বিজ্ঞাপন
শিগগির জলবায়ু সাংবাদিকতা বিষয়ক কোর্স চালু করতে যাচ্ছে বাংলাদেশের চারটি বিশ্ববিদ্যালয়। জলবায়ু পরিবর্তনের মতো জটিল সংকট নিয়ে দক্ষ ও তথ্যনির্ভর সাংবাদিক তৈরি করতে এ উদ্যোগ।
গত ৭ ও ৮ আগস্ট ‘অ্যাজাইল ক্লাইমেট চেঞ্জ রিপোর্টিং ওয়ার্কশপ’ শীর্ষক দুদিনব্যাপী কর্মশালায় অংশগ্রহণকারী বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর জন্য কোর্সের চূড়ান্ত রূপরেখা ও লেসন প্ল্যান তৈরি করা হয়েছে। শিগগির এসব বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের জন্য কোর্স চালুর প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
রোকেয়া কালেকটিভ ও সিজেইএন বাংলাদেশের আয়োজনে এবং ফোজো মিডিয়া ইনস্টিটিউটের সহায়তায় আয়োজিত এ কর্মশালায় বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশ (ইউল্যাব) ও বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা অংশ নেন।
এর আগে ৩ ও ৪ জুলাই অনুষ্ঠিত প্রথম কর্মশালায় জলবায়ু সাংবাদিকতার একটি প্রস্তাবিত কোর্সের খসড়া নিয়ে কাজ করেন অংশগ্রহণকারীরা। সেই কো-ডিজাইন প্রক্রিয়ার ধারাবাহিকতায় দ্বিতীয় কর্মশালায় নিজ নিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের বাস্তবতা ও শিক্ষার্থীদের প্রয়োজন বিবেচনায় নিয়ে কোর্সের রূপরেখা ও লেসন প্ল্যান উপস্থাপন করেন তারা।
উপস্থাপনার পর প্যানেল সদস্য ও অংশগ্রহণকারীদের মতামতের ভিত্তিতে কোর্সের বিষয়বস্তু, শিক্ষার লক্ষ্য, পাঠদানের পদ্ধতি, মূল্যায়ন ব্যবস্থা ও বাস্তবায়ন পরিকল্পনা পরিমার্জন করা হয়।
আরও পড়ুন
এনটিআরসিএ নয়, ম্যানেজিং কমিটির হাতে যাচ্ছে শিক্ষক নিয়োগ!
কর্মশালায় জলবায়ু সাংবাদিকতার ব্যবহারিক দিক নিয়েও আলোচনা হয়। এর মধ্যে ছিল স্টোরির ধারণা তৈরি, গবেষণা ও পটভূমি প্রস্তুতি, মাঠপর্যায়ে তথ্য সংগ্রহ, সাক্ষাৎকার, প্রতিবেদন লেখা, প্রকাশনা, স্টোরি পিচ ও শিক্ষার্থীদের মেন্টরিং।
জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবের দিক থেকে বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ দেশ। এ সংকটের প্রভাব শুধু পরিবেশে সীমাবদ্ধ নয়, বরং অর্থনীতি, জনস্বাস্থ্য, অভিবাসন, জীবিকা, কৃষি ও নীতিনির্ধারণের সঙ্গেও গভীরভাবে যুক্ত। তাই ভবিষ্যৎ সাংবাদিকদের জলবায়ু পরিবর্তনের বৈজ্ঞানিক, সামাজিক ও নীতিগত দিক বোঝার পাশাপাশি তা সহজ, নির্ভুল ও প্রাসঙ্গিকভাবে মানুষের কাছে তুলে ধরার দক্ষতা থাকা জরুরি।
বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে জলবায়ু সাংবাদিকতার কোর্স চালু হলে শিক্ষার্থীরা জলবায়ু বিষয়ে জ্ঞান অর্জনের পাশাপাশি তথ্য যাচাই, মাঠপর্যায়ে রিপোর্টিং, সাক্ষাৎকার গ্রহণ ও জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে মানুষের জীবনে তৈরি হওয়া পরিবর্তন নিয়ে গভীর প্রতিবেদন তৈরির ব্যবহারিক দক্ষতা অর্জনের সুযোগ পাবেন।
কর্মশালায় ফ্যাসিলিটেটর হিসেবে ছিলেন সিজেইএন বাংলাদেশের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. জুড উইলিয়াম জেনিলো এবং রোকেয়া কালেকটিভের প্রজেক্ট কো-অর্ডিনেটর জেসমিন পাপড়ি। প্যানেল সদস্য হিসেবে ছিলেন স্ট্যামফোর্ড ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের অধ্যাপক ড. আহমাদ কামরুজ্জামান মজুমদার। ক্লাইমেট ওয়াচের সম্পাদক শামসুদ্দিন ইলিয়াস বিশেষ রিসোর্স সেশনে অংশ নেন। গ্রেট জিম্বাবুয়ে ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক গিফট গুইন্ডিংওয়ে অনলাইনে একটি বিশেষ সেশনে যুক্ত হন।
অ্যাজাইল ২০২৫ থেকে ২০২৮ সাল পর্যন্ত ইউরোপীয় ইউনিয়নের সহায়তায় পরিচালিত একটি বৈশ্বিক উদ্যোগ। স্বাধীন সাংবাদিকতা শক্তিশালী করার লক্ষ্যে গঠিত এ উদ্যোগের অংশীদার হলো ইন্টারনিউজ ইউরোপ, ফোজো মিডিয়া ইনস্টিটিউট, সিএফআই ডেভেলপমঁ মিডিয়া, থমসন মিডিয়া ও আর্টিকেল ১৯। অ্যাজাইলের ‘দ্য ফিউচার অব জার্নালিজম’ কর্মধারার নেতৃত্ব দিচ্ছে ফোজো মিডিয়া ইনস্টিটিউট।
এএসএ
বিজ্ঞাপন