স্পোর্টস ডেস্ক:
ব্যাটিংয়ে শুরুটা ছিল দুঃস্বপ্নের মতো। তবে অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতি, সোবহানা মোস্তারি এবং শেষ দিকে স্বর্ণা আক্তারের ঝোড়ো ব্যাটিংয়ে লড়াকু সংগ্রহ পায় বাংলাদেশ। এরপর নাহিদা আক্তার ও সানজিদা আক্তারের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে পাকিস্তানকে ২৩ রানে হারিয়ে ইতিহাস গড়েছে টাইগ্রেসরা।
শনিবার ইংল্যান্ডের সাউদ্যাম্পটনে অনুষ্ঠিত নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ম্যাচে পাকিস্তানকে ২৩ রানে পরাজিত করে বাংলাদেশ। চলতি আসরে তিন ম্যাচে এটি তাদের দ্বিতীয় জয়।
টস জিতে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে বাংলাদেশ ৬ উইকেটে ১২৩ রান সংগ্রহ করে। জবাবে পাকিস্তান ২০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ১০০ রান তুলতে সক্ষম হয়।
এই জয়ের মাধ্যমে নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো এক আসরে দুটি ম্যাচ জয়ের কীর্তি গড়েছে বাংলাদেশ। এর আগে কোনো বিশ্বকাপেই টাইগ্রেসরা দুই ম্যাচ জিততে পারেনি।
তিন ম্যাচে দুই জয়ে বাংলাদেশের সংগ্রহ এখন ৪ পয়েন্ট। ‘এ’ গ্রুপের পয়েন্ট টেবিলে তারা রয়েছে তৃতীয় স্থানে। সেমিফাইনালের আশা বাঁচিয়ে রাখতে শেষ দুই ম্যাচে ভারত ও দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ভালো ফল করতে হবে নিগার সুলতানা জ্যোতির দলকে।
১২৪ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে পাকিস্তান দুর্দান্ত সূচনা করে। উদ্বোধনী জুটিতে ৩৯ রান তুলে তারা ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার ইঙ্গিত দেয়। তবে নাহিদা আক্তারের স্পিন জাদুতে বদলে যায় ম্যাচের চিত্র। তিনি প্রথমে গুল ফিরোজা, পরে মুনিবা আলীকে ফিরিয়ে পাকিস্তানকে চাপে ফেলেন।
এরপর আয়েশা জাফর কিছুটা প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করলেও ১২ বলে ১১ রান করে সানজিদা আক্তারের শিকার হন। একই ওভারে আরও একটি উইকেট তুলে নিয়ে পাকিস্তানের ব্যাটিং লাইনআপে ধস নামান সানজিদা। শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের শৃঙ্খলিত বোলিংয়ের সামনে বড় জুটি গড়তে পারেনি পাকিস্তান।
পাকিস্তানের হয়ে সর্বোচ্চ ২৫ রান করেন মুনিবা আলী। এছাড়া গুল ফিরোজা ২৩, আয়েশা জাফর ১১ এবং অধিনায়ক ফাতিমা সানা ১০ রান করেন।
এর আগে ব্যাট করতে নেমে মাত্র ১৩ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে বিপাকে পড়ে বাংলাদেশ। সেখান থেকে সোবহানা মোস্তারি ও অধিনায়ক নিগার সুলতানা চতুর্থ উইকেটে ৩৫ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়ে দলকে উদ্ধার করেন।
সোবহানা ১৯ বলে ২২ রান করে বিদায় নিলেও একপ্রান্ত আগলে রেখে ৩৮ বলে ৩৬ রান করেন নিগার। পরে শেষ দিকে স্বর্ণা আক্তার ২২ বলে অপরাজিত ৩৯ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলেন। তার ব্যাটেই বাংলাদেশ ১২৩ রানের লড়াকু সংগ্রহ পায়, যা শেষ পর্যন্ত জয়ের জন্য যথেষ্ট প্রমাণিত হয়।
মন্তব্য করুন