জাতীয়

মালয়েশিয়া প্রবাসী শ্রমিকদের পাওনা আদায়ে হাইকমিশনের বড় সাফল্য

j
jagonews24 অনলাইন ডেস্ক
6 বার পঠিত
বিজ্ঞাপন Ad
মালয়েশিয়ায় কর্মরত বাংলাদেশি শ্রমিকদের কর্মস্থল দুর্ঘটনা, স্থায়ী অক্ষমতা ও মৃত্যুর ঘটনায় ক্ষতিপূরণ আদায়ে বড় সাফল্য দেখিয়েছে বাংলাদেশ হাইকমিশন। ২০২৫ সালে ২ হাজার ৮৫৭টি দাবির বিপরীতে ১ কোটি ১৪ লাখ ১৮ হাজার ২৯১ দশমিক ৩১ রিঙ্গিত ক্ষতিপূরণ ও বিভিন্ন ভাতা আদায় করা হয়েছে, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৩৪ কোটি ২৫ লাখ টাকা। এছাড়া ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত আরও ১ হাজার ৩৮১টি দাবির বিপরীতে ৫৮ লাখ ৮৮ হাজার ৬৪৮ দশমিক ৭৬ রিঙ্গিত, অর্থাৎ প্রায় ১৭ কোটি ৬৭ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়েছে। আরও পড়ুন মালয়েশিয়ায় ১৫ হাজার বিদেশি কর্মীর আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তির নির্দেশ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিপূরণ পেয়েছেন কর্মস্থলে আহত হয়ে সাময়িকভাবে কর্মক্ষমতা হারানো শ্রমিকরা। ২০২৫ সালে অস্থায়ী অক্ষমতা ভাতার আওতায় ২ হাজার ২৯৩টি দাবির বিপরীতে প্রায় ৩৫ লাখ রিঙ্গিত এবং স্থায়ী অক্ষমতা ভাতায় ১৫৫টি দাবির বিপরীতে প্রায় সাড়ে ৩৫ লাখ রিঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি নির্ভরশীলদের ভাতা, দাফন ব্যয় এবং মরদেহ দেশে পাঠানোর খরচও পরিশোধ করা হয়েছে বলে বাংলাদেশ হাইকমিশনের সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, এই ক্ষতিপূরণ শুধু আর্থিক সহায়তা নয়, বরং মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি শ্রমিকদের অধিকার রক্ষায় রাষ্ট্রীয় উদ্যোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ। দুর্ঘটনা বা মৃত্যুর পর অনেক শ্রমিক ও তাদের পরিবার আইনি প্রক্রিয়া সম্পর্কে না জানায় প্রাপ্য সুবিধা থেকে বঞ্চিত হন। এক্ষেত্রে হাইকমিশনের সক্রিয় ভূমিকা তাদের অধিকার নিশ্চিত করতে সহায়ক হচ্ছে। মালয়েশিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার মঞ্জুরুল করিম খান চৌধুরী বলেন, প্রবাসীদের অধিকার ও কল্যাণ নিশ্চিত করা হাইকমিশনের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। কোনো বাংলাদেশি শ্রমিক বা তার পরিবার যেন ন্যায্য ক্ষতিপূরণ থেকে বঞ্চিত না হন, সেজন্য মালয়েশিয়ার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিয়মিত সমন্বয় করা হচ্ছে। একই সঙ্গে কনস্যুলার সহায়তা, আইনি পরামর্শ ও প্রয়োজনীয় সেবা দ্রুত পৌঁছে দিতে কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। হাইকমিশনের মিনিস্টার (শ্রম) সিদ্দিকুর রহমান জানান, হাইকমিশনারের নির্দেশে শ্রম উইং বকেয়া বেতন, ক্ষতিপূরণ ও অন্যান্য দাবি নিষ্পত্তিতে নিয়মিত কাজ করছে। অনেক শ্রমিক ক্ষতিপূরণের অধিকার ও আবেদন প্রক্রিয়া সম্পর্কে জানেন না। তাই দাবি অনুসরণের পাশাপাশি তাদের সচেতন করতেও উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। প্রতিটি বৈধ দাবির যথাযথ তদারকির মাধ্যমে ক্ষতিপূরণ আদায়ে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। প্রবাসী কমিউনিটি নেতারা মনে করেন, অভিবাসন আইন কঠোর বাস্তবায়নের এই সময়ে শ্রমিকদের আইনি সহায়তা, সচেতনতা বৃদ্ধি এবং দ্রুত অভিযোগ নিষ্পত্তিতে আরও কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন। ভাষাগত সীমাবদ্ধতা, নথিপত্রের জটিলতা ও মধ্যস্বত্বভোগীদের প্রতারণার কারণে অনেক শ্রমিক নিজের প্রাপ্য দাবি করতে পারেন না। কমিউনিটি নেতা তালহা মাহমুদ বলেন, মালয়েশিয়ায় থাকা বাংলাদেশি কর্মীদের একটি সমন্বিত নেটওয়ার্কের আওতায় আনা গেলে দূতাবাসের সঙ্গে দ্রুত যোগাযোগ স্থাপন সম্ভব হবে এবং শ্রমিকদের প্রয়োজনীয় সেবা পৌঁছে দেওয়া সহজ হবে। প্রবাসী নেতাদের মতে, বাংলাদেশ হাইকমিশনের পাশাপাশি বাংলাদেশি কমিউনিটি ও সামাজিক সংগঠনগুলোকেও শ্রমিকদের সমস্যা সমাধানে আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখতে হবে। ক্ষতিপূরণ আদায়ের এই উদ্যোগ মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি কর্মীদের নিরাপত্তা ও অধিকার রক্ষায় একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হয়ে উঠছে। এমআরএম
বিজ্ঞাপন Ad
পাঠকের মতামত
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন Ad
বিজ্ঞাপন Ad

সম্পাদক ও প্রকাশক: <b>ডি. হাসান. খান</b> | নির্বাহী সম্পাদক: <b>এ. এইচ. সুমন</b>
<div><b>বেলভিউ টাওয়ার ৭১ বীর উত্তম সিআর দত্ত রোড, হাতিরপুল, ঢাকা-১২০৫</b></div>