কলম্বিয়ায় শক্তিশালী ভূমিকম্পের পর হতাহতদের উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত আছে। দেশটির পশ্চিমাঞ্চলে সোমবার আঘাত হানা ৭ দশমিক ৪ মাত্রার ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বেড়ে অন্তত ২২৪ হয়েছে। কলম্বিয়ার ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পের পর দেশজুড়ে ৭০টির বেশি পরাঘাত বা আফটারশক রেকর্ড করা হয়েছে।
সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে ধ্বংসস্তূপের নিচে কেউ আটকে আছেন কি না, তা খুঁজে দেখছেন উদ্ধারকর্মীরা। কালি শহরে ভূমিকম্পের প্রায় ৩০ ঘণ্টা পর একটি ধসে পড়া ভবনের ধ্বংসস্তূপ থেকে এক নারীকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। একই শহরে একটি আবাসিক ভবনের ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে এক শিশুকেও উদ্ধার করা হয়।
পেরেইরায় একটি ধসে পড়া ভবনের ধ্বংসস্তূপে আটকে থাকা ব্যক্তিদের উদ্ধারে উদ্ধারকর্মী ও স্বেচ্ছাসেবকেরা কাজ করছেন। উদ্ধার অভিযান চালিয়ে যেতে সেখানে ক্রেন ও জ্বালানিবাহী ট্রাক আনা হয়েছে।
ভূমিকম্পে পশ্চিমাঞ্চলের বুয়েনাভেনতুরার একটি কারাগারে আগুন লাগে। এতে অন্তত চারজন নিহত ও দুজন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন বলে জানিয়েছেন ভায়া দেল কাউকা প্রদেশের গভর্নর দিলিয়ান ফ্রান্সিসকা তোরো।
পানি-বিদ্যুৎ নেই, সড়ক বিচ্ছিন্ন
ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থলের কাছে সান হোসে দেল পালমার পৌরসভার লা ইতালিয়া এলাকায় পরিস্থিতি এখনো ভয়াবহ। সেখানে অনেক ভবন ও সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। স্থানীয় নেতা জেইসন গুয়েভারা বলেন, এলাকায় পানি ও বিদ্যুৎ— দুটিরই সংকট দেখা দিয়েছে।
প্রায় ৫ হাজার ৯০০ মানুষের গ্রামীণ কৃষিপ্রধান এই শহরটি এখন দেশের অন্য অংশ থেকে বিচ্ছিন্ন। পাশের কার্তাগো শহরের দিকে যাওয়ার প্রধান সড়কে ১৮টি স্থানে ভূমিধস হওয়ায় যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে। সড়কটি পরিষ্কারে এখন মাত্র একটি বুলডোজার কাজ করছে বলে জানান গুয়েভারা।
ভূমিকম্পের পর বিদ্যুৎ না থাকায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। এখন জেনারেটরের সাহায্যে মুঠোফোনে চার্জ দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এতে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
মেয়রের ছয় বছরের ছেলে নিহত
ভূমিকম্পে বাহিয়া সোলানোর মেয়র জাইরসন লেওনেল ভ্যালেন্সিয়ার ছয় বছর বয়সী ছেলে মাতেও ভ্যালেন্সিয়া নিহত হয়েছে। বাড়ি ধসে তার মৃত্যু হয় বলে মেয়রের কার্যালয় জানিয়েছে।
চোকো অঞ্চলে ওই শিশুসহ অন্তত ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। মাতেওর মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছে স্থানীয় প্রশাসন। সোমবার রাতে তার স্মরণে মোমবাতি জ্বালিয়ে প্রার্থনায় অংশ নেন বহু মানুষ।
সহায়তা পাঠাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও মেক্সিকো
ভূমিকম্পের পর কলম্বিয়াকে সহায়তা দিতে যুক্তরাষ্ট্র একটি দুর্যোগ সহায়তা দল পাঠিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, দুর্যোগ সহায়তা ও উদ্ধার তৎপরতায় কলম্বিয়া সরকারকে সহযোগিতা এবং সামগ্রিক কার্যক্রমের সমন্বয়ে কাজ করবে দলটি।
মেক্সিকোও সহায়তার প্রস্তাব দিয়েছে। দেশটি ২৫৫ সদস্যের একটি অনুসন্ধান ও উদ্ধারকারী দল এবং বিপুল পরিমাণ মানবিক সহায়তা পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। তবে কলম্বিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে সহায়তা চাওয়ার পরই তা পাঠানো হবে।
এদিকে কলম্বিয়ার নতুন প্রেসিডেন্ট আবেলার্দো দে লা এসপ্রিয়েলা ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য অর্থনৈতিক সহায়তার ঘোষণা দিয়েছেন। মঙ্গলবার দেশের কফি উৎপাদনকারী অঞ্চলের ক্ষতিগ্রস্ত শহরগুলো পরিদর্শনের সময় তিনি এ পদক্ষেপের কথা জানান।
সম্পাদক ও প্রকাশক: <b>ডি. হাসান. খান</b>
|
নির্বাহী সম্পাদক: <b>এ. এইচ. সুমন</b>
<div><b>বেলভিউ টাওয়ার ৭১ বীর উত্তম সিআর দত্ত রোড, হাতিরপুল, ঢাকা-১২০৫</b></div>