ব্রেকিং নিউজ
মিরপুরে পুলিশের বিশেষ অভিযান, গ্রেফতার ৪৫ ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে রাজধানীতে ডিএমপির কঠোর নিরাপত্তাবলয়, দেশজুড়ে সতর্ক র‌্যাব আগামী শিক্ষাক্রমে খেলাধুলা বাধ্যতামূলক হচ্ছে: ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী গ্রিসের ক্রিট দ্বীপের কাছ থেকে বাংলাদেশিসহ ৭৯ অভিবাসনপ্রত্যাশীকে উদ্ধার ইনভেস্ট বাংলাদেশ চেয়ারম্যানকে প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদা পাবনায় কমিটি বাতিলের দাবিতে বিএনপি নেতাকর্মীদের ঝাড়ু মিছিল অজিত দোভাল-ওয়াং ই বৈঠক: সীমানা নির্ধারণ এগিয়ে নিতে চায় ভারত ও চীন ফারহান ফাইয়াজকে যখন রিকশায় ওঠাই , তখন সে একটি দীর্ঘনিশ্বাস ছাড়ে: জবানবন্দিতে সাক্ষী সাইদ সিআইএর সতর্কতা শোনেননি ট্রাম্প, নেতানিয়াহুর পরামর্শে যুদ্ধে জড়ান সাবেক এমপি সাইফুলসহ ১৩ জনকে আত্মসমর্পণ করতে সংবাদপত্রে বিজ্ঞপ্তির নির্দেশ
জাতীয়

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সফরে কী পেলো চট্টগ্রামবাসী?

j
jagonews24 অনলাইন ডেস্ক
1 বার পঠিত
বিজ্ঞাপন Ad
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম চট্টগ্রাম সফর করলেন তারেক রহমান। একদিনে একাধিক কর্মসূচিতেও অংশ নেন তিনি। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন, গৃহহীন পরিবারের জন্য নতুন ঘর, আর্থিক সহায়তা, মেগা প্রকল্প পরিদর্শন, হেফাজতে ইসলামের নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ এবং বিএনপির স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা করে ব্যস্ত সময় কাটান প্রধানমন্ত্রী। তবে প্রধানমন্ত্রীর এই সফরে তার দেওয়া প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন চান নগরবাসী। এক দিনের সফরে প্রধানমন্ত্রীর কর্মসূচির পরিধি ছিল চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের মহেশখালীজুড়ে। কোথাও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের হাতে নতুন ঘরের চাবি, কোথাও পুনর্বাসনের জন্য নগদ সহায়তা, কোথাও মেগা প্রকল্পের অগ্রগতি পরিদর্শন, আবার কোথাও আলেম সমাজের সঙ্গে বৈঠক ও স্থানীয় উন্নয়ন সংশ্লিষ্ট দাবি নিয়ে আলোচনা। দিনের শেষভাগে ছিল দলীয় নেতাদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সাংগঠনিক মতবিনিময় সভা। ৯ আগস্টের প্রধানমন্ত্রীর এই সফর ঘিরে চট্টগ্রামবাসীর প্রত্যাশার কমতি ছিল না। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, গ্যাস, শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান, যোগাযোগ ও পর্যটনের সম্ভাবনার কথা বলছেন তারা। নগরের জলাবদ্ধতা ও অবকাঠামোসহ দীর্ঘদিনের নানা সমস্যার সমাধান চেয়েছেন নগরবাসী। ১০০ পরিবার পেলো নতুন ঘর প্রধানমন্ত্রীর সফরের সবচেয়ে দৃশ্যমান প্রাপ্তি বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন। বাঁশখালী পৌরসভা ও নয়টি ইউনিয়নের বন্যায় ঘর হারানো এবং নিজেদের অর্থে নতুন ঘর নির্মাণে অক্ষম পরিবারগুলোকে অগ্রাধিকার দিয়ে উপকারভোগী নির্বাচন করা হয়েছে। প্রতিটি ঘরে দুটি কক্ষের পাশাপাশি সংযুক্ত শৌচাগার রয়েছে। দুর্যোগপ্রবণ এলাকা বিবেচনায় ঘরগুলো নির্মাণে আরসিসি পিলার, কাঠ ও টিন ব্যবহার করা হয়েছে। