জাতীয়

এসএসসির ফলাফল খারাপ হলে বকাঝকা নয়, সন্তানের পাশে থাকবেন যেভাবে

j
jagonews24 অনলাইন ডেস্ক
1 বার পঠিত
বিজ্ঞাপন Ad
এসএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর প্রত্যাশিত নম্বর না পেলে একজন শিক্ষার্থীর মনে হতাশা, লজ্জা কিংবা ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তা তৈরি হতে পারে। এমনকি যেকোনো ভুল সিদ্ধান্ত নিতে পারে। তাই এই সময়ে পরিবারের প্রতিক্রিয়া খুব গুরুত্বপূর্ণ। সন্তানের ফলাফল নিয়ে অতিরিক্ত চাপ, তুলনা বা কড়া সমালোচনা সন্তানের আত্মবিশ্বাস আরও কমিয়ে দিতে পারে। বিপরীতে, অভিভাবকের সহানুভূতিশীল আচরণ তাকে পরিস্থিতি বুঝে আবার ঘুরে দাঁড়াতে সাহায্য করতে পারে। গবেষণাভিত্তিক পরামর্শেও কিশোর-কিশোরীদের মানসিক সুস্থতার ক্ষেত্রে সহায়ক ও যত্নশীল অভিভাবকত্বকে গুরুত্বপূর্ণ সুরক্ষামূলক বিষয় হিসেবে দেখা হয়। ফল হাতে পাওয়ার পরই বকাঝকা নয় ফলাফল দেখে প্রথম প্রতিক্রিয়াটিই সন্তানের মনে সবচেয়ে বেশি দাগ কাটতে পারে। তাই নম্বর প্রত্যাশার চেয়ে কম হলে সঙ্গে সঙ্গে রাগ দেখানো, অপমান করা বা শাস্তি দেওয়ার বদলে আগে সন্তানের কথা শুনুন। সে কেন এমন ফল করেছে, পরীক্ষার সময় কী সমস্যার মুখোমুখি হয়েছিল-এসব জানতে শান্তভাবে কথা বলা জরুরি। আমেরিকান সাইকোলজিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনও শিশুদের উদ্বেগ ও ভয় নিয়ে বিচারহীনভাবে শুনতে এবং আশ্বস্ত করতে অভিভাবকদের পরামর্শ দেয়। অন্য সন্তানের সঙ্গে তুলনা নয় ‘ও এত ভালো করেছে, তুমি পারলে না কেন?’-এ ধরনের কথা অনেক সময় সমস্যার সমাধান না করে সন্তানের আত্মবিশ্বাস আরও কমিয়ে দিতে পারে। কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে সহপাঠীদের সঙ্গে ফলাফলের তুলনা নেতিবাচক অনুভূতি বাড়াতে পারে ।তাই অন্যের নম্বর নিয়ে আলোচনা না করে নিজের সন্তানের ফলাফলের দিকে মনোযোগ দিন। কোথায় উন্নতির সুযোগ রয়েছে, সেটিই হোক আলোচনার বিষয়। নম্বরই সন্তানের পরিচয় নয় একটি পরীক্ষায় খারাপ করা বা কম নম্বর পাওয়া মানেই সন্তান অযোগ্য নয়। তাকে শেখাতে হবে নিজের আত্মবিশ্বাস ও সক্ষমতা সম্পর্কে ইতিবাচক ধারণা রাখা খুব গুরুত্বপূর্ণ। আমেরিকান সাইকোলজিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের মতে, আত্মবিশ্বাস শিক্ষার্থীদের ব্যর্থতা বা কঠিন পরিস্থিতি কাটিয়ে আবার শেখার কাজে ফিরতে সাহায্য করে। তাই ‘তুমি কিছুই পারো না’ বলার পরিবর্তে বলতে পারেন, ‘এই ফলাফল নিয়ে আমরা একসঙ্গে বুঝে দেখি কোথায় সমস্যা হয়েছে।’ ভুলের জায়গাগুলো খুঁজে বের করুন ফল খারাপ হওয়ার কারণ সবার ক্ষেত্রে এক নয়। কোনো বিষয়ে প্রস্তুতি কম থাকতে পারে, পরীক্ষার হলে সময় ব্যবস্থাপনায় সমস্যা হতে পারে, আবার অতিরিক্ত দুশ্চিন্তাও পারফরম্যান্সে প্রভাব ফেলতে পারে। তাই অনুমান করে দোষারোপ না করে সন্তানের সঙ্গে বসে ফলাফল বিশ্লেষণ করুন। