জাতীয়

হালাল উপায়ে ডেট করবেন কীভাবে? মুফতি মেন্‌কের পরামর্শ

j
jagonews24 অনলাইন ডেস্ক
1 বার পঠিত
বিজ্ঞাপন Ad
ড. মুফতি ইসমাইল ইবনে মুসা মেনক, যিনি মুফতি মেনক নামে বেশি পরিচিত, হলেন একজন মুসলিম শিক্ষাবিদ, ইসলাম প্রচারক ও বক্তা। তিনি বর্তমানে জিম্বাবুয়ের প্রধান মুফতি। ২০১৩, ২০১৪ এবং ২০১৭ সালে জর্ডানের রয়্যাল আল আল-বাইত ইনস্টিটিউট ফর ইসলামিক থট তাকে বিশ্বের সবচেয়ে প্রভাবশালী ৫০০ মুসলমানের অন্যতম হিসাবে ঘোষণা করে। কয়েক বছর আগে এক ইসলামি আলোচনা অনুষ্ঠানে উপস্থাপক তাকে প্রশ্ন করেন, কীভাবে একজন পাত্র বা পাত্রীকে হালালভাবে চেনা বা জানা যেতে পারে? তরুণ সমাজের অনেকেই মনে করে যে ইসলামে যাকে বিয়ে করতে চান তাকে দেখার কোনো সুযোগ নেই; সরাসরি বিয়ের দিনেই বুঝি প্রথম দেখা হয় এবং বিয়ে হয়ে যায়। আমরা জানি বিষয়টি একদমই তেমন নয়। তাহলে কেউ শরীয়তসম্মত উপায়ে বিপরীত লিঙ্গের কারো সাথে কীভাবে পরিচিত হতে পারে? এই পশ্নের উত্তরে মুফতি মেনক বলেন,  শরিয়তসম্মত উপায়ে জীবনসঙ্গী নির্বাচনের আলোচনা শুরুর আগে এ ক্ষেত্রে অভিভাবকদের ভূমিকা স্পষ্ট করা প্রয়োজন। সন্তান হিসেবে পিতামাতাকে এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। কারণ সংসারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি তারা এবং তাদের অধিকার অপরিসীম। তাই বিয়ের বিষয়ে অভিভাবকদের সাথে খোলাখুলি আলোচনা করা উচিত। একই সাথে অভিভাবকদেরও আরও সহানুভূতিশীল ও বিচক্ষণ হওয়া প্রয়োজন। সন্তান যদি নীতি-নৈতিকতা ও দ্বীনদারির ভিত্তিতে কাউকে জীবনসঙ্গী হিসেবে পছন্দ করে এবং দুই পক্ষই সম্মত থাকে, তবে অভিভাবকদের উচিত বিষয়টিকে সহজ করা এবং আল্লাহর নির্দেশ বাস্তবায়নে সহায়কের ভূমিকা পালন করা। ইসলামে বিবাহের উদ্দেশ্যে পাত্র-পাত্রীর একে অপরকে দেখা এবং কথা বলা কেবল জায়েজই নয়, বরং সুন্নত। তবে সেই সাক্ষাৎ হতে হবে অভিভাবকের অধীনে, যাতে কোনো পক্ষই ক্ষতিগ্রস্ত না হয়। মেয়েদের ক্ষেত্রে বাবা বা ভাই এই তদারককারীর ভূমিকা পালন করতে পারেন। কেউ কাউকে পছন্দ করলে সম্পর্কের একদম শুরুতেই অভিভাবককে জানানো উচিত, যাতে তারা আনুষ্ঠানিকভাবে আলোচনার আয়োজন করতে পারেন। অনেক সময় সম্পর্ক অনেক দূরে গড়িয়ে যাওয়ার পর পরিবারকে জানানো হয়, যা মোটেও সঠিক পদ্ধতি নয়। পারিবারিক তদারকিতে সাক্ষাৎ করার অর্থ হলো অভিভাবক দূর থেকে লক্ষ্য রাখবেন, কিন্তু পাত্র-পাত্রী নিজেদের মধ্যে কথা বলতে পারবে। তারা চা বা কফি খেতে খেতে একে অপরের