জাতীয়

এসএসসির পর ডিপ্লোমার ১০ পথ, কোন শিক্ষায় কেমন চাকরি

j
jagonews24 অনলাইন ডেস্ক
6 বার পঠিত
বিজ্ঞাপন Ad
ফয়সাল হাবিব এসএসসি পাসের পর উচ্চমাধ্যমিকে ভর্তি হওয়াই শিক্ষার্থীদের একমাত্র পথ নয়। কারিগরি, কৃষি, স্বাস্থ্য ও ব্যবসাভিত্তিক বিভিন্ন ডিপ্লোমা কোর্স থেকেও দক্ষ পেশাজীবী হিসেবে কর্মজীবন শুরু করা সম্ভব। কৃষি, ফিশারিজ, ফরেস্ট্রি, সার্ভেয়িং, লাইভস্টক, পলিটেকনিক, ম্যাটস, প্রিন্টিং, বিএমটি বা ডিপ্লোমা ইন কমার্স এবং নার্সিং ডিপ্লোমা মিলিয়ে শিক্ষার্থীদের সামনে অন্তত দশটি বাস্তবমুখী বিকল্প রয়েছে। প্রতিটি কোর্সের ভর্তি কর্তৃপক্ষ, যোগ্যতা, আসন, মেয়াদ এবং চাকরির ক্ষেত্র ভিন্ন। নিচের তথ্যগুলো সাম্প্রতিক ভর্তি কাঠামোর আলোকে সাজানো হয়েছে। কিন্তু আসনসংখ্যা ও ন্যূনতম জিপিএ প্রতিবছর পরিবর্তিত হতে পারে বলে আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সর্বশেষ সরকারি বিজ্ঞপ্তি যাচাই করতে হবে। কৃষি ডিপ্লোমা ডিপ্লোমা ইন অ্যাগ্রিকালচার পড়তে দেশের ১৮টি সরকারি কৃষি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট বা এটিআই এবং বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ড অনুমোদিত বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হওয়া যায়। এসএসসি, দাখিল, ভোকেশনাল বা সমমান পাসের পর নির্ধারিত জিপিএসহ আবেদন করা যায়। সাম্প্রতিক ডিপ্লোমা ভর্তি কাঠামোতে সাধারণত ন্যূনতম জিপিএ ২ দশমিক ৫০ শর্ত দেখা যায়। কোর্সটি চার বছর বা আট সেমিস্টারের এবং এখানে ফসল উৎপাদন, সবজি, ফল ও ফুলচাষ, মৃত্তিকাবিজ্ঞান, সার ও সেচ ব্যবস্থাপনা, কৃষি যন্ত্রপাতি, রোগ-পোকা দমন, বীজ প্রযুক্তি, কৃষি অর্থনীতি, কৃষি সম্প্রসারণ এবং উদ্যোক্তা উন্নয়ন পড়ানো হয়। আসন সংখ্যা সরকারি এটিআই, শিফট ও শিক্ষাবর্ষভেদে আলাদা। তাই মোট আসন নির্ধারণে সর্বশেষ সিট ম্যাট্রিক্সই নির্ভরযোগ্য। সাধারণ ডিপ্লোমা নীতিমালায় একটি প্রযুক্তি বা গ্রুপে প্রায় ৫০ জন পর্যন্ত ভর্তি হতে পারে। কোর্স শেষে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা পদের জন্য বিজ্ঞপ্তির শর্তসাপেক্ষে আবেদন করা যায়। পাশাপাশি বীজ, সার, কৃষিযন্ত্র, কৃষি খামার, এনজিও ও কৃষি কোম্পানিতে ফিল্ড বা টেকনিক্যাল অফিসার হিসেবে কাজের সুযোগ থাকে। ফিশারিজ ডিপ্লোমা ফিশারিজ ডিপ্লোমা মাছ, পোনা, হ্যাচারি, পুকুর, ঘের ও আধুনিক জলজ খামারকেন্দ্রিক ক্যারিয়ার গড়তে সহায়তা করে। সরকারি মৎস্য প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট এবং অনুমোদিত বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে এসএসসি, দাখিল, এসএসসি ভোকেশনাল বা সমমান পাসের পর ভর্তি