বিজ্ঞাপন
প্রবাসে কেটেছে জীবনের ১৫ বছর। দেশে ফিরে চাকরি কিংবা প্রচলিত কোনো ব্যবসার পথে না গিয়ে নিজের পরিকল্পনা, শ্রম আর স্বপ্নকে কাজে লাগিয়ে শুরু করেন পিজার ব্যবসা। চার বছর আগে ছোট পরিসরে শুরু করা সেই উদ্যোগ এখন পরিচিতি পেয়েছে পটুয়াখালীর খাবারপ্রেমীদের কাছে। প্রতিদিনই এখানে ভিড় করছেন বিভিন্ন বয়সি ক্রেতা, যাদের বড় একটি অংশ শিক্ষার্থী।
পটুয়াখালী শহরের প্রাণকেন্দ্র ঝাউবন এলাকায় শিশু পার্কের পাশে রাস্তার ধারে গড়ে উঠেছে ‘উড ফায়ার লাইভ পিজা’। প্রতিদিন বিকেল ৪টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত চলে দোকানটি। তবে সাধারণ পিজার দোকানের চেয়ে এখানকার আকর্ষণ একটু আলাদা। ক্রেতাদের চোখের সামনেই লাকড়ি জ্বালিয়ে কাঠের আগুনে তৈরি করা হয় পিজা।
উদ্যোক্তা মো. রিপন জানান, পটুয়াখালীতে পিজার প্রতি মানুষের আগ্রহ রয়েছে। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে পিজা খেতে তুলনামূলক বেশি দাম গুনতে হয়। বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের কথা মাথায় রেখে কম দামে ভালো মানের পিজা দেওয়ার চিন্তা থেকেই তিনি এ ব্যবসা শুরু করেন।
এখানে পাওয়া যায় চিকেন পিজা, চিকেন স্পেশাল, চিকেন সুপ্রিম, বারবিকিউ চিকেন স্পেশাল, মিট লাভার ও নাগা চিকেনসহ বিভিন্ন ধরনের পিজা। এর মধ্যে চিকেন পিজা ও চিকেন স্পেশালের চাহিদা সবচেয়ে বেশি বলে জানান এই উদ্যোক্তা।
৯ ইঞ্চির চিকেন পিজার দাম ২৫০, ১০ ইঞ্চি ৩০০ এবং ১২ ইঞ্চি ৪০০ টাকা। চিকেন স্পেশাল ৩০০ থেকে ৪৫০, চিকেন সুপ্রিম ৪০০ থেকে ৬০০, বারবিকিউ চিকেন স্পেশাল ৩৫০ থেকে ৬০০, মিট লাভার ৪৫০ থেকে ৬৫০ এবং নাগা চিকেন পিজা ৩০০ থেকে ৪৫০ টাকা পর্যন্ত।
রিপনের দাবি, প্রতিদিন গড়ে শতধিক পিজা বিক্রি হয়। ছুটির দিন বা বিশেষ দিনে বিক্রি হয় প্রায় ৮০ থেকে ১০০টি। মাসে গড়ে তিন থেকে চার হাজার পিজা বিক্রি হয়। ক্রেতাদের বড় একটি অংশ শিক্ষার্থী হলেও বিভিন্ন বয়সি মানুষ নিয়মিত এখানে পিজা খেতে আসেন।
পিজা তৈরির ক্ষেত্রে কাঠের আগুন ব্যবহার করাই দোকানটির অন্যতম বৈশিষ্ট্য। ক্রেতাদের চোখের সামনেই লাকড়ি জ্বালিয়ে পিজা প্রস্তুত করা হয়। চিজ ও চিকেনের পরিমাণ বেশি থাকায় স্বাদেও আলাদা বৈশিষ্ট্য পাওয়া যায় বলে জানান তিনি। অর্ডারের পর সাধারণত ১০ থেকে ১৫ মিনিটের মধ্যেই প্রস্তুত হয়ে যায় গরম পিজা।
ব্যবসার শুরুটা সহজ ছিল না। নিজের জেলা থেকে দূরের এলাকায় এসে ব্যবসা শুরু করায় প্রথম দিকে কিছুটা শঙ্কায় ছিলেন রিপন। তবে কয়েকদিন ব্যবসা চালানোর পর স্থানীয় ক্রেতাদের সাড়া পেয়ে সেই শঙ্কা কেটে যায়।
দেড় লাখ টাকা মূলধন নিয়ে ব্যবসা শুরু করেছিলেন তিনি। পরে প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন উপকরণ যুক্ত করতে করতে বর্তমানে ব্যবসায় প্রায় তিন লাখ টাকার মূলধন রয়েছে। তাকে সহযোগিতা করছেন আরও তিনজন কর্মী।
রিপন বলেন, ‘প্রবাসে ১৫ বছর থাকার পর দেশে ফিরে এই ব্যবসা শুরু করি। নিজের দোকান, নিজের পরিকল্পনা ও নিজের শ্রম দিয়ে কাজ করতে আমার খুব ভালো লাগে। শুরুতে চিন্তা ছিল, নতুন জায়গায় ব্যবসা কেমন হবে। কিন্তু এখানকার মানুষের ভালোবাসা ও সাড়া পেয়ে এখন ভালোই লাগছে।’
আরও পড়ুন
মাটির ছাঁচে তৈরি করুন বাঙালির ঐতিহ্যবাহী পিঠা
বর্তমানে রাস্তার পাশে অস্থায়ীভাবে পরিচালিত হচ্ছে দোকানটি। তবে বড় পরিসরে ব্যবসা করার স্বপ্ন দেখছেন রিপন। ব্যাংক ঋণ কিংবা সহযোগিতা পেলে স্থায়ী দোকান করার পরিকল্পনা রয়েছে তার। পাশাপাশি পিজার সঙ্গে আরও বিভিন্ন খাবারের আইটেম যুক্ত করে ব্যবসা সম্প্রসারণ করতে চান তিনি।
আরও পড়ুন
ইশারত আলীর টেস্টি কর্নারে প্রতিদিন বিক্রি হয় ৭ হাজার টাকার ছোলা ভুনা
ক্রেতা মেহজাবিন স্বর্ণা বলেন, ‘এখানকার পিজা খুবই মজার। দামও তুলনামূলক কম। সবচেয়ে ভালো লাগে, আমাদের চোখের সামনেই পিজা তৈরি করে দেয়। ১০ থেকে ১৫ মিনিটের মধ্যে গরম পিজা পাওয়া যায়।’
আরও পড়ুন
বৃষ্টির বিকেলে চায়ের সঙ্গে জমবে শাকের পাকোড়া, রইলো রেসিপি
আরেক ক্রেতা মহিবুল্লাহ বলেন, ‘আমি সপ্তাহে অন্তত একদিন এখানে পিজা খেতে আসি। স্বাদ খুব ভালো। অন্য জায়গার তুলনায় দাম কম হলেও মান অনেক ভালো।’
এফএ/জেআইএম
বিজ্ঞাপন