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকের সঙ্গে কথা বলে বোঝার চেষ্টা করুন কোন বিষয়ে বেশি কাজ করা প্রয়োজন। পরবর্তী পরিকল্পনা সন্তানের সঙ্গে করুন অভিভাবক নিজের মতো করে পরিকল্পনা চাপিয়ে না দিয়ে সন্তানের মতামত শুনুন। কোন বিষয়ে তার আগ্রহ, কোন জায়গায় সমস্যা এবং ভবিষ্যতে কী করতে চায়-এসব নিয়ে আলোচনা করুন। বড় লক্ষ্যকে ছোট ছোট ধাপে ভাগ করলে পড়াশোনার চাপও তুলনামূলকভাবে সামলানো সহজ হতে পারে। ফলাফল খারাপ হলে আগে শুনুন, পরে সমাধানের পথ খুঁজুন কিছুদিন মানসিক বিশ্রামও দিন ফল প্রকাশের পরপরই পড়াশোনার নতুন চাপ তৈরি না করে সন্তানকে কিছুটা সময় স্বাভাবিক হওয়ার সুযোগ দিন। ঘুম, খাবার, পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটানো এবং পছন্দের স্বাস্থ্যকর কাজে যুক্ত থাকা মানসিকভাবে স্বস্তি দিতে পারে। এরপর ধীরে ধীরে পরবর্তী পরিকল্পনায় ফিরুন। সামাজিক চাপ থেকে সন্তানকে দূরে রাখুন আত্মীয়স্বজন, প্রতিবেশী কিংবা পরিচিতদের সামনে সন্তানের ফলাফল নিয়ে বারবার আলোচনা করা থেকে বিরত থাকুন। ফলাফল নিয়ে প্রশ্নের মুখে পড়লে অনেক শিক্ষার্থী আরও অস্বস্তিতে পড়তে পারে। পরিবারের উচিত এমন একটি পরিবেশ তৈরি করা, যেখানে সন্তান নিজের ব্যর্থতা বা দুশ্চিন্তার কথা নিরাপদে বলতে পারে। আরও পড়ুন ২১ মিনিটেই বদলে যাবে সন্তানের সঙ্গে সম্পর্ক আচরণে বড় পরিবর্তন দেখলে গুরুত্ব দিন ফল খারাপ হওয়ার পর কিছুদিন মন খারাপ থাকা স্বাভাবিক। তবে দীর্ঘদিন ধরে যদি সন্তান সবার কাছ থেকে নিজেকে গুটিয়ে নেয়, ঘুম বা দৈনন্দিন আচরণে বড় পরিবর্তন দেখা যায়, পড়াশোনায় একেবারেই মনোযোগ দিতে না পারে কিংবা স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হয়, তাহলে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখুন। প্রয়োজনে শিক্ষক, স্কুল কাউন্সেলর বা মানসিক স্বাস্থ্য পেশাজীবীর সহায়তা নেওয়া যেতে পারে। আরও পড়ুন ভালো ফলাফলের পরও মন খারাপ হয় কেন এসএসসির ফলাফল সন্তানের জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হলেও এটি তার পুরো ভবিষ্যতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নয়। এই সময়ে অভিভাবকের ভূমিকা শুধু ভালো ফলের জন্য চাপ দেওয়া নয়, বরং ব্যর্থতার পর কীভাবে শেখা যায়, আবার চেষ্টা করা যায় এবং আত্মবিশ্বাস ধরে রাখা যায়-সেই পথ দেখানো। খারাপ করছে বলে তার সম্ভাবনা শেষ হয়ে যায়নি। তাই বকাঝকার বদলে সন্তানের পাশে দাঁড়ান, শুনুন এবং পরবর্তী পথটি তার সঙ্গে মিলেই তৈরি করুন। সূত্র: ইউনিসেফ, ক্লিভল্যান্ড ক্লিনিক, গালফ নিউজ এসএকেওয়াই
বিজ্ঞাপন Ad
পাঠকের মতামত
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন Ad
বিজ্ঞাপন Ad

সম্পাদক ও প্রকাশক: <b>ডি. হাসান. খান</b> | নির্বাহী সম্পাদক: <b>এ. এইচ. সুমন</b>
<div><b>বেলভিউ টাওয়ার ৭১ বীর উত্তম সিআর দত্ত রোড, হাতিরপুল, ঢাকা-১২০৫</b></div>