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত একজনের হাতে ঘরের চাবি তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী/ ছবি: জাগো নিউজ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত বাহারছড়ার খোরশেদ চৌধুরী বলেন, বন্যার ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে চট্টগ্রামের আরও অনেক পরিবার এখনো সহায়তার অপেক্ষায় রয়েছে। ফলে এই উদ্যোগ তাৎক্ষণিক স্বস্তি দিলেও দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসন দরকার। বাঁশখালীর বাহারছড়া ইউনিয়নে সম্প্রতি বন্যায় ঘরবাড়ি হারানো ১০০ পরিবারের জন্য নির্মাণ করা হয়েছে নতুন ঘর। প্রধানমন্ত্রী একজন উপকারভোগীর হাতে নতুন ঘরের চাবি তুলে দিয়ে পুনর্বাসন কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। হাটহাজারীতেও পুনর্বাসন সহায়তা হাটহাজারী সরকারি কলেজ মাঠের অনুষ্ঠানে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ৩০টি পরিবারকে ঘর পুনর্নির্মাণে এক লাখ টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার কর্মসূচি ছিল। একই অনুষ্ঠানে ১৫ জন প্রতিবন্ধী ব্যক্তিকে ১০ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়। প্রতিবন্ধীদের হাতে ১০ হাজার করে টাকা তুলে দেন তারেক রহমান, ছবি/ জাগো নিউজ হাটহাজারী উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব গিয়াস উদ্দিন চেয়ারম্যান বলেন, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর অনেকেই এখনো বসতঘর, কৃষি, ব্যবসা ও জীবিকার ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে পারেনি। তাই প্রধানমন্ত্রী ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। মেগা প্রকল্পে প্রধানমন্ত্রীর নজর চট্টগ্রামের অর্থনৈতিক সম্ভাবনার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত কক্সবাজারের মহেশখালীর মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর ও কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের কাজের অগ্রগতি ঘুরে দেখেন প্রধানমন্ত্রী। মহেশখালী মাতারবাড়ি কয়লাবিদ্যুৎ পরিদর্শনে যান প্রধানমন্ত্রী, ছবি: জাগো নিউজ সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গভীর সমুদ্রবন্দর চালু হলে বড় জাহাজ সরাসরি বন্দরে ভেড়ার সুযোগ, আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমের গতি, লজিস্টিক ব্যয় কমানো এবং শিল্পাঞ্চল গড়ে ওঠার সম্ভাবনা তৈরি হবে। এর সঙ্গে মহেশখালী সমন্বিত উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (মিডা) কার্যক্রমও যুক্ত। মহেশখালীকে শিল্প, জ্বালানি ও বন্দরকেন্দ্রিক অর্থনৈতিক অঞ্চলে রূপান্তরের পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার উপকূলীয় অঞ্চল দেশের অন্যতম বড় অর্থনৈতিক করিডরে পরিণত হতে পারে বলছেন স্থানীয়রা। বাবুনগরীর সঙ্গে বৈঠক, সামনে এলো ফটিকছড়ির দাবি প্রধানমন্ত্রীর সফরে আরেকটি কর্মসূচি ছিল ফটিকছড়ির বাবুনগর মাদরাসায় হেফাজতে ইসলামের আমির আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ। হেফাজতের পক্ষ থেকে এটিকে অরাজনৈতিক সৌজন্য সাক্ষাৎ হিসেবে উল্লেখ করা হলেও সেখানে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের নেতাদের উপস্থিতি ছিল। এ সাক্ষাতের সুযোগে ফটিকছড়ির দীর্ঘদিনের বিভিন্ন উন্নয়ন ও জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট দাবিও সামনে আসে। হেফাজত আমিরের সঙ্গে বাবুনগর মাদরাসায় প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ, ছবি: সংগৃহীত স্থানীয়দের পক্ষ থেকে ফটিকছড়িতে সরকারি মহিলা কলেজ প্রতিষ্ঠা, কয়েকটি কলেজ সরকারিকরণ, স্থানীয় জনগণের জন্য গ্যাস-সুবিধা নিশ্চিত করা, চা ও রাবারবাগানে গ্যাস-সংযোগ এবং খাসজমিতে শিল্পাঞ্চল গড়ে তোলার দাবি জানানো হয়। এ ছাড়া ফটিকছড়িতে একটি পূর্ণাঙ্গ কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (টিটিসি), বিশেষায়িত হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা, চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি সড়ক উন্নয়ন এবং নাজিরহাট থেকে রামগড় পর্যন্ত রেললাইন সম্প্রসারণের দাবিও দীর্ঘদিনের। চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি সড়ক ও রেল যোগাযোগের প্রত্যাশা ফটিকছড়ির সঙ্গে পার্বত্য চট্টগ্রাম ও খাগড়াছড়ির যোগাযোগ আরও সহজ করতে চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি আঞ্চলিক মহাসড়ক উন্নয়নের দাবি রয়েছে স্থানীয়দের। নাজিরহাট থেকে রামগড় পর্যন্ত রেললাইন সম্প্রসারণ হলে চট্টগ্রামের সঙ্গে পার্বত্য অঞ্চলের যোগাযোগের পাশাপাশি পণ্য পরিবহন ও বাণিজ্যেও নতুন সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। ফটিকছড়িতে স্থানীয়দের সঙ্গে সভা করেন প্রধানমন্ত্রী, ছবি: সংগৃহীত ফটিকছড়ির বাসিন্দা সাইফুল ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, সড়কটি উন্নত হলে পর্যটন, কৃষিপণ্য পরিবহন, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং আন্তঃজেলা যোগাযোগে গতি আসতে পারে। তিনি প্রত্যাশা নিয়ে বলেন, শুধু সংস্কার নয়, ভবিষ্যতের যানবাহন ও বাণিজ্যিক চাপ বিবেচনায় নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার আওতায় সড়কটির উন্নয়ন করতে হবে। গ্যাস আছে, কিন্তু স্থানীয় সুবিধা নেই ফটিকছড়ির সবচেয়ে বৈপরীত্যপূর্ণ বাস্তবতার একটি হলো সেমুতাং গ্যাসক্ষেত্র। স্থানীয়দের বক্তব্য, এলাকায় গ্যাস উত্তোলন হলেও সাধারণ মানুষ সেই গ্যাস-সুবিধা থেকে বঞ্চিত। জানা গেছে, ফটিকছড়িতে চা-বাগান, রাবারবাগান, কৃষি ও অন্যান্য সম্ভাবনাময় খাত রয়েছে। এসব খাতে গ্যাস-সংযোগ ও শিল্পায়নের সুযোগ তৈরি করা গেলে স্থানীয়ভাবে কর্মসংস্থান বাড়তে পারে। বিশেষ করে তরুণদের জন্য কর্মসংস্থান তৈরি করা এখন বড় চ্যালেঞ্জ। শিল্পাঞ্চল গড়ে উঠলে স্থানীয় অর্থনীতি বদলে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। টিটিসি ও মহিলা কলেজ, মানবসম্পদ উন্নয়নের দাবি ফটিকছড়ির উন্নয়ন দাবির তালিকায় শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়নও গুরুত্বপূর্ণ। একটি সরকারি মহিলা কলেজ প্রতিষ্ঠার দাবি স্থানীয়দের দীর্ঘদিনের। পাশাপাশি প্রবাসী অধ্যুষিত এই উপজেলায় কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র