বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র, কিংবদন্তি হকি খেলোয়াড় ও সংগঠক আব্দুস সাদেক আর নেই (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। শনিবার (২০ জুন, ২০২৬) সকাল ৮টায় রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৮ বছর।
মরহুমের প্রথম জানাজা আজ বাদ আসর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার আই ব্লকের বায়তুস সোবহান জামে মসজিদে অনুষ্ঠিত হবে। দ্বিতীয় জানাজা আগামীকাল রোববার সকাল সাড়ে ১০টায় রাজধানীর বনানী ওল্ড ডিওএইচএস মাঠে অনুষ্ঠিত হবে।
উল্লেখ্য, আব্দুস সাদেকের ছোট ভাই দেশের শীর্ষ শিল্পগোষ্ঠী বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহান এবং তার বড় ছেলে টি স্পোর্টসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ইশতিয়াক সাদেক।
আব্দুস সাদেক শুধু হকি মাঠেই নয়, ফুটবল ও ক্রিকেটসহ বিভিন্ন খেলায় সমান পারদর্শী ছিলেন। ঢাকার ঐতিহ্যবাহী ক্লাব আবাহনী ক্রীড়াচক্রের (ঢাকা আবাহনী লিমিটেড) প্রথম ফুটবল ও হকি দলের অধিনায়ক ছিলেন তিনি।
ক্রীড়াঙ্গনে তার অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৯৬ সালে তাকে জাতীয় ক্রীড়া পুরস্কারে ভূষিত করা হয়। তার বাবা অ্যাডভোকেট আব্দুস সোবহানও ব্রিটিশ আমলের একজন খ্যাতিমান সাঁতারু ছিলেন।
পাকিস্তান জাতীয় হকি দল: অবিভক্ত পাকিস্তান জাতীয় হকি দলের তারকা খেলোয়াড় হিসেবে ১৯৬৯ সালে দেড় মাসব্যাপী ইউরোপ সফর করেন। জার্মানি, ইতালি, স্পেন, ফ্রান্স, বেলজিয়াম, নেদারল্যান্ডস ও ইংল্যান্ডের বিপক্ষে মাঠের নৈপুণ্যে তিনি দ্রুত পরিচিতি লাভ করেন।
স্বাধীন বাংলাদেশ দল: ১৯৭৭-৭৮ মৌসুমে প্রথমবারের মতো গঠিত বাংলাদেশ জাতীয় হকি দলের অধিনায়ক হিসেবে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে তিন ম্যাচের টেস্ট সিরিজে নেতৃত্ব দেন।
এশিয়ান গেমস: ১৯৭৮ সালে বাংলাদেশ প্রথমবারের মতো এশিয়ান গেমসে অংশ নিলে জাতীয় হকি দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেন তিনি।
কুমিল্লা জেলা দল: স্বাধীনতার পর ১৯৭৩ সালে জাতীয় হকি চ্যাম্পিয়নশিপে কুমিল্লা জেলা দলের অধিনায়ক ছিলেন।
খেলোয়াড়ি জীবনের পর আব্দুস সাদেক একজন সফল কোচ ও সংগঠক হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন:
আবাহনীর অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন রেকর্ড: ১৯৭৭ সালে আবাহনীর প্রধান প্রশিক্ষকের দায়িত্ব নিয়ে তিনি ইতিহাস গড়েন। তার অধীনে সেই মৌসুমে কোনো ম্যাচ না হেরে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে আবাহনী, যা স্বাধীন বাংলাদেশে কোনো দলের প্রথম অপরাজিত লিগ শিরোপা জয়।
বাংলাদেশ হকি ফেডারেশন: ১৯৮৩ থেকে ১৯৮৫ সাল পর্যন্ত তিনি হকি ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন।
ঢাকায় এশিয়া কাপ (১৯৮৫): তার একক প্রচেষ্টা ও দূরদর্শিতায় ১৯৮৫ সালে জাপানের পরিবর্তে বাংলাদেশে এশিয়া কাপ হকি টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত হয়। এশিয়ান হকি ফেডারেশনের বৈঠকে তার যৌক্তিক উপস্থাপনায় মুগ্ধ হয়ে পাকিস্তান, মালয়েশিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া ও ইরান বাংলাদেশকে সমর্থন জানিয়েছিল।
বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনের এই কিংবদন্তির প্রয়াণে পুরো ক্রীড়া বিশ্বে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। ক্রীড়াপ্রেমীদের হৃদয়ে তার অবদান চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।
মন্তব্য করুন