জাতীয়

মহাকাশে লাখ লাখ স্যাটেলাইট পাঠালে কী হবে

P
Prothom Alo অনলাইন ডেস্ক
2 বার পঠিত
বিজ্ঞাপন Ad

সাত বছর আগের কথা। সামান্থা ললার যখন তার সঙ্গীর সঙ্গে মিলে একটি খামার চালানোর জন্য কানাডার এক নিভৃত পল্লিতে পাড়ি জমালেন, তখন তাদের অন্যতম বড় আকর্ষণ ছিল রাতের আকাশ। শহুরে জীবনে ঘুটঘুটে অন্ধকার আর তারায় ভরা পরিষ্কার আকাশের কথা আপনি হয়তো কেবল স্বপ্নেই দেখতে পারেন। কিন্তু কানাডার সেই পল্লিতে তা ছিল নিত্যদিনের সাধারণ দৃশ্য।

সামান্থা পেশায় একজন জ্যোতির্বিজ্ঞানী, কাজ করেন কাছের রেজিনা বিশ্ববিদ্যালয়ে। খামারের ছাগল ও মুরগি সামলানোর ফাঁকে মহাবিশ্ব নিয়ে গবেষণা করাই তার কাজ। কিন্তু সেখানে যাওয়ার পর থেকেই তার এই স্বর্গের আকাশে নতুন এক উৎপাত শুরু হলো। এক ধরনের কৃত্রিম তারা ধীরে ধীরে দখল নিতে শুরু করল তার প্রিয় রাতের আকাশ। এগুলো হলো কৃত্রিম স্যাটেলাইট, যার বেশির ভাগেরই কাজ হলো পৃথিবীর এপ্রান্ত থেকে ওপ্রান্তে দ্রুতগতির ইন্টারনেট পৌঁছে দেওয়া।

২০১৯ সালে যখন সামান্থা সেখানে যান, ঠিক সেই বছরই টেক্সাসের কোম্পানি স্পেসএক্স তাদের স্টারলিংক স্যাটেলাইট নেটওয়ার্কের কাজ পুরোদমে শুরু করে। ওই বছরের মে মাসে তারা একধাপে ৬০টি স্যাটেলাইট মহাকাশে পাঠায়। এরপর থেকে এই সংখ্যা শুধু বেড়েছেই। গত মার্চ মাসেই স্পেসএক্সের সক্রিয় স্যাটেলাইটের সংখ্যা ১০ হাজার ছাড়িয়ে গেছে! সারা বিশ্বে তাদের ইন্টারনেট গ্রাহক এখন এক কোটির বেশি। বসে নেই অন্য দেশ বা কোম্পানিগুলোও। সব মিলিয়ে মহাকাশে প্রায় ২০ লাখ নতুন স্যাটেলাইট পাঠানোর এক বিশাল পরিকল্পনা চলছে। এই তালিকার সামান্য কিছুও যদি সফল হয়, তবে বর্তমানে পৃথিবীর চারপাশে ঘুরতে থাকা প্রায় ১৫ হাজার স্যাটেলাইটের সংখ্যাটিকে নিতান্তই নগণ্য মনে হবে।

গত মার্চ মাসেই স্পেসএক্সের সক্রিয় স্যাটেলাইটের সংখ্যা ১০ হাজার ছাড়িয়ে গেছে! সারা বিশ্বে তাদের ইন্টারনেট গ্রাহক এখন এক কোটির বেশি। বসে নেই অন্য দেশ বা কোম্পানিগুলোও।

এই বিপুল সংখ্যক স্যাটেলাইট কিন্তু আমাদের অনেক উপকারেও আসছে। দুর্গম এলাকায় আপনি এখন আগের চেয়ে অনেক দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য ইন্টারনেট পাচ্ছেন। গভীর সমুদ্রের জাহাজ বা মাঝ-আকাশের যাত্রীবাহী উড়োজাহাজেও পাওয়া যাচ্ছে ব্রডব্যান্ড কানেকশন। দুর্যোগের সময় সাধারণ নেটওয়ার্ক ভেঙে পড়লেও উদ্ধারকারীরা স্যাটেলাইটের মাধ্যমে কাজ চালিয়ে নিতে পারছেন। এমনকি যুদ্ধক্ষেত্রেও দূর থেকে ড্রোন চালানো যাচ্ছে। কিন্তু এত সব সুবিধার আড়ালে একটা বড় প্রশ্ন উঁকি দিচ্ছে—পৃথিবীর কক্ষপথে ঠিক কতগুলো স্যাটেলাইট আমরা নিরাপদে রাখতে পারব? এর কি কোনো নির্দিষ্ট সীমা আছে?

যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির গবেষক জিওভান্নি লাভেজ্জি মনে করেন, এখন পর্যন্ত আমরা কয়েক হাজার স্যাটেলাইট বেশ ভালোভাবেই সামলাতে পেরেছি। কিন্তু সমস্যা হলো, আমরা এই সীমাকে ঠিক কত দূর পর্যন্ত টেনে নিয়ে যেতে পারব? পৃথিবীর পৃষ্ঠ থেকে ২ হাজার কিলোমিটার ওপর পর্যন্ত এলাকাকে বলা হয় লো-আর্থ অরবিট। ২০২২ সালের একটি গবেষণায় বলা হয়েছিল, ২০০ থেকে ৯০০ কিলোমিটার উচ্চতার মধ্যে হয়তো ১ কোটি ২৬ লাখের মতো মহাকাশযান রাখা সম্ভব। কিন্তু ওই গবেষণায় ধরে নেওয়া হয়েছিল, স্যাটেলাইটগুলো একদম নিখুঁত নিয়মে চলবে, যা বাস্তবে অসম্ভব। ২০২৪ সালের আরেকটি অনেক বেশি বাস্তবসম্মত বিশ্লেষণে দেখা যায়, এই সীমা ১ কোটি থেকে ১০ কোটির মধ্যে যেকোনো সংখ্যা হতে পারে। এত বিশাল পার্থক্যের কারণে নীতিনির্ধারকদের জন্য কোনো নির্দিষ্ট সিদ্ধান্তে আসা বেশ কঠিন হয়ে পড়েছে।

২০২২ সালের একটি গবেষণায় বলা হয়েছিল, ২০০ থেকে ৯০০ কিলোমিটার উচ্চতার মধ্যে হয়তো ১ কোটি ২৬ লাখের মতো মহাকাশযান রাখা সম্ভব।

মহাকাশে ঠিক কতগুলো স্যাটেলাইট নিরাপদ

ইউনিভার্সিটি অব বার্মিংহামের মহাকাশ বর্জ্য বিশেষজ্ঞ হিউ লুইসের মতে, মহাকাশের ধারণক্ষমতা আসলে মানুষের শরীরের ভারসাম্য রক্ষার প্রক্রিয়ার মতো। আপনার শরীরের রক্তে শর্করার মাত্রা বা তাপমাত্রা যেমন একটি আরেকটির ওপর নির্ভর করে নিয়ন্ত্রিত হয়, কক্ষপথের ব্যাপারটিও ঠিক তেমনই। এখানে যন্ত্রপাতির বিকল হওয়ার হার, সংঘর্ষ এড়ানোর কৌশল এবং বায়ুমণ্ডলীয় বাধা একে অপরের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত।

বায়ুমণ্ডলীয় প্রভাবের কথা যদি বলি, গ্রিনহাউস গ্যাসের কারণে ওপরের বায়ুমণ্ডল আসলে উত্তপ্ত হওয়ার বদলে শীতল হয়ে যায়। ফলে ঘনত্ব কমে যায় এবং স্যাটেলাইটের ওপর বাতাসের যে প্রাকৃতিক বাধা থাকে, তা কমে আসে। অর্থাৎ, মহাকাশের আবর্জনা পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে পুড়ে ছাই হওয়ার আগে সেখানে আরও অনেক বেশি সময় আটকে থাকবে। লুইসের মতে, আমরা ইতিমধ্যেই নিরাপদ সীমার চেয়ে অনেক বেশি বস্তু মহাকাশে পাঠিয়ে ফেলেছি। তিনি কেসলার সিনড্রোমের কথাও স্মরণ করিয়ে দেন। তার হিসাব বলছে, ৫৫০ কিলোমিটারের ওপরের কক্ষপথে স্যাটেলাইটের সংখ্যা এখন এতটাই বেশি যে, আজ যদি সব রকেট উৎক্ষেপণ বন্ধও করে দেওয়া হয়, তারপরও টুকরোগুলো একে অপরের সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে আবর্জনার পরিমাণ বাড়তেই থাকবে!

গত জানুয়ারিতে স্পেসএক্সের প্রধান ইলন মাস্ক তো মহাকাশে ১০ লাখ ডেটা-সেন্টার স্যাটেলাইট বসানোর চোখ কপালে তোলার মতো এক ঘোষণা দিয়েছেন!

