বিজ্ঞাপন
দেশের স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে বেশকিছু উদ্যোগ নিয়েছে বর্তমান সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে স্বাস্থ্য খাতে রেকর্ড ৬৯ হাজার ৪০১ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। তবে গত ছয় মাসে এ খাতে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি চোখে পড়েনি। যদিও প্রত্যাশিত অগ্রগতির জন্য ছয় মাস যথেষ্ট সময় নয় বলে মনে করছে সরকার ও খাত সংশ্লিষ্টরা।
বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের নির্বাচনি ইশতেহারের প্রতিশ্রুতি ও বাস্তব চিত্র বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, বড় অংকের বাজেট ও কিছু প্রশাসনিক উদ্যোগ দৃশ্যমান হলেও চিকিৎসাসেবার সার্বিক মানে সাধারণ মানুষ এখনো বড় কোনো পরিবর্তনের দেখা পায়নি।
আরও পড়ুন
টিকায় শতভাগ সফল, থামেনি মৃত্যু: এখন দায় কার?
তবে, সরকারের এই প্রাথমিক সময়ে কিছু নীতিগত ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ লক্ষ্য করা গেছে। নির্বাচনি ইশতেহারের প্রতিশ্রুতির সঙ্গে যা সামঞ্জস্যপূর্ণ। চলতি অর্থবছরে স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ বাড়িয়ে জিডিপির এক শতাংশের ওপরে (প্রায় ১.০২%) উন্নীত করা হয়েছে। এছাড়া স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে ১৯২টি স্বাস্থ্যসেবা স্থাপনা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। পাশাপাশি শহরাঞ্চলে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা প্রসারে প্রকল্প পাস হয়েছে একনেকে।
দৃশ্যমান সফলতা রয়েছে হঠাৎ দেখা দেওয়া হাম প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায়। দ্রুত ভ্যাকসিন কেনা এবং হাম নিয়ন্ত্রণে দৃশ্যমান হয়েছে সরকারের প্রচেষ্টা। তবে হামে ৯ শতাধিক শিশুর মৃত্যুর দায়ও এড়ানোর সুযোগ নেই। এছাড়া এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী ও ৫ হাজার নতুন চিকিৎসক নিয়োগের প্রক্রিয়া এবং ই-হেলথ কার্ডের নকশা প্রণয়নের কথা বলছে সরকার।
নতুন সরকারের কাছে মানুষের যে বিপুল প্রত্যাশা ছিল, তার পূর্ণ প্রতিফলন এখনো দেখা যায়নি। স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনার আমূল পরিবর্তন সময়সাপেক্ষ হলেও দ্রুত বাস্তবায়নযোগ্য কিছু পদক্ষেপের জন্য আরও কার্যকর রূপরেখা প্রয়োজন ছিল।— অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক ড. রুমানা হক
দায়িত্ব নেওয়ার পর খুলনা, বরিশাল, রংপুর, রাজশাহী ও কুমিল্লায় ২০০ শয্যার পাঁচটি বিশেষায়িত শিশু হাসপাতালের কাজ শুরু হয়েছে। এছাড়াও সারাদেশে হাসপাতালের সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি এক জনসভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের ৫০৩ উপজেলা হাসপাতাল ১৫১ বেডে উন্নীত করার ঘোষণা দিয়েছেন।
যদিও বড় বাজেট ও অবকাঠামোগত ঘোষণার বাইরে কাঠামোগত বা প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের জায়গায় এখনো বড় ঘাটতি রয়েছে।
আরও পড়ুন
সরকারি ডায়ালাইসিস মেশিন বন্ধ, নেপথ্যে ‘অসম’ চুক্তি
কথা হয় অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক ড. রুমানা হকের সঙ্গে। জাগো নিউজকে তিনি বলেন, নতুন সরকারের কাছে মানুষের যে বিপুল প্রত্যাশা ছিল, তার পূর্ণ প্রতিফলন এখনো দেখা যায়নি। স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনার আমূল পরিবর্তন সময়সাপেক্ষ হলেও দ্রুত বাস্তবায়নযোগ্য কিছু পদক্ষেপের জন্য আরও কার্যকর রূপরেখা প্রয়োজন ছিল।
সরকারের এসব উদ্যোগ মূলত টুকরো টুকরো নিয়মিত কার্যক্রম ও ইচ্ছা পূরণের তালিকা। স্বাস্থ্য খাতকে স্থায়ীভাবে এগিয়ে নিতে হলে সবার আগে একটি ‘স্বাধীন স্বাস্থ্য কমিশন’ গঠন করা উচিত, যা সংস্কারের পরিকল্পনা ও অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করবে।— জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. মুশতাক হোসেন
রুমানা হক বলেন, শুধুমাত্র অবকাঠামো বা হাসপাতাল নির্মাণের ঘোষণা আসলেও তৃণমূলে বা প্রাইমারি হেলথ কেয়ারে বিনিয়োগ এবং এক লাখ লোক নিয়োগের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও সঠিক কর্মপরিকল্পনা এখনো স্পষ্ট নয়। নতুন উন্নয়ন বাজেট এবং অর্থ ব্যবহারের ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট কোনো দিকনির্দেশনাও বেশ অস্পষ্ট রয়ে গেছে।
আরও পড়ুন
১৮০ দিনের মূল্যায়নের মুখে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীরা, রদবদল নিয়ে জল্পনা
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. মুশতাক হোসেন জাগো নিউজকে বলেন, সরকারের এসব উদ্যোগ মূলত টুকরো টুকরো নিয়মিত কার্যক্রম ও ইচ্ছা পূরণের তালিকা। স্বাস্থ্য খাতকে স্থায়ীভাবে এগিয়ে নিতে হলে সবার আগে একটি ‘স্বাধীন স্বাস্থ্য কমিশন’ গঠন করা উচিত, যা সংস্কারের পরিকল্পনা ও অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করবে।
নিজেদের ছয় মাসের কার্যক্রমে সন্তুষ্টির বিষয়ে স্বাস্থ্য সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী জাগো নিউজকে বলেন, আমরা কাজ করছি। এখানে সন্তুষ্টি-অসন্তুষ্টির কিছু নেই।
আরও পড়ুন
পুরোনো ধারায় জনপ্রশাসন, নিয়োগ-পদোন্নতিতে পিছু ছাড়ছে না বিতর্ক
নির্বাচনি ইশতেহার ও বাজেটের বড় অংকের প্রতিশ্রুতির বিচারে সরকারের প্রথম ছয় মাসকে ‘পরিকল্পনা ও প্রস্তুতি পর্ব’ বলা চলে। বাজেট বরাদ্দ, প্রশাসনিক হস্তান্তর বা পদ সৃজনের ক্ষেত্রে সরকারের সদিচ্ছা ও সাফল্য দেখা গেলেও সাধারণ মানুষ এখনো চিকিৎসাসেবার মানোন্নয়নের ক্ষেত্রে বড় কোনো পরিবর্তন বা সুফল সেভাবে দেখতে পায়নি।
এসইউজে/কেএসআর
বিজ্ঞাপন