বিজ্ঞাপন
কলকাতা নিউমার্কেট চত্বরের একটি হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে বাংলাদেশি নাগরিকদের মৃত্যুর ঘটনায় মুখ খুলেছে সেখানকার বাংলাদেশ উপ-হাইকমিশন। উপ-হাইকমিশনের প্রথম সচিব ওমর ফারুক জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই স্থানীয় প্রশাসন ও হাসপাতালগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। একই সঙ্গে, হতাহত বাংলাদেশি নাগরিকদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহের কাজ চলছে।
অগ্নিকাণ্ডের বিষয়ে ওমর ফারুক বলেন, গত রাতে একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে। এতে কয়েকজন বাংলাদেশি নাগরিকের অকালমৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।
আরও পড়ুন
কলকাতায় হোটেলে আগুন / বেঁচে ফেরা বাংলাদেশিরা জানালেন ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা
খবর পাওয়ার পরপরই কলকাতায় অবস্থিত বাংলাদেশের উপ-হাইকমিশন স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করে। একই সঙ্গে, সকালে বিভিন্ন হাসপাতালে খোঁজ নেওয়া হয়, সেখানে কোনো বাংলাদেশি নাগরিক আহত অবস্থায় ভর্তি রয়েছেন কি না।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের ডেপুটি হাইকমিশনার নিজেও হাসপাতালে গিয়ে আহত বা অন্য কোনো বাংলাদেশি নাগরিক সেখানে রয়েছেন কি না, সে বিষয়ে খোঁজখবর নেন।
এরপর থেকে কলকাতা পুলিশ, নিউমার্কেট থানা এবং স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে বলে জানান তিনি।
নিহতদের মধ্যে বাংলাদেশি কতজন?
ওমর ফারুক জানান, এখন পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, অগ্নিকাণ্ডে প্রায় নয়জনের মৃত্যু হয়েছে। তাদের মধ্যে পাঁচজন বাংলাদেশি নাগরিক হিসেবে নিশ্চিত হওয়া গেছে। নিহত আরও তিনজনের পরিচয় এখনো পাওয়া যায়নি। তাদের পরিচয় জানার চেষ্টা চলছে।
আরও পড়ুন
কলকাতায় হোটেলে আগুন / জরাজীর্ণ ভবনে চলছিল রমরমা ব্যবসা, মানা হতো না কোনো নিয়ম
কুষ্টিয়ার চারজন, ঢাকার একজন
প্রথম সচিব ওমর ফারুক জানান, প্রাথমিকভাবে শনাক্ত হওয়া বাংলাদেশিদের মধ্যে চারজনের বাড়ি কুষ্টিয়ায়। আরেকজন ঢাকার আমিনবাজার এলাকার বাসিন্দা।
নিহত বাংলাদেশি নাগরিকদের বেশিরভাগই চিকিৎসার জন্য কলকাতায় গিয়েছিলেন বলে ধারণা করছে উপ-হাইকমিশন।
তবে নিহতদের পরিচয়, ঠিকানা ও কলকাতায় যাওয়ার উদ্দেশ্যসহ অন্যান্য তথ্য যাচাই করা হচ্ছে।
মরদেহ দেশে ফেরানোর উদ্যোগ
নিহত বাংলাদেশি নাগরিকদের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ওমর ফারুক।
তিনি বলেন, পশ্চিমবঙ্গের প্রশাসন ও ভারতীয় প্রশাসনের প্রয়োজনীয় কার্যক্রম শেষ হওয়ার পর বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা হবে। একই সঙ্গে, নিহতদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রশাসনিক ও আইনি প্রক্রিয়া শেষ হলে মরদেহগুলো বাংলাদেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হবে বলে জানান তিনি।
ডিডি/কেএএ/
বিজ্ঞাপন