জাতীয়

‘রূপান্তরমূলক’ প্রতিরক্ষা নীতি ইরানের, সামরিক রদবদলে স্পষ্ট প্রতিফলন

j
jagonews24 অনলাইন ডেস্ক
6 বার পঠিত
বিজ্ঞাপন Ad
সম্প্রতি সশস্ত্র বাহিনীতে ছয়জন শীর্ষ সামরিক কমান্ডারকে নিয়োগ দিয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা মোজতবা খামেনি। এই পদায়ন ইরানের প্রতিরক্ষা নীতিতে একটি ‘রূপান্তরমূলক’ পরিবর্তনের প্রতিফলন। ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আইআরজিসির উপ-রাজনৈতিক প্রধান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইয়াদোল্লাহ জাভানি। তিনি বলেন, আমরা কখনো যুদ্ধ শুরু করিনি। কিন্তু আমরা এখন যেহেতু যুদ্ধের মধ্যে রয়েছি এবং শত্রু সুযোগ খুঁজছে, তাই এসব নিয়োগের আদেশ ও এর বার্তা শত্রুর বুঝা উচিত। প্রয়োজনে আমাদের সশস্ত্র বাহিনী রূপান্তরমূলক কৌশল গ্রহণ করবে। তবে, এই রূপান্তরমূলক কৌশল নিয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য দেননি জাভানি। জাভানি বলেন, শত্রুকে জানতে হবে, তারা আমাদের বিরুদ্ধে আকস্মিক কোনো পদক্ষেপ নিতে পারবে না এবং আমাদের অপ্রস্তুত অবস্থায় ফেলতে পারবে না। বরং সম্ভবত এখন তাদেরই কৌশলগত আকস্মিকতার আশঙ্কায় থাকতে হবে। তিনি আরও বলেন, নতুন নিয়োগ পাওয়া সব কমান্ডারই ইরান-ইরাক যুদ্ধের অভিজ্ঞতা সম্পন্ন এবং শীর্ষ কমান্ডারদের নিহত হওয়ার পর যুদ্ধক্ষেত্রে তারা নিজেদের সক্ষমতার প্রমাণ দিয়েছেন। আগের যুদ্ধটি শত্রুপক্ষের ‘ভুল হিসাবের’ মাধ্যমে শুরু হলেও তারা লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে। এছাড়াও তিনি দাবি করেছেন, যুদ্ধে ইসরায়েল খুবই দুর্বল প্রতিপক্ষ; ইরানের বিরুদ্ধে দেশটির এককভাবে যুদ্ধ চালানোর সক্ষমতা নেই। যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন ছাড়া ইসরায়েল এই সংঘাতে প্রবেশই করতে পারত না। গত সপ্তাহে মোজতবা খামেনির নিয়োগ দেওয়া ৬ সামরিক কর্মকর্তা হলেন- ১) মেজর জেনারেল পাইলট আলী আবদোল্লাহি- ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর জেনারেল স্টাফের প্রধান। ২) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল কিয়ুমার্স হেইদারি-জেনারেল স্টাফের উপপ্রধান। ৩) মেজর জেনারেল আহমাদ ওয়াহিদি-আইআরজিসির নতুন কমান্ডার-ইন-চিফ; এর আগে তিনি প্রতিরক্ষামন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্বও পালন করেছেন। ৪) মেজর জেনারেল মোস্তফা ইজাদি-আইআরজিসির উপপ্রধান/ডেপুটি কমান্ডার-ইন-চিফ। ৫) রিয়ার অ্যাডমিরাল আলী ওজমাইয়ি-আইআরজিসি নৌবাহিনীর কমান্ডার। ৬) হোজ্জাতোলেসলাম হোসেইন তাইয়েব-বাসিজ রেজিস্ট্যান্স ফোর্সের প্রধান; তিনি আগে আইআরজিসির গোয়েন্দা সংস্থার প্রধান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।প্রসঙ্গত, জেনেভা শহরে আলোচনা চলা অবস্থায় গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে হামলা চালায় মার্কিন-ইসরায়েলি যৌথবাহিনী। এতে আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিসহ বেশকিছু শীর্ষ কর্মকর্তা নিহত হন। এর প্রতিবাদে ৩৯ দিনে ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে ১০০ দফা হামলা চালায় ইরান। এরপর ইরানের ১০ দফা প্রস্তাবের ভিত্তিতে ৭ এপ্রিল যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দেন ট্রাম্প। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ৮ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয় এবং ১১ এপ্রিল ইসলামাবাদে সরাসরি বৈঠক করেন দুই দেশের প্রতিনিধিরা। আলোচনা ফলপ্রসূ না হওয়া ১৩ এপ্রিল হরমুজে নৌ-অবরোধ আরোপ করা হয়। এরপর কয়েক দফা যুদ্ধবিরতির সময় বাড়ান ট্রাম্প। সর্বশেষ, ইরানের ১৪ দফা শর্তের ভিত্তিতে চলতি সপ্তাহে একটি সমঝোতা স্মারক নিয়ে সমঝোতায় পৌঁছায় দুই পক্ষ। অ্যাক্সিওস এর সংবাদের তথ্য মতে, ১৪ দফার ভিত্তিতে দুই পক্ষ ৬০ দিনের জন্য আলোচনায় সম্মত হয়েছে এবং ইরানের ওপর হামলা তথা যুদ্ধ বন্ধের বিনিময়ে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া হয়েছে। ইরানের লিগ্যাল মেডিসিন সংস্থার তথ্যমতে, ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ১০ এপ্রিল পর্যন্ত সংঘাতে মোট ৩ হাজার ৩৭৫ জন নিহত হন, যার মধ্যে ২ হাজার ৮৭৫ জন পুরুষ এবং ৪৯৬ জন নারী। এছাড়া জরুরি চিকিৎসা বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, এই যুদ্ধে ১১৮ জন চিকিৎসাকর্মী আহত হন এবং ২৬ জন নিহত হন। সূত্র: মেহের নিউজ এজেন্সি কেএম 
বিজ্ঞাপন Ad
পাঠকের মতামত
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন Ad
বিজ্ঞাপন Ad

সম্পাদক ও প্রকাশক: <b>ডি. হাসান. খান</b> | নির্বাহী সম্পাদক: <b>এ. এইচ. সুমন</b>
<div><b>বেলভিউ টাওয়ার ৭১ বীর উত্তম সিআর দত্ত রোড, হাতিরপুল, ঢাকা-১২০৫</b></div>