কিন্তু উৎক্ষেপণ তো আর থেমে নেই। গত বছর ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করা হয়েছে। এ বছর সেই রেকর্ডও ভাঙতে যাচ্ছে। মহাকাশ এখন এতটাই ব্যস্ত যে, ২০২৬ সালে কেবল চীন সরকারই ২ লাখ নতুন স্যাটেলাইটের অনুমোদন চেয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের স্টারক্লাউড চেয়েছে ৮৮ হাজার এবং ব্লু অরিজিন চেয়েছে ৫১ হাজার। আর গত জানুয়ারিতে স্পেসএক্সের প্রধান ইলন মাস্ক তো মহাকাশে ১০ লাখ ডেটা-সেন্টার স্যাটেলাইট বসানোর চোখ কপালে তোলার মতো এক ঘোষণা দিয়েছেন! ওয়াশিংটন ডিসির স্যাটেলাইট রেগুলেশন বিশেষজ্ঞ রুথ প্রিচার্ড-কেলি অবশ্য মনে করেন, এটি হয়তো কেবলই একটা ব্যবসায়িক চাল, যার মাধ্যমে স্পেসএক্স গত জুনে তাদের রেকর্ড ভাঙা আইপিওর পর কোম্পানির ২ ট্রিলিয়ন ডলারের ভ্যালুয়েশন ধরে রাখতে চাইছে। তবে এই সংখ্যার ভগ্নাংশও যদি মহাকাশে যায়, আকাশ আক্ষরিক অর্থেই স্যাটেলাইটে ভরে যাবে।

এর বিপদ কিন্তু ইতিমধ্যেই দেখা যাচ্ছে। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে স্পেসএক্সের এক রিপোর্টে জানা যায়, আগের বছর গ্রীষ্মে স্টারলিংক স্যাটেলাইটের আড়াই কেজি ওজনের একটি জ্বলন্ত টুকরো কানাডার সাসকাচোয়ানের এক খামারির জমিতে এসে পড়েছে। সামান্থা ললার সেই খামারির সঙ্গে যোগাযোগ করে জানতে পারেন, ঘটনাটি তার বাড়ি থেকে মাত্র তিন ঘণ্টার দূরত্বের! এটি প্রমাণ করে, মহাকাশ থেকে আবর্জনা পৃথিবীতে এসে পড়ার ঝুঁকি হয়তো কম, কিন্তু শূন্য নয়। ২০২৭ সালে ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থার ড্রাকো মিশন মহাকাশ থেকে পৃথিবীতে খসে পড়া বস্তুর এই জটিল প্রক্রিয়াটি নিয়ে আরও গভীরভাবে গবেষণা করবে।

মহাকাশ এখন এতটাই ব্যস্ত যে, ২০২৬ সালে কেবল চীন সরকারই ২ লাখ নতুন স্যাটেলাইটের অনুমোদন চেয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের স্টারক্লাউড চেয়েছে ৮৮ হাজার এবং ব্লু অরিজিন চেয়েছে ৫১ হাজার।

সংঘর্ষের ঝুঁকি ও স্বয়ংক্রিয় পথ পরিবর্তনের অদ্ভুত লড়াই

মহাকাশে স্যাটেলাইটগুলোর মধ্যে সংঘর্ষ এড়ানোর বিষয়টি এখন এক বিশাল চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ২০০৯ সালে মার্কিন ও বাতিল রুশ স্যাটেলাইটের মধ্যে এ যাবৎকালের একমাত্র বড় সংঘর্ষটি হয়েছিল, যার ফলে তৈরি হওয়া ২ হাজারের বেশি টুকরোর অর্ধেক আজও মহাকাশে ঘুরছে। ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থার গবেষক স্টিন লেমেনস মনে করেন, আরেকটি সংঘর্ষ হওয়াটা শুধু গাণিতিক সময়ের ব্যাপার। ক্যালিফোর্নিয়ার লিওনল্যাবসের বিশেষজ্ঞ ড্যারেন ম্যাকনাইটের মতে, ৮৪০ এবং ৯৭৫ কিলোমিটার উচ্চতায় এই ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি। কারণ ওই এলাকায় স্কুল বাসের আকারের অসংখ্য বাতিল রকেটের অংশ ভেসে বেড়াচ্ছে। তার হিসাব অনুযায়ী, এ বছরই ওই উচ্চতায় একটি বড় সংঘর্ষ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে ২৯ শতাংশ।

