বিজ্ঞাপন
এক সময় ফুটবলারের ক্যারিয়ার শেষ হওয়ার পর কোচিং, ধারাভাষ্য কিংবা ফুটবল বিশ্লেষণ- এই তিন পথের একটিকেই ফুটবলারদের বেছে নেওয়া ছিল স্বাভাবিক; কিন্তু সময় বদলেছে। এখন অবসর নেওয়ার আগেই ফুটবলের বড় তারকারা ঢুকে পড়ছেন ক্লাব মালিকানার জগতে। কেউ পুরো ক্লাব কিনছেন, কেউ বড় অংশের শেয়ার, আবার কেউ সংখ্যালঘু মালিক হিসেবে ভবিষ্যতের ফুটবল-ব্যবসায় নিজেদের জায়গা তৈরি করছেন।
বিশাল বেতন, বিজ্ঞাপন, ব্যবসা ও বিনিয়োগ থেকে পাওয়া বিপুল অর্থ ফুটবলারদের এই নতুন ভূমিকায় আসার সুযোগ করে দিয়েছে। শুধু অর্থ নয়, ফুটবল সম্পর্কে তাদের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা, পরিচিতি ও বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয়তাও ক্লাবগুলোর জন্য বড় সম্পদ হয়ে উঠছে।
এই ধারার পথিকৃৎদের একজন ডেভিড বেকহাম। ২০১৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রের মেজর লিগ সকারের ক্লাব ইন্টার মিয়ামির মালিকানা প্রকল্পে যুক্ত হওয়ার পর তিনি ফুটবল-তারকাদের ক্লাব মালিকানার প্রবণতাকে নতুন মাত্রা দেন। পরে লিওনেল মেসিকে মায়ামিতে নিয়ে আসার মাধ্যমে সেই প্রকল্পকে আরও বড় করে তোলেন তিনি।
বেকহামের দেখানো পথ এখন অনুসরণ করছেন ফুটবলের বর্তমান ও সাবেক অনেক মহাতারকা। লিওনেল মেসি, ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো, ভিনিসিয়ুস জুনিয়র, কিলিয়ান এমবাপে ও লুকা মদরিচ- সবাই নিজেদের মতো করে ক্লাব মালিকানার সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন।
লিওনেল মেসি- কর্নেয়ায় শতভাগ মালিকানা
লিওনেল মেসির ফুটবলজীবনের সবচেয়ে বড় পরিচয় বার্সেলোনার সঙ্গে। সেই শহরের সঙ্গেই এবার অন্যভাবে সম্পর্ক আরও গভীর করলেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা।
এপ্রিল মাসে স্পেনের পঞ্চম বিভাগের ক্লাব ইউই কর্নেয়া ঘোষণা করে, মেসি ক্লাবটির ১০০ শতাংশ মালিকানা কিনে নিয়েছেন। বার্সেলোনার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত কর্নেয়া মেসির কাছে তাই শুধু একটি ব্যবসায়িক প্রকল্প নয়, বরং পরিচিত এক অঞ্চলে ফিরে যাওয়ার সুযোগও।
ক্লাবটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, মেসির মালিকানা কাতালোনিয়ার ক্রীড়া ও স্থানীয় প্রতিভা বিকাশে তার আগ্রহকে আরও শক্তিশালী করেছে। বার্সেলোনায় ১৭ বছর কাটানো মেসির সঙ্গে কাতালোনিয়ার সম্পর্ক দীর্ঘদিনের।
ক্লাবের খেলোয়াড় ও স্টাফদের উদ্দেশে ভিডিও বার্তায় মেসি নিজেই পরিচয় দেন এবং দলকে উন্নীত করার প্রচেষ্টায় সমর্থন জানান। কর্নেয়ার প্রমোশন অভিযান শেষ পর্যন্ত প্লে-অফে গিয়ে থেমেছে। তবে মাঠের ফলের বাইরেও মেসির আগমনে ক্লাবটি তাৎক্ষণিকভাবে বিশ্বজুড়ে আলোচনায় চলে আসে।
