চলমান বিশ্বকাপ ২০২৬-এ মাঠ ও মাঠের বাইরের নানা প্রতিকূলতার মুখোমুখি হচ্ছে ইরান ফুটবল দল। প্রথম ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের সাথে ড্র করার পর, দ্বিতীয় ম্যাচে লস অ্যাঞ্জেলেসের সোফি স্টেডিয়ামে শক্তিশালী বেলজিয়ামের মুখোমুখি হয়েছিল তারা। ইউরোপের অন্যতম পরাশক্তি বেলজিয়ামকে গোলশূন্য ড্রয়ে রুখে দিয়ে নকআউট পর্বের আশা বাঁচিয়ে রেখেছে ইরান।
তবে এই ম্যাচ শেষ হতেই এক অদ্ভুত ও নাটকীয় পরিস্থিতির শিকার হতে হয় দলটিকে। ম্যাচ শেষের পরপরই ইরান দলকে যুক্তরাষ্ট্র ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ছেড়ে মেক্সিকো অভিমুখে রওনা হওয়ার আগে সোফি স্টেডিয়ামের ড্রেসিংরুমে একটি বিশেষ চিঠি রেখে গেছেন ইরানি ফুটবলাররা।
ইরান ফুটবল ফেডারেশন পরবর্তীতে সেই চিঠির একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ করে, যা বর্তমানে ক্রীড়াঙ্গনে বেশ আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
নীল কালিতে লেখা ওই চিঠিতে ভেন্যু কর্তৃপক্ষ এবং সমর্থকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের পাশাপাশি নিজেদের প্রাচীন ঐতিহ্য ও শান্তির বার্তা দিয়েছে ইরান। চিঠির মূল অংশগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:
ঐতিহ্যের অহংকার: "হাজার হাজার বছর আগের প্রাচীন পারস্য থেকে আজকের সভ্য ইরান পর্যন্ত—ইরানের চেতনা সর্বদা জীবন্ত এবং অটল রয়েছে।"
বিদায়ি বার্তা: "ধন্যবাদ লস অ্যাঞ্জেলেস, আপনাদের চমৎকার আতিথেয়তার জন্য। আমরা এখানে এসেছিলাম গর্ব নিয়ে, সম্মানের সাথে লড়েছি এবং এখন মর্যাদা নিয়েই মাঠ ছেড়ে যাচ্ছি।"
সমর্থকদের ধন্যবাদ ও শান্তির আহ্বান: "প্রত্যেক ইরানিয়ানকে ধন্যবাদ, যারা তাদের হৃদয়, আওয়াজ এবং প্রাণ দিয়ে ১৮০ মিনিট (দুই ম্যাচ) আমাদের সমর্থন দিয়েছেন। বিশ্বের প্রতিটি দেশের মাঝে শান্তি, সম্মান এবং বন্ধুত্ব বজায় থাকুক।"
চিঠিটির একদম নিচের অংশে লাল কালিতে দুটি শব্দ বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে—‘৭৬৮’ এবং ‘মিনাব’। এই শব্দ দুটি মূলত একটি রাজনৈতিক ও মানবিক প্রতিবাদের প্রতীক।
চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের 'মিনাব' অঞ্চলের একটি স্কুলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় ১৬৮ জন নিরপরাধ শিশু প্রাণ হারায়। ড্রেসিংরুমের চিঠিতে এই কোড ও নাম ব্যবহারের মাধ্যমে ইরানি ফুটবলাররা মূলত সেই ট্র্যাজেডির কথাই বিশ্বমঞ্চে স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন।
চলতি বিশ্বকাপে মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে শুরু থেকেই নানা জটিলতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে ইরান। টুর্নামেন্ট শুরুর আগে তাদের প্রস্তুতি ক্যাম্প যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনা থেকে সরিয়ে মেক্সিকো সীমান্তের তিজুয়ানায় নিয়ে যেতে বাধ্য করা হয়েছিল। এমনকি ম্যাচের আগের দিন ভেন্যুতে এসে, ম্যাচ শেষেই দ্রুত তাদের যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগ করতে হচ্ছে।
এমন মানসিক ও শারীরিক চাপের মধ্যেও বেলজিয়ামের বিরুদ্ধে ড্রয়ের মূল কারিগর ছিলেন ৩৩ বছর বয়সী অভিজ্ঞ গোলরক্ষক আলিরেজা বেইরানভান্দ। ম্যাচজুড়ে বেলজিয়াম মোট ২৩টি শট নেয়, যার মধ্যে ৭টি ছিল অন-টার্গেট। বেইরানভান্দ একাই ৪টি ডাইভিং সেভসহ মোট ৭টি দুর্দান্ত সেভ করে বেলজিয়ামের নিশ্চিত জয় আটকে দেন এবং ইরানের মুখে হাসি ফোটান।
মন্তব্য করুন