সংঘর্ষ এড়ানোর জন্য বর্তমানে স্পেসএক্সের স্টারলিংক স্যাটেলাইটগুলোকে প্রতিদিন গড়ে ১ হাজার বার নিজেদের পথ পরিবর্তন করতে হয়। আজ থেকে এক দশক আগেও এই সংখ্যাটি অবাস্তব মনে হতো। স্পেসএক্সের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিটি স্টারলিংক স্যাটেলাইট প্রতি ১০ মিনিট অন্তর তার আগামী ৪৮ ঘণ্টার যাত্রাপথ হিসাব করে এবং মার্কিন সেনাবাহিনীর ডেটাবেসের সঙ্গে তা মিলিয়ে দেখে। সংঘর্ষের বিন্দুমাত্র ঝুঁকি থাকলে (এমনকি ৩ কোটিতে ১ ভাগ ঝুঁকি থাকলেও) এটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে থ্রাস্টার চালু করে নিজের দিক পরিবর্তন করে। স্পেসএক্স গত বছর প্রায় ৩ লাখ বার এমন সংঘর্ষ এড়িয়েছে। কিন্তু স্পেসএক্স যদি সত্যিই ১০ লাখ স্যাটেলাইট পাঠায়, তবে হিউ লুইসের হিসাব অনুযায়ী বছরে ১০০ কোটি বার এই পথ পরিবর্তনের কাজ করতে হবে, যা আক্ষরিক অর্থেই যেকোনো সিস্টেমের জন্য অসম্ভব!

২০০৯ সালে মার্কিন ও বাতিল রুশ স্যাটেলাইটের মধ্যে এ যাবৎকালের একমাত্র বড় সংঘর্ষটি হয়েছিল, যার ফলে তৈরি হওয়া ২ হাজারের বেশি টুকরোর অর্ধেক আজও মহাকাশে ঘুরছে।

অন্ধকার আকাশের নিয়ম

১৯৬৭ সালের মহাকাশ আইন অনুযায়ী মহাকাশের কোনো অংশ কেউ দখল করতে পারবে না। কিন্তু অন্যান্য কোম্পানি যখন আসবে, তখন কক্ষপথের ৩৫০ থেকে ৫৫০ কিলোমিটারের মতো সবচেয়ে ভালো জায়গাগুলো কে পাবে?

জাতিসংঘের ইন্টারন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশনস ইউনিয়ন এই রেডিও স্পেকট্রাম বরাদ্দের বিষয়গুলো দেখাশোনা করলেও তারা এই বিশাল চাপের সঙ্গে তাল মেলাতে হিমশিম খাচ্ছে। ২০২৭ সালের অক্টোবরে চীনের সাংহাইতে তাদের একটি বড় সম্মেলন হওয়ার কথা রয়েছে, যেখানে হয়তো প্রতিটি সদস্য দেশের জন্য কক্ষপথের নির্দিষ্ট অংশ বরাদ্দের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হবে। এতে হয়তো কেউ একচেটিয়া আধিপত্য বিস্তার করতে পারবে না।

স্যাটেলাইটের এই আধিক্য জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের জন্যও বিশাল মাথাব্যথার কারণ। একটি গবেষণায় দেখা গেছে, মহাকাশে ৫ লাখ স্যাটেলাইট থাকলে পৃথিবীর যেকোনো টেলিস্কোপের ছবিতেই স্যাটেলাইটের দাগ চলে আসবে। আর সংখ্যাটি ১০ লাখে পৌঁছালে রাতের আকাশে তারার চেয়ে স্যাটেলাইটই বেশি দেখা যাবে! সামান্থা ললার আক্ষেপ করে বলেন, ‘আমরা আর মহাকাশ গবেষণাই করতে পারব না!’

পরিস্থিতি এতই ভয়াবহ যে, ললার ও তার দলের তৈরি ক্র্যাশ ক্লক অনুযায়ী, মহাকাশের সব স্যাটেলাইট যদি হঠাৎ কোনো কারণে অকেজো হয়ে যায়, তবে তিন দিনেরও কম সময়ের মধ্যে মহাকাশে স্যাটেলাইটগুলোর মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষ শুরু হবে। আমরা এখন আক্ষরিক অর্থেই স্পেসএক্সের মতো কোম্পানিগুলোর নিখুঁত প্রযুক্তির ওপর নির্ভরশীল। পৃথিবীর কক্ষপথের ধারণক্ষমতা হয়তো লাখ লাখ মহাকাশযানের জন্য নয়, বরং বর্তমানে থাকা স্যাটেলাইটগুলোর সংখ্যাই হয়তো এর চূড়ান্ত সীমা।

সূত্র: সায়েন্টিফিক আমেরিকান

বিজ্ঞাপন Ad
পাঠকের মতামত
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন Ad
বিজ্ঞাপন Ad

সম্পাদক ও প্রকাশক: <b>ডি. হাসান. খান</b> | নির্বাহী সম্পাদক: <b>এ. এইচ. সুমন</b>
<div><b>বেলভিউ টাওয়ার ৭১ বীর উত্তম সিআর দত্ত রোড, হাতিরপুল, ঢাকা-১২০৫</b></div>