প্রতিষ্ঠার দাবি রয়েছে। স্থানীয়দের যুক্তি, টিটিসি প্রতিষ্ঠা হলে তরুণদের কারিগরি দক্ষতা বাড়বে। বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগও বাড়তে পারে। অন্যদিকে, মহিলা কলেজ প্রতিষ্ঠা হলে উচ্চশিক্ষায় মেয়েদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে। বিশেষায়িত হাসপাতালের দাবি চট্টগ্রামের আঞ্চলিক স্বাস্থ্যব্যবস্থার ওপর দীর্ঘদিন ধরে চাপ রয়েছে। নগরের বড় হাসপাতালগুলোতে রোগীর চাপ বাড়ার পাশাপাশি উপজেলা পর্যায়েও উন্নত চিকিৎসার ঘাটতি রয়েছে। ফটিকছড়িতে একটি বিশেষায়িত হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার দাবি স্থানীয়দের। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, বিশেষায়িত হাসপাতাল হলে জটিল রোগের চিকিৎসার জন্য ফটিকছড়ি ও আশপাশের এলাকার মানুষকে সবসময় চট্টগ্রাম নগরে ছুটতে হবে না। ফটিকছড়ির সংসদ সদস্য সরোয়ার আলমগীর বলেন, প্রধানমন্ত্রীর এই সফর ফটিকছড়িবাসীর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তার আগমনকে ঘিরে মানুষের মধ্যে যে উৎসাহ-উদ্দীপনা ছিল, তা অভূতপূর্ব। আমরা চাই, এই সফরের মাধ্যমে ফটিকছড়ির দীর্ঘদিনের উন্নয়ন-দাবিগুলো সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ে আরও গুরুত্ব পাবে। তিনি বলেন, ফটিকছড়ির মানুষের প্রধান প্রত্যাশাগুলোর মধ্যে রয়েছে শিক্ষা, যোগাযোগ, গ্যাস, শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থান। এসব বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে। ফটিকছড়ির সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে একটি পরিকল্পিত ও সমন্বিত উন্নয়ন কার্যক্রম গ্রহণ করা গেলে এ অঞ্চল অর্থনৈতিকভাবে আরও এগিয়ে যাবে। বাঁশখালীতে পর্যটনের সম্ভাবনা প্রধানমন্ত্রীর বাঁশখালী সফরের মধ্য দিয়ে বাহারছড়া উপকূলীয় এলাকার পর্যটন সম্ভাবনাও নতুন করে সামনে এসেছে। বাহারছড়া সমুদ্রসৈকত ও উপকূলীয় এলাকার প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে পরিকল্পিতভাবে কাজে লাগানো গেলে স্থানীয় অর্থনীতিতে নতুন গতি আসতে পারে। পর্যটনকেন্দ্রিক ব্যবসা, পরিবহন, আবাসন, খাবারের দোকান ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের কর্মসংস্থান তৈরি হতে পারে। জেলে সম্প্রদায়ের জন্যও বিকল্প আয়ের সুযোগ তৈরি হতে পারে। নগরবাসীর সমস্যা আরও প্রকট প্রধানমন্ত্রীর সফরকে ঘিরে চট্টগ্রাম নগরবাসীর প্রত্যাশার তালিকাও ছিল দীর্ঘ। জলাবদ্ধতা, যানজট, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, খাল-নালা দখল ও দূষণ, কর্ণফুলী নদী রক্ষা, বন্দরকেন্দ্রিক যোগাযোগ এবং নগরের অবকাঠামো উন্নয়ন এসব সমস্যা দীর্ঘদিনের। চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেন বলেন, প্রধানমন্ত্রীর চট্টগ্রাম সফরকে কেন্দ্র করে নগরের বিভিন্ন উন্নয়ন-প্রত্যাশা নতুন করে সামনে এসেছে। এসব দাবির বাস্তবায়নে সরকারের সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে কার্যকর সমন্বয় প্রয়োজন। চট্টগ্রামের জন্য যে পরিকল্পনা নেওয়া হবে, সেটি যেন শুধু প্রকল্প গ্রহণের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থাকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বাস্তবায়নও