মেসির মালিকানার পর কর্নেয়ার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অনুসারী কয়েক লাখে পৌঁছে যায়। ক্লাবটির একাডেমিও বেশ শক্তিশালী। সাবেক বার্সেলোনা তারকা জর্দি আলবা, বর্তমান বার্সা খেলোয়াড় জেরার্ড মার্টিন এবং আর্সেনালের গোলরক্ষক ডেভিড রায়ার মতো খেলোয়াড়রা কর্নেয়ার একাডেমি থেকে উঠে এসেছেন।
১৯৫১ সালে প্রতিষ্ঠিত ক্লাবটি ২০২১ সালে কোপা দেল রেতে অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদকে হারিয়েও স্পেনে আলোড়ন তুলেছিল।
কর্নেয়াই অবশ্য ইউরোপে মেসির প্রথম ক্লাব মালিকানা। উরুগুয়ের চতুর্থ বিভাগের ক্লাব দেপোর্তিভো এলএসএম-এর সঙ্গেও মালিক হিসেবে যুক্ত আছেন তিনি। সেখানে তার ব্যবসায়িক অংশীদার ইন্টার মিয়ামির সতীর্থ লুইস সুয়ারেজ।
ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো- আলমেরিয়ায় ২৫ শতাংশ মালিকানা
ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো অবসরের পর কী করবেন- এই প্রশ্নের উত্তর তিনি নিজেই অনেকটা দিয়ে রেখেছেন। ৪০ বছর বয়সে তিনি বলেছিলেন, সুযোগ পেলে কোচ বা স্পোর্টিং ডিরেক্টর হওয়ার চেয়ে ক্লাবের মালিক হওয়াই তার বেশি পছন্দ। এমনকি ভবিষ্যতে একাধিক ক্লাবের মালিক হওয়ার ইচ্ছার কথাও জানিয়েছিলেন।
সেই পরিকল্পনার প্রথম বড় পদক্ষেপ আসে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে। নিজের প্রতিষ্ঠান সিআর সেভেন স্পোর্টস ইনভেস্টমেন্টস-এর মাধ্যমে স্পেনের দ্বিতীয় বিভাগের ক্লাব আলমেরিয়ার ২৫ শতাংশ শেয়ার কিনেছেন রোনালদো।
তিনি বলেছিলেন, মাঠের বাইরে থেকেও ফুটবলে অবদান রাখার ইচ্ছা তার দীর্ঘদিনের। আলমেরিয়াকে তিনি শক্ত ভিত্তি ও সম্ভাবনাময় একটি ক্লাব হিসেবে দেখছেন।
আলমেরিয়ার প্রধান মালিক সৌদি আরবের একটি বিনিয়োগকারী গোষ্ঠী। রোনালদোর অভিজ্ঞতা, স্প্যানিশ ফুটবল সম্পর্কে জ্ঞান এবং তার বিশ্বজোড়া পরিচিতি ক্লাবটির ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় বড় ভূমিকা রাখতে পারে।
রিয়াল মাদ্রিদে ২০০৯ থেকে ২০১৮ পর্যন্ত খেলেছেন রোনালদো। ওই সময় স্পেনের ফুটবল, বিশেষ করে লা লিগা সম্পর্কে তার বিশাল অভিজ্ঞতা তৈরি হয়েছে। রিয়ালের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা হওয়ার পাশাপাশি জিতেছেন চারটি চ্যাম্পিয়নস লিগ ও দুটি লা লিগা শিরোপা।
আলমেরিয়ারও বড় লক্ষ্য রয়েছে। ২০২৪ সালে লা লিগা থেকে অবনমনের পর এবার আবার শীর্ষ লিগে ফেরার লড়াইয়ে নামছে তারা। গত মৌসুমে প্লে-অফ ফাইনালে মালাগার কাছে ২-১ ব্যবধানে হেরে স্বপ্নভঙ্গ হয়েছিল।
মজার ব্যাপার হলো, আগস্টের শুরুতে আলমেরিয়া ও আল-নাসরের একটি প্রাক-মৌসুম ম্যাচে রোনালদো গ্যালারিতে বসে দেখেছেন- বর্তমান ক্লাব আল-নাসরকে তার মালিকানাধীন আলমেরিয়ার কাছে ২-০ গোলে হারতে।
ভিনিসিয়ুস জুনিয়র- পর্তুগালের আলভার্কায় নতুন প্রকল্প
রিয়াল মাদ্রিদের ব্রাজিলিয়ান তারকা ভিনিসিয়ুস জুনিয়রও মাঠের বাইরের ব্যবসায়িক দুনিয়ায় পা রেখেছেন। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে একদল বিনিয়োগকারীর সঙ্গে মিলে পর্তুগালের ক্লাব আলভার্কার ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ শেয়ার কিনে নেন তারা। চুক্তির মূল্য প্রায় ১০ মিলিয়ন ইউরো বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়।
