বিজ্ঞাপন
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, একসময় কলেরায় গ্রাম উজাড় হয়ে যেত। বর্তমানে রোগটি নিয়ন্ত্রণে এলেও সাম্প্রতিক প্রাদুর্ভাবের কারণে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) অডিটোরিয়ামে আয়োজিত টিকাদান ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে সংবাদ সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
জাতীয় পর্যায়ের অন্যান্য টিকাদান কর্মসূচির মতো এ ক্যাম্পেইন সফল করতে সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা কামনা করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘পূর্বে কলেরায় গ্রাম উজাড় হয়ে যেত, যা বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে এলেও সাম্প্রতিক প্রাদুর্ভাবের কারণে আমাদের সতর্ক থাকতে হবে।’
একই সঙ্গে সাম্প্রতিক সময়ে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ভূমিকারও প্রশংসা করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে ডিএসসিসির প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম বলেন, পুরান ঢাকাসহ ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় ইপিআই কার্যক্রম বাস্তবায়নের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে ১৭টি ওয়ার্ডে কলেরা টিকাদান কর্মসূচি সফল করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ তারা।
২২ আগস্ট থেকে প্রথম ডোজস্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে দেশের ঝুঁকিপূর্ণ ১৪টি উপজেলা ও থানায় এ টিকাদান কর্মসূচি পরিচালিত হবে। আগামী ২২ আগস্ট থেকে ২১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রথম ডোজ এবং ২৬ সেপ্টেম্বর থেকে ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত দ্বিতীয় ডোজ দেওয়া হবে।
সম্পূর্ণ সুরক্ষার জন্য নির্ধারিত সময়ের ব্যবধানে দুই ডোজ টিকা গ্রহণ করতে হবে। এক বছর বা তার বেশি বয়সী সব নাগরিককে-গর্ভবতী নারী ছাড়া বিনামূল্যে সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত মুখে খাওয়ার কলেরার টিকা দেওয়া হবে।
এবার সারাদেশে মোট ৫১ লাখ ৭৫ হাজার মানুষকে টিকার আওতায় আনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
টিকা পাবেন ঢাকার চার থানায় প্রায় ১২ লাখ মানুষঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের লালবাগ, গেন্ডারিয়া, কদমতলী ও কামরাঙ্গীরচর থানার ১৭টি ওয়ার্ডে ১৯২টি কেন্দ্রে এ কর্মসূচি চলবে। এসব এলাকায় প্রায় ১১ লাখ ৭০ হাজার মানুষকে টিকা দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে।
এ ছাড়া ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের শেরেবাংলা নগর, খিলক্ষেত ও তেজগাঁও এবং মুন্সিগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নির্দিষ্ট এলাকাতেও টিকাদান কার্যক্রম পরিচালিত হবে।
কলেরা প্রতিরোধে টিকার পাশাপাশি স্বাস্থ্যবিধির ওপর গুরুত্ব
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, ‘ভিব্রিও কলেরি’ নামের জীবাণুর কারণে সৃষ্ট কলেরা প্রতিরোধে মুখে খাওয়ার এই টিকা ব্যবহার করা হচ্ছে। টিকা রোগের বিরুদ্ধে সুরক্ষা দেওয়ার পাশাপাশি আক্রান্ত হলে রোগের তীব্রতা কমাতেও সহায়তা করে। তবে শুধু টিকাদান নয়, কলেরা প্রতিরোধে নিরাপদ পানি পান, খাবার নিরাপদ রাখা এবং যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব শেখ মোমেনা মনি, ডিএসসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. খয়বর রহমান, ইউনিসেফের ডেপুটি রিপ্রেজেন্টেটিভ পিটার জর্জ এল মাইস, ডব্লিউএইচওর প্রতিনিধি ডা. আহমেদ জামশীদ মোহামেদ, বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির মহাসচিব মো. হাবিবুর রহমান খান, আইসিডিডিআর,বির সিনিয়র সায়েন্টিস্ট ড. ফিরদৌসী কাদরীসহ স্বাস্থ্য বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এমএমএ/এমএএইচ/
বিজ্ঞাপন