হওয়া যায়। ন্যূনতম জিপিএ এবং পাসের সাল সংশ্লিষ্ট শিক্ষাবর্ষের বিজ্ঞপ্তিতে নির্ধারিত থাকে। চার বছর বা আট সেমিস্টারের কোর্সে পুকুর, ঘের, খাঁচা ও বায়োফ্লক পদ্ধতিতে মাছচাষ, হ্যাচারি ব্যবস্থাপনা, পোনা উৎপাদন, পানি ও মাটির গুণমান, মাছের রোগ, ফিড ব্যবস্থাপনা, চিংড়ি চাষ, মাছ সংরক্ষণ, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও বিপণন শেখানো হয়। আসন সংখ্যা সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানভেদে ভিন্ন। আর চার বছর মেয়াদি ডিপ্লোমা কাঠামোয় প্রতি প্রযুক্তি বা গ্রুপে অনেক ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৫০ জন শিক্ষার্থী ভর্তির অনুমতি থাকে। সঠিক সংখ্যা জানতে আবেদনকালের সিট প্ল্যান দেখতে হবে। ডিপ্লোমা শেষে মৎস্য অধিদপ্তর, হ্যাচারি, মৎস্য ফিড কোম্পানি, বাণিজ্যিক খামার, প্রক্রিয়াজাতকরণ প্রতিষ্ঠান ও উন্নয়ন প্রকল্পে ফার্ম সুপারভাইজার, হ্যাচারি টেকনিশিয়ান বা ফিল্ড অফিসার হিসেবে কাজের সুযোগ পাওয়া যায়। নিজের পুকুর বা ঘেরে মাছচাষ, পোনা নার্সারি বা মাছের উপকরণ ব্যবসাও লাভজনক আত্মকর্মসংস্থানের পথ হতে পারে। ডিপ্লোমা ইন ফরেস্ট্রি প্রকৃতি, বন, গাছপালা, জীববৈচিত্র্য ও বন্যপ্রাণী নিয়ে কাজ করতে ইচ্ছুক শিক্ষার্থীদের জন্য ডিপ্লোমা ইন ফরেস্ট্রি একটি অর্থবহ বিকল্প। বন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট ও বোর্ড অনুমোদিত প্রতিষ্ঠানে এসএসসি বা সমমান পাসের পর ভর্তি হওয়া যায়। যেখানে ন্যূনতম জিপিএ এবং পাসের সাল ভর্তি বিজ্ঞপ্তিতে নির্ধারিত থাকে। চার বছর বা আট সেমিস্টারের এই কোর্সে বন ব্যবস্থাপনা, গাছ শনাক্তকরণ, বীজ সংগ্রহ, নার্সারি, চারা উৎপাদন, বৃক্ষরোপণ, সামাজিক ও উপকূলীয় বনায়ন, কৃষিবনায়ন, জীববৈচিত্র্য, বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ, বন আইন, জলবায়ু পরিবর্তন এবং জিপিএস/জিআইএস-এর ভিত্তি শেখানো হয়। আসন সংখ্যা প্রতিষ্ঠানভেদে পরিবর্তন হয়। তাই ভর্তি আবেদন করার আগে সরকারি সিট ম্যাট্রিক্স দেখে নেওয়া জরুরি। কোর্স শেষ করে বন অধিদপ্তর, সামাজিক বনায়ন প্রকল্প, বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা, সংরক্ষিত বনাঞ্চল, নার্সারি, পরিবেশবিষয়ক এনজিও ও সবুজায়ন প্রতিষ্ঠানে কর্মসংস্থানের সুযোগ থাকে। ২০২৬ সালের একটি নিয়োগতথ্যে বন অধিদপ্তরে ফরেস্টার পদে ৩৮২ জন নিয়োগের কথা জানানো হয়েছিল। যদিও ভবিষ্যৎ বিজ্ঞপ্তিতে শিক্ষাগত, শারীরিক ও বয়স সংক্রান্ত শর্ত বদলাতে পারে। আরও পড়ুন ঘর থেকেই গড়ে ওঠে তামান্নার সফলতার সিঁড়ি ডিপ্লোমা ইন সার্ভেয়িং জমি জরিপ, ভূমির সীমানা, নকশা, মানচিত্র, রিয়েল এস্টেট এবং নির্মাণ প্রকল্পে আগ্রহ থাকলে ডিপ্লোমা ইন সার্ভেয়িং উপযোগী। বাংলাদেশ সার্ভে ইনস্টিটিউট, কুমিল্লা ও রাজশাহী সরকারি সার্ভে ইনস্টিটিউট এবং বোর্ড অনুমোদিত পলিটেকনিকে সার্ভেয়িং টেকনোলজিতে ভর্তি নেওয়া হয়। এসএসসি বা সমমান পাসের পর ডিপ্লোমা ইন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের নির্ধারিত জিপিএ এবং গণিত বা উচ্চতর গণিতের যোগ্যতা পূরণ করে আবেদন করতে হয়। মেয়াদ চার বছর বা আট সেমিস্টার। ভূমি জরিপ, চেইন ও কম্পাস সার্ভে, লেভেলিং, থিওডোলাইট, টোটাল স্টেশন, জিপিএস/জিএনএসএস, ক্যাডাস্ট্রাল সার্ভে, ভূমি রেকর্ড, টপোগ্রাফিক ম্যাপ, অটো সিএডি, জিআইএস এবং সাইট সেটিং আউট এখানে পড়ানো হয়। আসন প্রতিষ্ঠানভেদে ভিন্ন। তবে ডিপ্লোমা পর্যায়ে প্রযুক্তি বা গ্রুপে ৫০ জন পর্যন্ত ভর্তির অনুমোদন থাকার সাধারণ বিধান রয়েছে। চূড়ান্ত সংখ্যা সিট প্ল্যান থেকেই জানতে হবে। ক্যারিয়ারে ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তর, ভূমি মন্ত্রণালয়, গণপূর্ত, এলজিইডি, সড়ক ও জনপথ, পানি উন্নয়ন বোর্ড, সিটি করপোরেশন, উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, কনসালট্যান্সি, রিয়েল এস্টেট ও নির্মাণ কোম্পানিতে সার্ভেয়ার, সাইট সার্ভেয়ার, ড্রাফটসম্যান বা সিএডি অপারেটর হওয়ার সুযোগ রয়েছে। ডিপ্লোমা ইন লাইভস্টক যারা গরু, ছাগল, হাঁস-মুরগি, ডেইরি, পশুখাদ্য ও খামার ব্যবস্থাপনা নিয়ে আগ্রহী, তাদের জন্য ডিপ্লোমা ইন লাইভস্টক একটি ব্যবহারিক শিক্ষা। সরকারি লাইভস্টক প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট এবং অনুমোদিত বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে এসএসসি, দাখিল, ভোকেশনাল বা সমমান পাসের পর ভর্তি হওয়া যায়। ন্যূনতম জিপিএ, বয়স এবং আবেদন পদ্ধতি সংশ্লিষ্ট বছরের বিজ্ঞপ্তিতে নির্ধারিত থাকে। চার বছর বা আট সেমিস্টারে গবাদিপশু ও পোলট্রি উৎপাদন, ডেইরি ব্যবস্থাপনা, পশুখাদ্য ও পুষ্টি, ঘাস চাষ, রোগ প্রতিরোধ, টিকাদান, কৃত্রিম প্রজনন, বায়োসিকিউরিটি, খামার পরিচ্ছন্নতা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং ফার্ম অর্থনীতি পড়ানো হয়। সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে আসনসংখ্যা ভিন্ন। তাই শিক্ষার্থীকে সর্বশেষ সিট ম্যাট্রিক্স অনুযায়ী প্রতিষ্ঠান বেছে নিতে হবে। ডিপ্লোমা শেষ করে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের প্রকল্প, ডেইরি ও পোলট্রি খামার, হ্যাচারি, ফিড মিল, ভেটেরিনারি সেবা-সহায়ক প্রতিষ্ঠান এবং প্রাণিস্বাস্থ্যপণ্য কোম্পানিতে টেকনিশিয়ান, ফার্ম সুপারভাইজার, ফিল্ড অফিসার বা টেকনিক্যাল অফিসার হিসেবে কাজ করা সম্ভব। নিজস্ব