আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
মধ্যপ্রাচ্যের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের ওপর ইরান কোনো ধরনের টোল বা শুল্ক আরোপ করতে পারবে না বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি বিবেচনায় যুক্তরাষ্ট্র নিজেই এ ধরনের শুল্ক আরোপের বিষয়টি বিবেচনা করতে পারে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।
শনিবার (২০ জুন) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকার ৬০ দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালিতে কোনো ধরনের টোল আরোপ করা যাবে না। এমনকি এই সময়সীমা শেষ হওয়ার পরও ইরান আন্তর্জাতিক এই নৌপথ ব্যবহারকারী জাহাজ থেকে শুল্ক আদায় করতে পারবে না বলে দাবি করেন তিনি।
ট্রাম্প আরও বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিতে দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্র গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। ফলে চূড়ান্ত শান্তি চুক্তি বাস্তবায়িত না হলে নিরাপত্তা ব্যয়ের ক্ষতিপূরণ হিসেবে ভবিষ্যতে শুল্ক আরোপের বিষয়টি বিবেচনা করা হতে পারে।
উল্লেখ্য, গত ফেব্রুয়ারিতে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর তেহরান হরমুজ প্রণালিতে চলাচল সীমিত করার পদক্ষেপ নেয়। পরে যুদ্ধবিরতি চুক্তির অংশ হিসেবে ৬০ দিনের জন্য জলপথটি উন্মুক্ত রাখার সিদ্ধান্ত হয় এবং এ সময় কোনো শুল্ক আরোপ না করার বিষয়েও সমঝোতা হয়।
তবে শনিবার ইরানের যৌথ সামরিক কমান্ড দাবি করে, সমঝোতা লঙ্ঘনের কারণে তারা আবারও হরমুজ প্রণালিতে নিয়ন্ত্রণমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। যদিও যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এ দাবি প্রত্যাখ্যান করে জানায়, জলপথে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।
বিশ্বের উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অপরিশোধিত জ্বালানি তেল, প্রাকৃতিক গ্যাস এবং সার হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে এ নৌপথে কোনো ধরনের অচলাবস্থা তৈরি হলে বিশ্ববাজারে জ্বালানির মূল্য ও সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এদিকে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই রোববার সুইজারল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের শান্তি আলোচনা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। ইরানের পক্ষে প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেবেন মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ ও আব্বাস আরাগচি। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে আলোচনায় অংশ নেবেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং জ্যারেড কুশনার।
সূত্র: আল জাজিরা
মন্তব্য করুন