শিক্ষা ডেস্ক:
বেসরকারি স্কুল-কলেজে কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলির ক্ষেত্রে স্বামী বা স্ত্রীর কর্মস্থল বিবেচনায় নেওয়ার বিষয়ে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বর্তমান বদলি নীতিমালায় শুধুমাত্র সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত এবং এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত স্পাউসদের কর্মস্থল বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে। ফলে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, ব্যাংক, এনজিও বা অন্যান্য বেসরকারি সংস্থায় কর্মরত স্বামী বা স্ত্রীর ক্ষেত্রে এই সুবিধা প্রযোজ্য হবে না।
এ কারণে অনেক শিক্ষক ও শিক্ষিকা বদলির ক্ষেত্রে বৈষম্যের শিকার হতে পারেন বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) সূত্রে জানা গেছে, প্রাথমিক পর্যায়ে যেসব প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের তথ্য সরকারি ব্যবস্থাপনায় সহজে যাচাই করা সম্ভব এবং যাদের বেতন সরকার থেকে প্রদান করা হয়, তাদের বিষয়টি বিবেচনায় রাখা হয়েছে। ভবিষ্যতে বেসরকারি চাকরিজীবীদের অন্তর্ভুক্তির বিষয়টিও বিবেচনা করা হতে পারে।
এ বিষয়ে মাউশির মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল বলেন, বেসরকারি চাকরিজীবীদের বিষয়টি নিয়েও আলোচনা হয়েছে বলে তার ধারণা রয়েছে। তবে যদি কোনো ধরনের বৈষম্য থেকে থাকে, তাহলে তা নিরসনে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে।
সংশোধিত বদলি নীতিমালার ৩.৮ ধারার ‘গ’ উপধারায় উল্লেখ করা হয়েছে, বদলির ক্ষেত্রে স্বামী বা স্ত্রীর কর্মস্থল হিসেবে সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত এবং এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের চাকরিকে বিবেচনায় নেওয়া হবে।
শিক্ষকদের একটি অংশের দাবি, বেসরকারি ব্যাংক, এনজিও, আন্তর্জাতিক সংস্থা, বহুজাতিক কোম্পানি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এবং অন্যান্য বেসরকারি খাতে কর্মরত ব্যক্তিদের জন্যও পৃথক ক্যাটাগরি রাখা উচিত ছিল। এতে বদলি প্রক্রিয়া আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক ও বাস্তবসম্মত হতো।
দিনাজপুরের শিক্ষক নাজনীন নাহার বলেন, বর্তমান নীতিমালায় অনেক শিক্ষকের পারিবারিক বাস্তবতা প্রতিফলিত হয়নি। বেসরকারি চাকরিজীবীদের জন্য আলাদা ক্যাটাগরি না থাকায় বদলি কার্যক্রমের ন্যায্যতা প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে।
অন্যদিকে শিক্ষক মুহাইমিনুল ইসলাম মনে করেন, অতিরিক্ত চাকরির ক্যাটাগরি বা ‘অন্যান্য’ অপশন যুক্ত করা হলে অনেক শিক্ষক-শিক্ষিকার পারিবারিক সমস্যার সমাধান হতো। বিশেষ করে কর্মস্থল ভিন্ন জেলায় হওয়ায় যারা দীর্ঘদিন পরিবার থেকে দূরে অবস্থান করছেন, তারা উপকৃত হতেন।
এ বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের যুগ্মসচিব (বেসরকারি মাধ্যমিক) মো. হেলালুজ্জামান সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তিনি মন্তব্য করতে রাজি হননি।
তবে মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, বর্তমানে সরকারি কোষাগার থেকে বেতন-ভাতা প্রাপ্ত কর্মীদের স্পাউসের কর্মস্থলকেই অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। ভবিষ্যতে প্রয়োজন হলে বেসরকারি চাকরিজীবীদের বিষয়টিও নীতিমালায় অন্তর্ভুক্ত করার সুযোগ রয়েছে।
মন্তব্য করুন