ডেইরি, লেয়ার, ব্রয়লার, ছাগল বা হাঁসের খামার গড়ার ক্ষেত্রেও এ কোর্সের বাস্তব মূল্য রয়েছে। আরও পড়ুন চাকরি খোঁজার প্রচলিত ধারা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে পলিটেকনিক ডিপ্লোমা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের ডিপ্লোমা ইন ইঞ্জিনিয়ারিং প্রযুক্তিনির্ভর কর্মজীবনের জন্য সবচেয়ে বহুমুখী একটি পথ। সরকারি পলিটেকনিক, টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ এবং অনুমোদিত বেসরকারি পলিটেকনিকে কম্পিউটার, সিভিল, ইলেকট্রিক্যাল, মেকানিক্যাল, পাওয়ার, ইলেকট্রনিকস, আর্কিটেকচার, অটোমোবাইল, রেফ্রিজারেশন অ্যান্ড এয়ার কন্ডিশনিং, টেক্সটাইল, ফুড ও কেমিক্যালসহ বিভিন্ন প্রযুক্তিতে ভর্তি নেওয়া হয়। এসএসসি বা সমমান পাসের পর অনলাইনে আবেদন করতে হয়। প্রযুক্তিভেদে গণিত বা উচ্চতর গণিতসহ নির্দিষ্ট জিপিএ শর্ত প্রযোজ্য। চার বছর বা আট সেমিস্টারের কোর্সে প্রকৌশল গণিত, বিজ্ঞান, ড্রইং, কম্পিউটার, ল্যাব, ওয়ার্কশপ, প্রযুক্তিভিত্তিক সফটওয়্যার, প্রকল্প, শিল্প নিরাপত্তা ও সংশ্লিষ্ট বিশেষায়িত বিষয় শেখানো হয়। আসনসংখ্যা প্রযুক্তি এবং প্রতিষ্ঠানভেদে ভিন্ন। তবে সাধারণ ডিপ্লোমা কাঠামোয় প্রতি গ্রুপ ও প্রযুক্তিতে ৫০ জন পর্যন্ত ভর্তির অনুমোদনের কথা উল্লেখ আছে। ডিপ্লোমা শেষে শিল্পকারখানা, নির্মাণ, বিদ্যুৎ, আইটি, টেলিকম, টেক্সটাইল, অটোমোবাইল, উৎপাদন ও সার্ভিস খাতে চাকরি করা যায়। আবার ডুয়েটসহ প্রাসঙ্গিক উচ্চশিক্ষায় যাওয়ার সুযোগও থাকে। ম্যাটস মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট ট্রেনিং স্কুল বা ম্যাটস হলো স্বাস্থ্যসেবা ও রোগী ব্যবস্থাপনায় সহায়ক পেশাজীবী তৈরির একটি বিশেষ কোর্স। সরকারি ও অনুমোদিত বেসরকারি ম্যাটসে স্বাস্থ্যশিক্ষা অধিদপ্তরের পৃথক ভর্তি বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে আবেদন করতে হয়। সাধারণত এসএসসি বা সমমানের বিজ্ঞান বিভাগ, জীববিজ্ঞান এবং নির্ধারিত জিপিএর শর্ত প্রযোজ্য থাকে। পাঠ্যক্রমের সময় সাধারণভাবে চার বছর। যেখানে তাত্তিক শিক্ষার পাশাপাশি ক্লিনিক্যাল ও ইন্টার্নশিপভিত্তিক প্রশিক্ষণ থাকে। এখানে মানবদেহের গঠন ও কার্যাবলি, রোগের প্রাথমিক ধারণা, রোগী পরীক্ষা, প্রাথমিক চিকিৎসা, জরুরি সেবা, মা ও শিশুস্বাস্থ্য, সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ, কমিউনিটি স্বাস্থ্য, ওষুধের মৌলিক ধারণা এবং রোগীর সঙ্গে যোগাযোগ শেখানো হয়। ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে সাতটি সরকারি ম্যাটসে মোট ৬৬৪টি আসনের তথ্য পাওয়া গেছে। তবে প্রতিষ্ঠান অনুমোদন ও আসনের সংখ্যা পরিবর্তন হতে পারে। কোর্স শেষে প্রযোজ্য নিবন্ধন ও বিধিমালা অনুসরণ করে হাসপাতাল, ক্লিনিক, ডায়াগনস্টিক সেন্টার, এনজিও, কমিউনিটি স্বাস্থ্যকেন্দ্র এবং স্বাস্থ্য প্রকল্পে মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবে কাজ করা যায়। কিন্তু এটি এমবিবিএস ডিগ্রির বিকল্প নয়। আরও পড়ুন সার্টিফিকেট মানে চাবি, ভেতরের কাজগুলোর জন্য কর্মদক্ষতা প্রয়োজন ডিপ্লোমা ইন প্রিন্টিং প্রিন্টিং টেকনোলজিতে ডিপ্লোমা এখন শুধু বই বা সংবাদপত্র ছাপার প্রশিক্ষণ নয়; বরং প্যাকেজিং, লেভেল, ব্র্যান্ডিং, ডিজিটাল প্রিন্টিং এবং গ্রাফিক প্রোডাকশন শিল্পের সঙ্গে যুক্ত একটি বিশেষায়িত শিক্ষা। সরকারি গ্রাফিক আর্টস ইনস্টিটিউট, ঢাকা এবং অনুমোদিত কারিগরি প্রতিষ্ঠান বা পলিটেকনিকে এসএসসি বা সমমান পাসের পর ডিপ্লোমা ইন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের নির্ধারিত শর্তে ভর্তি হওয়া যায়। কোর্সের মেয়াদ চার বছর বা আট সেমিস্টার। এতে প্রি-প্রেস, কম্পোজিং, টাইপসেটিং, গ্রাফিক ডিজাইনের ভিত্তি, অফসেট ও স্ক্রিন প্রিন্টিং, ডিজিটাল প্রিন্টিং, কালি ও কাগজ প্রযুক্তি, কালার ম্যানেজমেন্ট, বাইন্ডিং, প্যাকেজিং, মাননিয়ন্ত্রণ ও প্রোডাকশন ব্যবস্থাপনা পড়ানো হয়। আসনসংখ্যা প্রতিষ্ঠানভেদে আলাদা। তবে সাধারণ ডিপ্লোমা নীতিমালায় প্রতি প্রযুক্তিতে প্রায় ৫০ জন পর্যন্ত ভর্তির কাঠামো থাকতে পারে। যার চূড়ান্ত তথ্য সিট ম্যাট্রিক্সে পাওয়া যায়। প্রিন্টিং প্রেস, প্রকাশনা, প্যাকেজিং ও লেবেল ফ্যাক্টরি, বিজ্ঞাপন সংস্থা, ডিজিটাল প্রিন্ট হাউস এবং গ্রাফিক প্রোডাকশন ইউনিটে কাজ করা যায়। দক্ষতা ও পুঁজি থাকলে ডিজাইন, প্রিন্টিং, ফটোকপি, ল্যামিনেশন এবং ব্র্যান্ডিং সেবাভিত্তিক উদ্যোগ গড়ার সুযোগও রয়েছে। বিএমটি বা ডিপ্লোমা ইন কমার্স বিএমটি বা ব্যবসায় ব্যবস্থাপনা ও প্রযুক্তিনির্ভর বাণিজ্যশিক্ষা এবং ডিপ্লোমা ইন কমার্স মূলত হিসাবরক্ষণ, অফিস ব্যবস্থাপনা, ব্যবসা পরিচালনা, বিপণন ও ব্যাংকিংয়ের ভিত্তি তৈরির শিক্ষা। সরকারি ও বেসরকারি টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, বাণিজ্য কলেজ এবং বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ড অনুমোদিত প্রতিষ্ঠানে এসএসসি বা সমমান পাসের পর এই ধারায় ভর্তির সুযোগ থাকতে পারে। প্রতিষ্ঠানভেদে কোর্সের নাম, মেয়াদ, শিফট, আসন এবং যোগ্যতা ভিন্ন হওয়ায় বোর্ডের সংশ্লিষ্ট সার্কুলার ছাড়া নির্দিষ্ট সংখ্যা বলা নিরাপদ নয়। পাঠ্যক্রমে হিসাববিজ্ঞান, ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা, অর্থনীতি, ব্যাংকিং, বীমা, বিপণন, অফিস অ্যাপ্লিকেশন, কম্পিউটারাইজড অ্যাকাউন্টিং, ব্যবসায় যোগাযোগ এবং উদ্যোক্তা