাধানসূত্রের খোঁজ করা হল না?</li>
<li>যদি আদালতে যাওয়ার কথাই বলা হল, তা হলে কেন ক্য়াভিয়েট পাঠানো হল সদস্যদের, যেখানে কেউ আইনের দ্বারস্থ হলে সিএবি-কে আগাম জানাতে হবে?</li>
<li>সিএবি সংবিধানে বলা রয়েছে, পদাধিকারীদের নির্বাচন পদ শূন্য হওয়ার ৬০ দিনের মধ্যে এবং অ্যাপেক্স কাউন্সিলের পদে ৪৫ দিনের মধ্যে নির্বাচন করতে হবে। যুগ্মসচিব ও অ্যাপেক্স সদস্যের ইস্তফার পর শূন্যস্থানের সেই মেয়াদকাল পেরিয়ে যাচ্ছে। এমনিতেই <a title="সুপ্রিম কোর্ট" href="https://bengali.abplive.com/topic/supreme-court" data-type="interlinkingkeywords">সুপ্রিম কোর্ট</a>ের আইনভঙ্গ হয়েছে। নির্বাচন না করা গেলে সেটা আরও অবমাননার পর্যায়ে পৌঁছে যাবে না তো?</li>
<li>২৩ সেপ্টেম্বর সচিব বাবলু কোলের মেয়াদকাল আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হচ্ছে। তার ৬০ দিন অর্থাৎ ২৩ নভেম্বরের মধ্যে বিশেষ সাধারণ সভা ডেকে সচিব নির্বাচন করতেই হবে। তা না হলে আদালত অবমাননার জন্য সিএবি প্রশাসনকে কাঠগড়ায় উঠতে হবে না তো?</li>
<li>বলা হচ্ছে, সিএবি-র যুগ্ম-সচিব সিগনেটরি অর্থাৎ সই করার ক্ষমতাপ্রাপ্ত নন। কিন্তু সচিব তো সিগনেটরি। নির্ধারিত সময়ে সচিব নির্বাচন না হলে আদালতে মামলা হবে না তো?</li>
<li>বিশেষ সাধারণ সভায় যুগ্মসচিব নির্বাচন ভেস্তে যাওয়ার পর ইলেক্টোরাল অফিসারের পর্যবেক্ষণে শুধু এটাই লেখা হয়েছিল যে, মনোনয়ন জমা না পড়ায় নির্বাচন হয়নি। সেখানে কিন্তু চিঠির ঝড়ের কথা বলা হয়নি। বলা হচ্ছে, আদালতে এ নিয়ে প্রশ্ন উঠলে ইলেক্টোরাল অফিসারের রিপোর্টকেই মান্যতা দেওয়া হবে। সেক্ষেত্রে নির্বাচন করতে না পারার জন্য সিএবি-কেই প্রশ্নবাণ সামলাতে হবে। আদালত চাইলে নির্বাচনের সময়সীমা বেঁধে দিতে পারে। বা অ্যাডমিনিস্ট্রেটরও বসিয়ে দিতে পারে। তা কি সংস্থার ভাবমূর্তির জন্য ভাল হবে?</li>
<li>নির্বাচন ও এজিএম না হলে বোর্ডের অনুদান আটকে যাবে না তো?</li>
<li>কারও কারও মতে, সরকারের অঙ্গুলিহেলনেই জেলাশাসকেরা চিঠি পাঠাচ্ছেন। এখনও পর্যন্ত খবর, চারজন বিজেপি বিধায়ক এজিএমে আসার জন্য মনোনয়ন জমা দিয়েছেন। সিএবি নির্বাচনে সরকার তা হলে কী ভূমিকা নেবে? তারা কি সরাসরি পদাধিকারী হিসাবে কাউকে আনতে চাইবে? যদি সেটা চায়ও, নির্বাচন করতে হবে। তাহলে গোটা পদ্ধতিকে পিছিয়ে দেওয়ার প্রয়াস কেন?</li>
<li>ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড স্পোর্টস বিলের আওতায় চলে এলে অনেক শৃঙ্খল ভেঙে যাবে, অনেক বিধিনিষেধ উঠে যাবে। সেক্ষেত্রে সিএবি প্রশাসনিক পদে আসার লড়াইটাও অন্য মাত্রা পেয়ে যাবে। নির্বাচন না হলে শাসক গোষ্ঠী না বিরোধী, কাদের সুবিধা? অসুবিধাই বা কাদের?</li>
</ul>
<p>[yt]https://www.youtube.com/watch?v=PKwLsAu-z10[/yt]</p>
<p>সন্ধে থেকে দফায় দফায় সিএবির দুই শিবিরের একাধিক ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলে উপলব্ধি করা গেল, ওপরের ১০ প্রশ্নের জবাব না আছে শাসক গোষ্ঠীর কারও কাছে, না ছবিটা স্পষ্ট বিরোধীদের কাছে। সব মিলিয়ে বঙ্গ ক্রিকেটের নিয়ামক সংস্থায় বেনজির অচলাবস্থা না তৈরি হয়।</p>
<p><strong>আরও পড়ুন: <a title="ঘুষ-বিতর্ক অস্বীকার ক্লাব সচিবের, কমিশনের জন্য? বিস্ফোরক দাবি অভিযুক্তের, সরগরম সিএবি" href="https://bengali.abplive.com/sports/india-women-asia-cup-mohsin-naqvi-trophy-bcci-amol-muzumdar-1192734" target="_self">ঘুষ-বিতর্ক অস্বীকার ক্লাব সচিবের, কমিশনের জন্য? বিস্ফোরক দাবি অভিযুক্তের, সরগরম সিএবি</a></strong></p>
বিজ্ঞাপন