জাতীয়

জার্মানিতে এসে জীবনের কঠিন শিক্ষা

j
jagonews24 অনলাইন ডেস্ক
10 বার পঠিত
বিজ্ঞাপন Ad
এমকে হক, জার্মানি জার্মানিতে আসার পর প্রথম দিকে মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে অনেক ভুল ধারণা পোষণ করতাম। কারও সঙ্গে একটু ভালোভাবে কথা হলেই মনে হতো, সে হয়তো আমার খুব কাছের মানুষ। কেউ সামান্য সাহায্য করলেই ভাবতাম, এই মানুষটা সবসময় আমার পাশে থাকবে। আবার কেউ কোনো বিষয়ে আমার সঙ্গে একমত না হলে মনে হতো, সে হয়তো আমাকে পছন্দ করে না। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই ধারণা ধীরে ধীরে বদলাতে শুরু করে। বুঝতে পারি, মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক এতটা সাদা-কালো নয়। কেউ আপনার বন্ধু হলেও আপনার সব সিদ্ধান্তের সঙ্গে একমত হবে না। আবার কেউ খুব বেশি ঘনিষ্ঠ না হয়েও কঠিন সময়ে আপনার পাশে দাঁড়াতে পারে। বিদেশে এসে এই বাস্তবতা আরও স্পষ্টভাবে উপলব্ধি করেছি। এখানে নিজের পরিবার, শৈশবের বন্ধু বা পরিচিত মানুষ সবাইকে পাশে পাওয়া যায় না। তখন নতুন কিছু মানুষের সঙ্গে পরিচয় ঘটে। কেউ সত্যিই সাহায্য করতে চায়, কেউ শুধুমাত্র প্রয়োজনের সময় কাছে আসে, আবার কেউ আপনার ভালো দেখেও অস্বস্তি বোধ করতে পারে। আরও পড়ুন সৌদিতে কোরআন প্রতিযোগিতায় প্রথম বাংলাদেশের হাফেজ জাকারিয়া আগে এসব বিষয় নিয়ে আমি অনেক ভেবে কষ্ট পেতাম। এখন আর অতটা ভাবি না। এখন আমি মানুষকে তার কথার চেয়ে তার আচরণ দিয়ে বিচার করি। কারণ মানুষ কী বলছে, তা সবসময় গুরুত্বপূর্ণ নয়; বরং সে আপনার অনুপস্থিতিতে কী করছে, আপনার কঠিন সময়ে কীভাবে পাশে দাঁড়াচ্ছে, আর আপনার ভালো সময়ে কীভাবে প্রতিক্রিয়া দিচ্ছে- সেটাই আসল পরিচয়। একটা সময় কারও আমার সাফল্যে খুশি না হওয়া আমাকে কষ্ট দিত। এখন মনে হয়, সবাইকে আমার জন্য খুশি হতে হবে- এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। আমার জীবন আমার নিজের। কেউ অভিনন্দন জানাবে, কেউ চুপ থাকবে, কেউ হয়তো সমালোচনা করবে- এটাই বাস্তবতা। তাই নিজের কাজ করে যাওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ উপলব্ধি হলো- কাউকে জীবনে রাখার আগে তার সঙ্গে পরিচয়ের সময় নয়, তার প্রভাব দেখা জরুরি। তার সঙ্গে থেকে আপনি কেমন মানুষ হয়ে উঠছেন, সেটাই আসল বিষয়। যদি কেউ আপনাকে অনুপ্রাণিত করে, সত্য কথা বলে, ভুল ধরিয়ে দেয় এবং আপনার ভালো চায়- তাকে ধরে রাখা উচিত। আর যদি কেউ নিয়মিত আপনাকে ছোট করে, স্বপ্ন নিয়ে হাসে বা আত্মবিশ্বাস ভেঙে দেয়, তবে দূরত্ব তৈরি করাও এক ধরনের আত্মসম্মান। সব সম্পর্ক ধরে রাখার দরকার নেই। আবার সবাইকে হারিয়ে ফেলারও প্রয়োজন নেই। শুধু অন্ধভাবে সবাইকে জীবনে জায়গা দেওয়া বন্ধ করতে হয়। জার্মানিতে এসে আমার সবচেয়ে বড় শিক্ষা সম্ভবত এটিই- মানুষকে চিনতে শিখুন, কিন্তু ঘৃণা করতে শিখবেন না। সবাই আপনার জীবনে থাকার জন্য আসে না। কেউ শেখাতে আসে, কেউ সাহায্য করতে আসে, আবার কেউ কেবল একটি শিক্ষা দিয়ে চলে যায়। আর সময়ের সঙ্গে এটাও বুঝেছি, যাকে হারিয়েছি বলে একটা সময় কষ্ট পেয়েছি, কয়েক বছর পর দেখা যায় সেই দূরত্বই আমার জন্য ভালো ছিল। তাই এখন আমি মানুষ হারানোর চেয়ে নিজের মানসিক শান্তি হারানোকে বেশি ভয় পাই। কারণ মানুষ আবার ফিরে পাওয়া যায়, কিন্তু হারানো শান্তি ফিরে পাওয়া অনেক কঠিন। এমআরএম
বিজ্ঞাপন Ad
পাঠকের মতামত
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন Ad
বিজ্ঞাপন Ad

সম্পাদক ও প্রকাশক: <b>ডি. হাসান. খান</b> | নির্বাহী সম্পাদক: <b>এ. এইচ. সুমন</b>
<div><b>বেলভিউ টাওয়ার ৭১ বীর উত্তম সিআর দত্ত রোড, হাতিরপুল, ঢাকা-১২০৫</b></div>