উন্নয়ন শেখানো হয়। এই শিক্ষার পর হিসাব সহকারী, অফিস সহকারী, ক্যাশিয়ার, সেলস ও মার্কেটিং সহকারী, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর, ক্ষুদ্র ব্যবসা ব্যবস্থাপক বা উদ্যোক্তা হিসেবে কাজের ভিত্তি পাওয়া যায়। উচ্চশিক্ষায় বিবিএ, হিসাববিজ্ঞান, ব্যবস্থাপনা, মার্কেটিং, ফাইন্যান্স বা ব্যাংকিং বিষয়ে পড়ার পথও খোলা থাকে। আরও পড়ুন শত বাধা পেরিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে ফুল-ফান্ডেড পিএইচডির অফার পেলেন মাসুম নার্সিং ডিপ্লোমা ডিপ্লোমা ইন নার্সিং সায়েন্স অ্যান্ড মিডওয়াইফারি স্বাস্থ্যসেবায় সরাসরি রোগীর পাশে কাজ করার লক্ষ্যে তৈরি একটি পেশাভিত্তিক কোর্স। সরকারি ও বেসরকারি নার্সিং কলেজ বা ইনস্টিটিউটে বাংলাদেশ নার্সিং অ্যান্ড মিডওয়াইফারি কাউন্সিলের অধীনে ভর্তি পরীক্ষা ও মেধাক্রমের মাধ্যমে ভর্তি নেওয়া হয়। সাম্প্রতিক ভর্তি শর্ত অনুযায়ী ডিপ্লোমা নার্সিং ও মিডওয়াইফারিতে যে কোনো বিভাগ থেকে এসএসসি ও এইচএসসি বা সমমান পাস করে দুই পরীক্ষায় মিলিয়ে ন্যূনতম জিপিএ ৬ এবং প্রতিটি পরীক্ষায় কমপক্ষে জিপিএ ২ দশমিক ৫০ প্রয়োজন। অর্থাৎ এটি এসএসসি শেষ করেই সরাসরি ভর্তি হওয়ার কোর্স নয়। এইচএসসি বা সমমানও সম্পন্ন করতে হয়। কোর্সটি তিন বছর একাডেমিক শিক্ষা এবং এক বছর ইন্টার্নশিপসহ মোট চার বছর মেয়াদি। নার্সিংয়ে অ্যানাটমি, ফিজিওলজি, ফার্মাকোলজি, মেডিসিন, সার্জারি, শিশুস্বাস্থ্য, মা ও নবজাতকসেবা, মানসিক স্বাস্থ্য, কমিউনিটি নার্সিং, রোগী নিরাপত্তা এবং ক্লিনিক্যাল কেয়ার শেখানো হয়। ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে সরকারি ডিপ্লোমা ইন নার্সিং সায়েন্স অ্যান্ড মিডওয়াইফারিতে দুই হাজার ৮৫৫টি আসনের তথ্য পাওয়া গেছে। একই শিক্ষাবর্ষে ডিপ্লোমা ইন মিডওয়াইফারিতে এক হাজার ৮২৫টি আসনের উল্লেখ ছিল। সরকারি প্রতিষ্ঠানে ডিপ্লোমা নার্সিংয়ে পুরুষদের জন্য সংরক্ষিত আসন থাকে। আর ডিপ্লোমা ইন মিডওয়াইফারি সাধারণত শুধু নারী প্রার্থীদের জন্য। কোর্স শেষে নার্স হিসেবে সরকারি-বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক, কমিউনিটি স্বাস্থ্যসেবা, এনজিও এবং বিদেশের স্বাস্থ্যসেবা খাতে কাজের সুযোগ তৈরি হয়। লেখক: প্রভাষক, ব্যবস্থাপনা বিভাগ, বাঞ্ছারামপুর সরকারি ডিগ্রি কলেজ, বাঞ্ছারামপুর, ব্রাহ্মনবাড়িয়া।
বিজ্ঞাপন Ad
পাঠকের মতামত
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন Ad
বিজ্ঞাপন Ad

সম্পাদক ও প্রকাশক: <b>ডি. হাসান. খান</b> | নির্বাহী সম্পাদক: <b>এ. এইচ. সুমন</b>
<div><b>বেলভিউ টাওয়ার ৭১ বীর উত্তম সিআর দত্ত রোড, হাতিরপুল, ঢাকা-১২০৫</b></div>