বিজ্ঞাপন
নাজিফা রাসেল স্বপ্না
মধ্যবিত্তের ঘরে ভোর নামে চায়ের ধোঁয়া আর হিসাবের খাতায়,স্বপ্নগুলো জানালার ধারে বসে, বাস্তবতা দাঁড়িয়ে থাকে মাথায়।এক মুঠো সুখ, এক চিমটি দুঃখ—তবু দিন চলে যায়,হাসির আড়ালে কত না কান্না, কেউ কি তার খবর পায়?
মায়ের আঁচলে লুকিয়ে থাকে সংসারের হাজার চিন্তা,বাবার কপালের ঘামেই লেখা পরিবারের প্রতিটি দিন।নিজের শখগুলো আলমারিতে ভাঁজ করে রেখে দেন দুজন,সন্তানের মুখের একটুখানি হাসিই তাদের বড় অর্জন।
মাঝে মাঝে অভিযোগ জমে—‘কেন এত কষ্ট? কেন এত হিসাব?’তবু রাত নামলেই একই টেবিলে বসেভাতের সঙ্গে ভাগ হয় ভালোবাসার জবাব।
ভাই-বোনের ছোট্ট ঝগড়া, আবার মিনিট দশেকেই ভাব।এক প্লেট মিষ্টি এলে সবাই বলে, ‘তুই খা আগে’—এই তো পরিবারের স্বভাব।
ঈদের আগে নতুন জামা কার হবে,সে নিয়েও কত আলোচনা!একজন ছাড় দেয়, আরেকজন হাসে,ত্যাগের মধ্যেই লুকিয়ে থাকে ভালোবাসার রচনা।
আরও পড়ুন
বাপন ইসলামের কবিতা: বিকল ইঞ্জিন
কখনো বিদ্যুৎ বিল, কখনো বাজারের দাম,কখনো আবার হঠাৎ অসুখের ভয়।তবু কেউ হাল ছাড়ে না—আশাই যেন মধ্যবিত্তের সবচেয়ে বড় পরিচয়।
এই ঘরে বিলাসিতা কম, কিন্তু মায়া-মমতার অভাব নেই।ভাঙা চেয়ার, পুরোনো আলমারি, রংচটা দেওয়াল—তবু এ ঘর ছেড়ে যেতে মন চায় না কোনোদিনই।
মধ্যবিত্ত মানেই শুধু অভাব নয়, নীরব সংগ্রামের নাম।যেখানে কান্না আর হাসি পাশাপাশি হাঁটে,অভিযোগের মাঝেও থাকে ভালোবাসা অবিরাম।
হয়তো পকেট ভরে না সব সময়, তবু হৃদয় সম্পর্কে ভরা।এই তো মধ্যবিত্ত—অল্পে বাঁচতে শেখা,অল্পেই সুখ খুঁজে নেওয়া, একে অপরকে আঁকড়ে ধরাঝড়ের মধ্যেও একসঙ্গে পথচলার নাম।
আরও পড়ুন
নীড় পেতেছে শালিক এখন
এসইউ
বিজ্ঞাপন