সময়টা ছিল দারুণ। মালিকানা নেওয়ার মাত্র তিন মাস পরই টানা দ্বিতীয়বারের মতো প্রমোশন নিশ্চিত করে আলভার্কা এবং প্রায় তিন দশক পর পর্তুগালের শীর্ষ লিগে ফিরে আসে।
আলভার্কার ইতিহাসও বেশ সংগ্রামের। ২০০৫ সালে শীর্ষ বিভাগ থেকে অবনমনের পর ক্লাবটি বন্ধ হয়ে যায়। এক বছর পর নতুনভাবে যাত্রা শুরু করে আঞ্চলিক পর্যায় থেকে ধীরে ধীরে ওপরে উঠেছে।
ভিনিসিয়ুস অবশ্য ক্লাবটির দৈনন্দিন পরিচালনায় সরাসরি যুক্ত নন। তার এজেন্ট থাসিলো সোয়ারেস বর্তমানে সংখ্যাগরিষ্ঠ মালিক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। আলভার্কার স্পোর্টিং ডিরেক্টর ফার্নান্দো মালতা মজা করে ভিনিসিয়ুসকে ক্লাবটির ‘সবচেয়ে বিখ্যাত সমর্থক’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
শীর্ষ লিগে ফিরে প্রথম মৌসুমে আলভার্কা দশম হয়েছিল। ক্লাবটি সে সময় রেকর্ড ৩৫ জন খেলোয়াড় দলে নিয়েছিল। তবে এখনই পর্তুগালের তিন বড় ক্লাব পোর্তো, বেনফিকা ও স্পোর্টিংয়ের সঙ্গে শিরোপার লড়াইয়ে যাওয়ার স্বপ্ন দেখছে না তারা।
তাদের মূল লক্ষ্য- শীর্ষ বিভাগে টিকে থাকা এবং প্রতিভাবান খেলোয়াড় তৈরি করে বিক্রি করা। ভিনিসিয়ুসের উপস্থিতি অবশ্য নতুন প্রতিভা আকর্ষণে বাড়তি সুবিধা দিচ্ছে। রিয়ালে তার সতীর্থ এদুয়ার্দো কামাভিঙ্গা এবং মার্কিন র্যাপার ট্রাভিস স্কটও ক্লাবটির যোগাযোগ ও বিপণন প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন।
কিলিয়ান এমবাপে- ক্লাব কিনে কঠিন বাস্তবতার মুখে
কিলিয়ান এমবাপে ২০২৪ সালের জুনে ফ্রান্সের ক্লাব এসএম কায়েন-এর সংখ্যাগরিষ্ঠ মালিকানা কিনেছিলেন। তার প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠান ইন্টারকানেক্টেড ভেঞ্চারসের বিনিয়োগ শাখা কোয়ালিশন ক্যাপিটালের মাধ্যমে এই মালিকানা নেওয়া হয়। এমবাপে নিজে প্রায় ১৫ মিলিয়ন ইউরো বিনিয়োগ করেছিলেন বলে প্রতিবেদন রয়েছে।
কায়েনের সঙ্গে এমবাপের সম্পর্ক অবশ্য আরও পুরোনো। ২০১২ সালে যুব বয়সে ক্লাবটির হয়ে খেলার কাছাকাছি চলে গিয়েছিলেন তিনি। শেষ পর্যন্ত মোনাকোয় যোগ দেন।
কিন্তু মালিক হওয়ার পর শুরুটা তার জন্য সুখকর হয়নি। ২০২৪-২৫ মৌসুমে কায়েন লিগ টুতে ১৮তম হয়ে তৃতীয় বিভাগে নেমে যায়। ৪১ বছর পর প্রথমবারের মতো ফ্রান্সের তৃতীয় স্তরে নামতে হয় ক্লাবটিকে।
ফলে এমবাপের মালিকানা নিয়ে সমর্থকদের মধ্যেও ক্ষোভ দেখা দেয়। এক পর্যায়ে গ্যালারিতে ‘এসএমসি তোমার খেলনা নয়’ লেখা ব্যানারও দেখা যায়।
রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে নিয়মিত খেলা এবং একই সঙ্গে একটি পেশাদার ক্লাব পরিচালনার বাস্তবতা এমবাপের জন্য কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে পরিস্থিতি সামাল দিতে গত বছরের শেষ দিকে সাবেক আর্সেনাল ও ফ্রান্স কোচ গায়েল ক্লিশিকে দায়িত্ব দেন তিনি।
