বিজ্ঞাপন
যুক্তরাষ্ট্রে ওষুধের দাম রেকর্ড পরিমাণ কমার খবরে উচ্ছ্বসিত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সাংবাদিকদের সামনে দ্য ওয়াশিংটন পোস্টের একটি খবর তুলে ধরে একে নিজের সাফল্য হিসেবে জাহির করেছেন তিনি। কিন্তু সেই খবরের ভেতরের তথ্য বলছে অন্য কথা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ওষুধের দাম কমার পেছনে ট্রাম্প প্রশাসনের নীতির চেয়ে তার পূর্বসূরি জো বাইডেনের আমলে নেওয়া পদক্ষেপের প্রভাবই বেশি।
শনিবার (১৫ আগস্ট) ট্রাম্পের ওই ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে প্রচার করে হোয়াইট হাউজ। ছবিতে ট্রাম্পের হাতে দেখা যায় ওয়াশিংটন পোস্টের একটি প্রতিবেদন।
আরও পড়ুন
‘সুন্দরী’ লেভিট যেভাবে হয়ে ওঠেন ট্রাম্পের ‘সবচেয়ে বিশ্বস্ত’ সহযোগী
প্রতিবেদনের শিরোনাম ছিল, ‘প্রেসক্রিপশন ওষুধের দাম ৬০ বছরেরও বেশি সময়ের মধ্যে সবচেয়ে দ্রুত কমেছে।’
ছবির সঙ্গে হোয়াইট হাউজের সামাজিকমাধ্যমের অ্যাকাউন্টে লেখা হয়, ‘POV: you bring the receipts।’ হোয়াইট হাউজের প্রেস সচিব ক্যারোলিন লেভিটও ছবিটি শেয়ার করেন।
সাংবাদিকদের সামনে ‘প্রমাণ’ দেখালেন ট্রাম্প
শুক্রবার সাংবাদিকদের সঙ্গে এক পরিকল্পিত ফটো-অপের সময় ট্রাম্প নিজেই ওই খবরের কাগজ হাতে তুলে ধরেছিলেন। খবরের শিরোনামের পাশাপাশি প্রতিবেদনের প্রথম পাঁচটি লাইনও কাগজে দেখা যাচ্ছিল।
সাংবাদিকদের ছবি তুলতে এবং তা রেকর্ড করতে উৎসাহিত করেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, ‘আজকের শিরোনাম ঠিক এটাই। দেখেছেন?’
এর পর খবরটির ইতিবাচক অংশ সাংবাদিকদের পড়ে শোনান তিনি। ক্যামেরার সামনে আবার কাগজটি তুলে ধরে জানতে চান, ‘সবাই পেয়েছেন তো? আমি বলেছিলাম, এমনটাই হবে।’
আরও পড়ুন
হরমুজ প্রণালিকে শিগগির ‘যুক্তরাষ্ট্রের এলাকা’ ঘোষণা করবেন ট্রাম্প
সাংবাদিকদের এই খবর সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার কথাও বলেন ট্রাম্প। দুই হাত ছড়িয়ে দিয়ে তিনি বলেন, ‘প্রেসক্রিপশন ওষুধের দাম ৬০ বছরের মধ্যে যে কোনও সময়ের তুলনায় বেশি কমেছে। আর কী বলব?’
কিন্তু খবরের ভেতরের ছবিটা আলাদা
ট্রাম্প যে খবরটি হাতে তুলে ধরে নিজের সাফল্য হিসেবে দেখাচ্ছিলেন, সেই ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদনটিই তার দাবির সঙ্গে পুরোপুরি একমত নয়।
গত বৃহস্পতিবার প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জুলাইয়ে গত বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রেসক্রিপশন ওষুধের দাম ৬০ বছরেরও বেশি সময়ের মধ্যে সবচেয়ে বেশি কমেছে।
ট্রাম্প প্রশাসন এর কৃতিত্ব দাবি করলেও স্বাধীন বিশেষজ্ঞেরা মনে করছেন, দাম কমার পেছনে বাইডেন আমলের একটি নীতির প্রভাবই বেশি। সেই নীতির নাম ‘ইনফ্লেশন রিডাকশন অ্যাক্ট’।
বাইডেনের আইনেই কমছে ওষুধের দাম?
২০২২ সালে বাইডেন প্রেসিডেন্ট থাকাকালীন ইনফ্লেশন রিডাকশন অ্যাক্ট পাস হয়। এই আইনের আওতায় বয়স্কদের জন্য সরকারি স্বাস্থ্য সেবা কর্মসূচি মেডিকেয়ারকে কিছু জনপ্রিয় ও দামি ওষুধের মূল্য নিয়ে সরাসরি ওষুধ প্রস্তুতকারক সংস্থাগুলির সঙ্গে দর কষাকষির সুযোগ দেওয়া হয়। এই নীতির আওতায় প্রথম দফার মূল্যহ্রাস চলতি বছরের শুরুতে কার্যকর হয়।
আরও পড়ুন
গুরুতর অসুস্থ বাইডেন
হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতির অধ্যাপক রিচার্ড ফ্র্যাঙ্ক ওয়াশিংটন পোস্টকে বলেন, ওষুধের দাম কমার পেছনে ট্রাম্পের নীতির ভূমিকা নিয়ে তিনি সন্দিহান। তার মতে, ইনফ্লেশন রিডাকশন অ্যাক্টের সঙ্গে সম্পর্কিত পদক্ষেপই সম্ভবত সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলেছে।
ভ্যান্ডারবিল্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্যনীতি বিভাগের অধ্যাপক স্ট্যাসি ডুসেটজিনাও একই ধরনের মত দিয়েছেন। তার বক্তব্য, ট্রাম্প প্রশাসনের উদ্যোগের চেয়ে বাইডেনের স্বাক্ষর করা আইনটিই ওষুধের দাম কমার বেশি সম্ভাব্য কারণ।
এই আইনের আওতায় এখনও পর্যন্ত মাত্র ১০টি ওষুধের দাম নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তবে সেগুলো বহুল ব্যবহৃত হওয়ায় দাম কমার প্রভাব সামগ্রিক প্রেসক্রিপশন ওষুধের মূল্যসূচকেও পড়তে পারে বলে মনে করেন ডুসেটজিনা।
জুলাইয়ে ওষুধের দাম কমেছে ৩ দশমিক ১ শতাংশ
যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরোর প্রকাশিত ভোক্তা মূল্যসূচকের তথ্য অনুযায়ী, জুলাইয়ে প্রেসক্রিপশন ওষুধের দাম ৩ দশমিক ১ শতাংশ কমেছে।
আরও পড়ুন
৯ মাস সাগরে / আত্মহত্যার ঝুঁকিতে মার্কিন রণতরির ৫ হাজার নাবিক
এই তথ্যই সামনে রেখে ট্রাম্প প্রশাসন নিজেদের সাফল্যের প্রচার করছে। হোয়াইট হাউজের যোগাযোগবিষয়ক পরিচালক স্টিভেন চিউংও ওয়াশিংটন পোস্টের ওই খবরের শিরোনামের একটি স্ক্রিনশট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করেন। তবে খবরটির লিংক দেননি তিনি।
স্ক্রিনশটের সঙ্গে চিউং লেখেন, ‘সব কৃতিত্ব প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের!’
ফলে ওষুধের দাম কমার কৃতিত্ব নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের প্রচারের সঙ্গে স্বাধীন বিশেষজ্ঞদের বিশ্লেষণের ফারাক স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ানকেএএ/
বিজ্ঞাপন