ব্রেকিং নিউজ
জাতীয়

সারাদেশে ৬ হাজার মাইক্রো ইকোনমিক জোনের প্রস্তাব বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের

j
jagonews24 অনলাইন ডেস্ক
1 বার পঠিত
বিজ্ঞাপন Ad
সারাদেশে ছয় হাজার মাইক্রো ইকোনমিক জোন করার কথা জানিয়েছে বেসরকারি মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান আর্কিটেকচার রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট। এ প্রতিষ্ঠানের দাবি-দেশের স্থানীয় উৎপাদন, উদ্যোক্তা তৈরি, কর্মসংস্থান, খাদ্য নিরাপত্তা এবং জলবায়ু সহনশীলতা বাড়াতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে, এটি কিভাবে ব্যস্তবায়ন হবে সেটার সুনির্দিষ্ট কোনো রুপরেখা নেই প্রতিষ্ঠানটির কাছে। রোববার (১৬ আগস্ট) সকালে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ পরিকল্পনার বিস্তারিত তুলে ধরেন প্রতিষ্ঠানটির স্থপতি শামসুন্নাহার মুন্নি। তিনি বলেন, ৬ হাজার মাইক্রো ইকোনমিক জোন শুধু একটি প্রকল্প নয়, এটি একটি পূর্ণাঙ্গ ইকোসিস্টেম। এর মূল লক্ষ্য হলো স্থানীয় পর্যায়ে মানুষের প্রয়োজন যতটা সম্ভব স্থানীয়ভাবে পূরণ করা। এতে আমদানিনির্ভরতা কমবে, স্থানীয় অর্থনীতি শক্তিশালী হবে এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়বে। শামসুন্নাহার মুন্নি বলেন, বিশ্বব্যাপী সরবরাহ ব্যবস্থা, আমদানি-রপ্তানি, পরিবহন, জ্বালানি ও আন্তর্জাতিক বাজারে অনিশ্চয়তা বাড়ছে। তাই দেশের মানুষের প্রয়োজনীয় পণ্য কতটা স্থানীয়ভাবে উৎপাদন ও ব্যবহার করা যায়, সেই সক্ষমতা বাড়ানো জরুরি। আরও পড়ুন বিদায়ী অর্থবছরে সেবা খাতের আকার বেড়েছে ১১.৫ শতাংশ তার ভাষায়, আমরা লোকালি এবং গ্লোবালি কাজ করবো। স্থানীয় পর্যায়ের সমস্যাগুলো স্থানীয়ভাবেই সমাধান করতে পারলে দেশের বড় অনেক সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। প্রকল্পে অর্থায়ন কীভাবে হবে অথবা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে কারা কাজ করবে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমরা সরকারের সঙ্গে সরকারি-বেসরকারি যৌথ অংশীদারত্বে (পিপিপি) এটা করতে চাই। সরকারি কোনো সংস্থার সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা হচ্ছে কি না এসব প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমরা একটি সেমিনারে শুনেছি বাংলাদেশ ব্যাংকের কিছু গ্রিনফান্ড রয়েছে। সরকার চাইলে ওখান থেকে আমাদের অর্থায়ন করতে পারে। প্রস্তাবিত মাইক্রো ইকোনমিক জোনে মানুষ শুধু ভোক্তা হিসেবে থাকবে না, উৎপাদক হিসেবেও যুক্ত হবে। এটি আমাদের একটি বড় উদ্যোগ। এতে সরকারের সহায়তা প্রয়োজন। তিনি বলেন, একজন কৃষকের উৎপাদিত পণ্য অন্য উদ্যোক্তা ব্যবহার করবেন, আবার অন্য উদ্যোক্তার তৈরি পণ্য কৃষক বা স্থানীয় মানুষ ব্যবহার করবেন। এভাবে একটি পারস্পরিক নির্ভরশীল অর্থনৈতিক ব্যবস্থা গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। গ্রামের পুরোনো বিনিময়ভিত্তিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থার আদলে স্থানীয় উৎপাদক, কারিগর, কৃষক, প্যাকেজিং উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে সংযোগ তৈরি করা হবে। আমরা অন্য কোনো দেশের মতো হতে চাই না। আমরা আমাদের সক্ষমতা অনুযায়ী আমাদের মতো করে এগোতে চাই। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, প্রস্তাবিত ৬ হাজার মাইক্রো ইকোনমিক জোনের আওতায় থাকবে ৬ হাজার কোল্ড স্টোরেজ, এয়ারফ্লো স্টোরেজ, এগ্রো প্রসেসিং সেন্টার, ড্রায়ার ইউনিট ও ফুড প্রসেসিং ইউনিট। পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব আবাসন, উদ্যোক্তাদের ওয়ার্কস্পেস, উৎপাদন সুবিধা, প্রশিক্ষণ ও ইনকিউবেশন সেন্টার, স্টোর, প্যাকেজিং, ব্র্যান্ডিং এবং বাজারজাতকরণের ব্যবস্থাও থাকবে। এছাড়া, প্রতিটি জোনে ছোট পরিসরে নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবস্থার পরিকল্পনাও রয়েছে। উইন্ডমিল, মিনি হাইড্রোপাওয়ারসহ কম কার্বন ও জলবায়ু সহনশীল অবকাঠামো তৈরির কথা বলা হয়েছে। শামসুন্নাহার মুন্নি বলেন, একটি জোনে ১০০ জন উদ্যোক্তা যুক্ত হলে ৬ হাজার জোনে প্রায় ৬ লাখ উদ্যোক্তা সরাসরি যুক্ত হতে পারেন। তারা এর মালিকানা শেয়ার কিনবেন। এ সংখ্যা আরও বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে। প্রাথমিক জরিপে বিভিন্ন এলাকায় গড়ে প্রায় ২৭০ জনের উদ্যোক্তার সম্ভাবনা পাওয়া গেছে। তিনি জানান, এরইমধ্যে বিভিন্ন ইউনিয়ন ও এলাকায় সরেজমিন জরিপ করে তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। প্রান্তিক মানুষের জীবনযাপন ও জীবিকার বাস্তবতা পর্যবেক্ষণ করেই এই মাস্টারপ্ল্যানের ধারণা তৈরি হয়েছে। নিজেকে ‘গরিবের আর্কিটেক্ট’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ পর্যন্ত পাঁচ হাজারের বেশি দরিদ্র পরিবারের বাড়ি নির্মাণে কাজ করেছি আমরা। এসব কাজের অভিজ্ঞতা থেকেই প্রান্তিক মানুষের আবাসন, কর্মসংস্থান ও জীবিকার প্রয়োজনকে একই কাঠামোর মধ্যে আনার চিন্তা এসেছে। এনএইচ/এএমএ
বিজ্ঞাপন Ad
পাঠকের মতামত
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন Ad
বিজ্ঞাপন Ad

সম্পাদক ও প্রকাশক: <b>ডি. হাসান. খান</b> | নির্বাহী সম্পাদক: <b>এ. এইচ. সুমন</b>
<div><b>বেলভিউ টাওয়ার ৭১ বীর উত্তম সিআর দত্ত রোড, হাতিরপুল, ঢাকা-১২০৫</b></div>