ক্লিশির অধীনে দল কিছুটা স্থিতিশীল হয়েছে। চলতি মৌসুমে কায়েন আবার লিগ টুতে ফেরার লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামছে। পাশাপাশি সাবেক কায়েন ও পিএসজি মিডফিল্ডার ম্যাথিয়ু বোদমেরকে স্পোর্টিং ডিরেক্টর করা হয়েছে।
লুকা মদরিচ- সোয়ানসিতে ভবিষ্যতের প্রস্তুতি
রিয়াল মাদ্রিদে ১৩ বছরের অধ্যায় শেষ করার ঠিক আগে লুকা মদরিচও ক্লাব মালিকানার জগতে প্রবেশ করেন। গত গ্রীষ্মে ওয়েলসের ক্লাব সোয়ানসি সিটির সংখ্যালঘু বিনিয়োগকারী ও সহ-মালিক হন ক্রোয়েশিয়ান কিংবদন্তি।
সোয়ানসি সমর্থকদের উদ্দেশে মদরিচ বলেছিলেন, ক্লাবটির ইতিবাচক উন্নয়ন এবং উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে তিনি পাশে থাকতে চান।
সোয়ানসির মার্কিন মালিকরা দীর্ঘদিন ধরেই একজন বড় ফুটবল তারকাকে বিনিয়োগকারী হিসেবে যুক্ত করতে চাচ্ছিলেন। ওয়েলসের আরেক ক্লাব রেক্সহ্যামের রায়ান রেনল্ডস ও রব ম্যাকএলহেনির সাফল্যও তাদের অনুপ্রাণিত করেছিল।
মদরিচের জন্য এটি কেবল অর্থ বিনিয়োগ নয়; ফুটবল ব্যবসার ভেতরের দিক শেখারও একটি সুযোগ। দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ক্লাবটির ভবিষ্যৎ কৌশল বোঝার পাশাপাশি সম্ভাব্য নতুন খেলোয়াড়দের সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে কথা বলতেও আগ্রহ দেখিয়েছেন তিনি।
মদরিচের আগমনে সোয়ানসির বিশ্বব্যাপী পরিচিতিও বেড়েছে। তারপর র্যাপার স্নুপ ডগ এবং পরে মার্থা স্টুয়ার্টও ক্লাবটির বিনিয়োগকারী হয়েছেন।
এখন সোয়ানসির লক্ষ্য প্রিমিয়ার লিগে ফেরা। নয় বছর ধরে ইংল্যান্ডের শীর্ষ বিভাগে নেই ক্লাবটি। ২০২৫-২৬ মৌসুমে প্লে-অফে ওঠার লড়াইয়ে নয় পয়েন্ট পিছিয়ে থেকে শেষ করেছিল তারা। মদরিচের ফুটবল জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা তাই ভবিষ্যতে ক্লাবটির জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
ফুটবলের নতুন বাস্তবতা
মেসি, রোনালদো, ভিনিসিয়ুস, এমবাপে ও মদরিচ- পাঁচ তারকার পাঁচটি আলাদা প্রকল্প। কেউ পুরো ক্লাবের মালিক, কেউ বড় অংশের শেয়ারহোল্ডার, কেউ আবার ভবিষ্যতের জন্য ধীরে ধীরে নিজের অবস্থান তৈরি করছেন।
এই প্রবণতা শুধু অবসর-পরবর্তী জীবনের পরিকল্পনা নয়। ফুটবলের ক্রমবর্ধমান বাণিজ্যিক মূল্যও এর বড় কারণ। মাঠে নিজেদের নাম, পরিচিতি ও অভিজ্ঞতাকে এবার ক্লাব পরিচালনা, একাডেমি, প্রতিভা বিকাশ ও ব্যবসায়িক পরিকল্পনায় কাজে লাগাতে চাইছেন তারকারা।
অর্থাৎ, ফুটবলারের ক্যারিয়ার শেষ হলেই যে ফুটবল থেকে বিদায় নিতে হবে- সেই ধারণা এখন বদলে যাচ্ছে। বরং বুটজোড়া তুলে রাখার আগেই অনেকে মালিকের চেয়ারে বসার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। মাঠের তারকারা এবার মাঠের বাইরেও নিজেদের সাম্রাজ্য গড়ার লড়াইয়ে নেমেছেন।
আইএইচএস/
বিজ্ঞাপন