নিশ্চিত করতে হবে। তিনি জানান, সফরে এসব বিষয়ে তাৎক্ষণিক বড় কোনো প্রকল্প ঘোষণা না এলেও চট্টগ্রামের সামগ্রিক উন্নয়ন নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে। সফর ঘিরে রাস্তাঘাটে পরিবর্তন প্রধানমন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রামের বিভিন্ন সড়কে ব্যাপক পরিচ্ছন্নতা, সংস্কার ও সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ করা হয়। গুরুত্বপূর্ণ সড়কের খানাখন্দ মেরামত, ডিভাইডারে রং, ফুটপাত পরিষ্কার এবং সড়কের আশপাশের আবর্জনা অপসারণ করা হয়। নগরের বাসিন্দা মাসুদ ফরহান বলেন, সফরের কারণে এসব কাজ দ্রুত সম্পন্ন হওয়ায় সাধারণ মানুষ সাময়িকভাবে এর সুফল পেলেও স্থানীয়দের প্রত্যাশা এগুলো যেন শুধু ভিআইপি সফরকেন্দ্রিক না হয়ে নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের অংশ হয়। রাজনীতিতে ইতিবাচক বার্তা  চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির বাবুনগর মাদরাসায় হেফাজতে ইসলামের আমিরের সঙ্গে সৌজন্য করেন প্রধানমন্ত্রী। সাক্ষাৎকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান স্থানীয় সংসদ সদস্য সরোয়ার আলমগীরকে উদ্দেশ করে হাস্যরসাত্মক ও সৌহার্দ্যপূর্ণভাবে বলেন, ‘ওরে আমি আপনার হাতে দিয়ে দিছি।’ স্থানীয়রা বলছেন, রাজনৈতিক সৌহার্দ্যপূর্ণ আচরণ দেখিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রাজনীতিতে একটি ইতিবাচক বার্তা দিয়েছেন। স্থানীয় বিএনপি নেতাদের সঙ্গে বৈঠক সফরের শেষভাগে স্থানীয় বিএনপি নেতাদের সঙ্গে সাংগঠনিক মতবিনিময় করেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। হোটেল রেডিসন ব্লুতে তৃণমূল নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন তারেক রহমান, ছবি: জাগো নিউজ নগরের এক বিএনপি নেত্রী বলেন, নগর, উত্তর ও দক্ষিণ জেলা এবং অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময়ের ফলে তৃণমূলের সাংগঠনিক বাস্তবতা সরাসরি সরকারপ্রধানের সামনে তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হয়েছে। তিনি জানান, স্থানীয় নেতাদের জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ হলেও সাধারণ মানুষের কাছে সফরের মূল্যায়ন হবে অন্য জায়গায়। জনজীবনে এর বাস্তব প্রভাব কতটা পড়লো, সেটিই হবে এই সফরের মূল মাপকাঠি। এখন দেখার বিষয় চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে শিল্পাঞ্চল হচ্ছে কি না, গ্যাস পৌঁছাচ্ছে কি না, নাজিরহাট-রামগড় রেলপথের কাজ এগোচ্ছে কি না, বন্যাকবলিত পরিবারগুলো স্থায়ীভাবে ঘুরে দাঁড়াতে পারছে কি না, বাঁশখালীর পর্যটন সম্ভাবনা কাজে লাগছে কি না এবং নগরের দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা-যানজটের স্থায়ী সমাধান হচ্ছে কি না। এমআরএএইচ/এসএনআর
বিজ্ঞাপন Ad
পাঠকের মতামত
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন Ad
বিজ্ঞাপন Ad

সম্পাদক ও প্রকাশক: <b>ডি. হাসান. খান</b> | নির্বাহী সম্পাদক: <b>এ. এইচ. সুমন</b>
<div><b>বেলভিউ টাওয়ার ৭১ বীর উত্তম সিআর দত্ত রোড, হাতিরপুল, ঢাকা-১২০৫</b></div>