ব্রেকিং নিউজ
জাতীয়

বাঁচানো গেল না চরের একমাত্র স্কুলটি

j
jagonews24 অনলাইন ডেস্ক
2 বার পঠিত
বিজ্ঞাপন Ad
গাইবান্ধায় নদীভাঙনের ছোবলে প্রতিবছর হাজার হাজার মানুষ ভিটেমাটি, ফসলি জমি ও সর্বস্ব হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়ে। ভাঙনের শিকার হয় শত শত সরকারি-বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ স্থাপনা। তারই ধারাবাহিকতায় সুন্দরগঞ্জে ভাঙনের হাত থেকে শেষ পর্যন্ত রক্ষা পেলো না ভোরের পাখি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। স্থানীয়রা জানায়, বিদ্যালয়টি চরবাসীর একমাত্র শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। নদীভাঙনে আশপাশের এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বিদ্যালয়টি রক্ষায় দীর্ঘদিন ধরে দ্রুত পদক্ষেপের দাবি জানিয়ে আসছিলেন তারা। এরই প্রেক্ষিতে ইউপি চেয়ারম্যান, ইউএনও, পানি উন্নয়ন বোর্ড ও জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্টরা ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছিলেন। কিন্তু বাস্তবে দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। সর্বশেষ ৮ আগস্ট পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করায় বিদ্যালয়টি রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপের আশায় ছিলেন স্থানীয়রা। তবে সেই আশাও শেষ পর্যন্ত হতাশায় পরিণত হয়েছে। নদীভাঙনের কবল থেকে বিদ্যালয়টি রক্ষা করা সম্ভব না হওয়ায় অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, নদীভাঙন রোধে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কারণে বিদ্যালয়টি রক্ষা করা গেল না। স্থানীয় কামাল হোসেন বলেন, শুকনা মৌসুমে নদীভাঙন রোধে কাজ করলে, বিদ্যালয়টির অস্তিত্ব আজ হারাতে হতো না। কাপাসিয়া ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক মো. জামাল উদ্দিন বলেন, টিও, এটিও, ইউএনও, পানি উন্নয়ন বোর্ড এবং ডিসিসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেছেন। নতুন করে যেন আর কোনো ক্ষতি না হয়, সে বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাসও দিয়েছিলেন তারা। বিশেষ করে চরবাসীর একমাত্র শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ভোরের পাখি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি রক্ষায় দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখজনক হলেও সত্য, আজ পর্যন্ত বিদ্যালয়টি রক্ষায় দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। বিদ্যালয়টি রক্ষায় দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিলে আজ এ করুণ দৃশ্য দেখতে হতো না। প্রতিষ্ঠানটির প্রধান শিক্ষক মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, গতকালও ক্লাস হয়েছে স্কুলে। ভোরে শুনলাম এ অবস্থা। সঙ্গে সঙ্গে এটিও স্যারকে জানাই। উনি এসেছেন। পরামর্শ করে ১৪ জন লেবার লাগিয়ে দিয়েছি। তারা বিদ্যালয়ের জিনিসপত্র নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিচ্ছেন। এরপর তারপরও একটি বেড়া ও ৩টি জানালা নদীতে চলে গেছে। প্রধান শিক্ষক আরও বলেন, মন্ত্রী, এমপি, পানি উন্নয়ন বোর্ড, ডিসি ও ইউএনও স্যার সবাই এসেছিলেন। খালি আশ্বাস পেয়েছি। একটা জিও ব্যাগও এ স্কুলের এরিয়ায় ফেলেনি, ফেললে হয়ত আজ এ ভয়াবহ দৃশ্য দেখতে হতো না। উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মুকুল চন্দ্র বর্মন বলেন, নদীভাঙন শুরু থেকে যখন যা হয়েছে বিষয়গুলো সংশ্লিষ্ট দপ্তরে জানানো হয়েছে। তারা কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেননি। সে কারণে আজ এ ভয়াবহ অবস্থা। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ঈফফাত জাহান তুলি বলেন, নতুন করে আবারো ভাঙন শুরু হয়েছে। বিষয়টি শুনেছি, প্রতিষ্ঠানটি অন্য স্থানে সরিয়ে নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। নদীভাঙনের বিষয়ে কারো কোনো হাত নেই, তবে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কোনো গাফিলতি আছে কি না বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শরিফুল ইসলাম বলেন, খবর পাওয়া মাত্র ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। আশা করি আজকের মধ্যে জিও ব্যাগ ফেলার কাজ শুরু হবে। আনোয়ার আল শামীম/এফএ/এএসএম
বিজ্ঞাপন Ad
পাঠকের মতামত
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন Ad
বিজ্ঞাপন Ad

সম্পাদক ও প্রকাশক: <b>ডি. হাসান. খান</b> | নির্বাহী সম্পাদক: <b>এ. এইচ. সুমন</b>
<div><b>বেলভিউ টাওয়ার ৭১ বীর উত্তম সিআর দত্ত রোড, হাতিরপুল, ঢাকা-১২০৫</b></div>