বিজ্ঞাপন
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজগুলোতে শিক্ষার্থীদের কর্মজীবনের জন্য প্রস্তুত করতে ক্যারিয়ার সেন্টার চালুর নির্দেশ দিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানুল্লাহ।
তিনি বলেছেন, ক্যারিয়ার সেন্টার শুধু চাকরির প্রস্তুতির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। এর সঙ্গে ল্যাঙ্গুয়েজ ক্লাব, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড এবং শিক্ষার্থীদের দক্ষতা, সৃজনশীলতা ও নেতৃত্বের বিকাশে সহায়ক বিভিন্ন কার্যক্রম যুক্ত করা হবে।
সোমবার (১৭ আগস্ট) সকালে ঢাকার লালমাটিয়া সরকারি মহিলা কলেজ মিলনায়তনে আয়োজিত ‘ব্রিজিং অ্যাসপিরেশন টু অ্যাচিভমেন্ট’ শীর্ষক ক্যারিয়ার সেন্টার প্রকল্পের গ্র্যাজুয়েশন উৎসবে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ ইউথ লিডারশিপ সেন্টার (বিওয়াইএলসি) ও লালমাটিয়া সরকারি মহিলা কলেজের যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি এমপ্লয়েবিলিটি রিফর্ম ইনিশিয়েটিভের (NUERI) ‘ব্রিজিং অ্যাসপিরেশন টু অ্যাচিভমেন্ট’ শীর্ষক ক্যারিয়ার সেন্টার প্রকল্পের গ্র্যাজুয়েশন উৎসবে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সোমবার (১৭ আগস্ট) সকালে ঢাকার লালমাটিয়া সরকারি মহিলা কলেজ মিলনায়তনে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
আরও পড়ুন
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে ৫ বছরে ফেল সব শিক্ষার্থীর পরীক্ষার সুযোগ
উপাচার্য বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে শিক্ষার্থীদের ক্যারিয়ার সম্পর্কে শুরু থেকেই সচেতন করে তোলা। ক্যারিয়ার সেন্টারের মাধ্যমে তারা নিজেদের আগ্রহ ও সক্ষমতা সম্পর্কে জানতে পারবে, প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জনের সুযোগ পাবে এবং ভবিষ্যৎ কর্মজীবনের জন্য পরিকল্পিতভাবে প্রস্তুতি নিতে পারবে।’
তিনি জানান, শিক্ষাব্যবস্থাকে সময়োপযোগী ও কর্মমুখী করতে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে। শিক্ষার্থীরা যাতে দেশের শ্রমবাজারের পাশাপাশি বৈশ্বিক প্রতিযোগিতাতেও নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণ করতে পারে, সে লক্ষ্যেই নতুন কর্মসূচি নেওয়া হচ্ছে। এআই, রোবোটিকস, ডেটা সায়েন্স ও হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্টসহ সময়ের চাহিদাসম্পন্ন ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের দক্ষ করে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
ড. আমানুল্লাহ বলেন, ‘এখনই যদি আমরা জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়কে সংস্কার করতে না পারি, তাহলে আগামী ২০ বছরেও হয়তো এই সুযোগ আসবে না। আমাদের কোনো ব্যক্তিগত এজেন্ডা নেই। আমাদের একটাই লক্ষ্য—জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়কে একটি সেন্টার অব এক্সিলেন্স হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা।’
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজগুলোর বাস্তবতা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘দেশের শিক্ষা ও উন্নয়ননীতির বড় অংশ এখনো শহরকেন্দ্রিক। অথচ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত বিপুলসংখ্যক কলেজ মফস্বল ও প্রত্যন্ত অঞ্চলে অবস্থিত। এসব কলেজের শিক্ষার মান ও সুযোগ-সুবিধা বাড়ানো বড় চ্যালেঞ্জ। তবে এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় পরিকল্পিতভাবে কাজ শুরু করেছে।’
ক্যারিয়ার সেন্টারগুলো শিক্ষার্থী ও কর্মক্ষেত্রের মধ্যে কার্যকর সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করবে উল্লেখ করে উপাচার্য বলেন, শিক্ষার্থীরা ক্যারিয়ার পরিকল্পনা, যোগাযোগ দক্ষতা, ভাষাগত সক্ষমতা, নেতৃত্ব, দলগত কাজ ও সমস্যা সমাধানসহ বিভিন্ন সফট স্কিল অর্জনের সুযোগ পাবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন ঢাকার রাশিয়ান দূতাবাসের ফার্স্ট সেক্রেটারি ও রাশিয়ান হাউসের পরিচালক আলেকজান্দ্রা খলেভনয়। স্বাগত বক্তব্য দেন লালমাটিয়া সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক সুলতানা মাহমুদা ইয়াসমীন। এ সময় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, বিওয়াইএলসি ও লালমাটিয়া সরকারি মহিলা কলেজের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এএএইচ/এমএমকে
বিজ্ঞাপন