পছন্দ-অপছন্দ, চিন্তাভাবনা ও শারীরিক গঠন নিয়ে আলোচনা করতে পারে। সেখানে কোনো অনৈতিক আচরণ, স্পর্শ বা আবেগের অসংযত বহিঃপ্রকাশ থাকবে না। একবারের দেখায় সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব না হলে প্রয়োজনবোধে একাধিকবার সাক্ষাৎ করা যেতে পারে। ইসলামে সাক্ষাতের কোনো নির্দিষ্ট সংখ্যা বেঁধে দেওয়া হয়নি। ষাট বা সত্তরের দশকের মতো কেবল এক কাপ চা দিয়ে কয়েক সেকেন্ডে দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়ার দিন এখন আর নেই; আধুনিক যুগে এসে বাস্তবসম্মত আলোচনার প্রয়োজন রয়েছে। অনেক সময় দেখা যায়, পরিবারের চাপে পড়ে কেউ বিয়ে করে ফেলে, কিন্তু কিছুদিন পরই সে প্রকাশ করে যে তার অন্য কোথাও সম্পর্ক ছিল। এতে অন্য একটি নিষ্পাপ জীবনের অপূরণীয় ক্ষতি হয়ে যায়। অভিভাবকরা যদি সন্তানদের স্বাধীন মতামত না শুনে জোর করে সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেন, তবে সেটির দায়ভার ও পরিণতি হবে অত্যন্ত মারাত্মক। বর্তমান যুগে পড়ালেখা কিংবা কাজের সূত্রে বহু মানুষের সাথে মেশার সুযোগ হয়। তাই বিয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে যদি অভিভাবকরা সন্তানদের শরীয়তসম্মত উপায়ে দেখা করার সুযোগ না দেন, তবে তা চরম সামাজিক বৈপরীত্য। ইসলামি শরিয়তের সাথে সাংঘর্ষিক নয় এমন সাংস্কৃতিক প্রথা অনুসরণ করায় বাধা নেই, কিন্তু ধর্মীয় অনুশাসনকে উপেক্ষা করে নিজস্ব কঠোরতা চাপিয়ে দেওয়া অনুচিত। যদি একাধিকবার দেখা ও আলোচনার পর কোনো পক্ষ সন্তুষ্ট হতে না পারে, তবে শ্রদ্ধার সাথে বিষয়টি সেখানেই সমাপ্ত করা উচিত। প্রযুক্তি ও যোগাযোগের ক্ষেত্রেও সতর্কতা প্রয়োজন। আজকাল অনেকেই আবেগের বশে অসংযত কথা বলা, অনাকাঙ্ক্ষিত ছবি আদান-প্রদান করে ব্ল্যাকমেইলিংয়ের শিকার হয়। কোনো অবস্থাতেই এমন কোনো অনৈসলামিক কাজ করা যাবে না যা পরবর্তীতে ক্ষতির কারণ হতে পারে। আজকের যুগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বার্তা আদান-প্রদানের ক্ষেত্রেও তদারকি নিশ্চিত করা যায়। উদাহরণস্বরূপ, পাত্র-পাত্রী যখন হোয়াটসঅ্যাপে কথা বলবে, তখন সেই চ্যাট গ্রুপে মেয়ের কোনো অভিভাবককে যুক্ত রাখা যেতে পারে। এতে অনাকাঙ্ক্ষিত বা অসংযত কথাবার্তা এড়িয়ে চলা সম্ভব হবে এবং মর্যাদা ও সুরক্ষা বজায় থাকবে। মানুষের মন ও মস্তিষ্ক অত্যন্ত মূল্যবান নেয়ামত। সঠিক অভিভাবকত্ব ও ধর্মীয় সীমার মধ্যে না থেকে কাউকে দ্রুত মন সঁপে দিলে তা পরবর্তীতে গভীর অনুশোচনার কারণ হতে পারে। তাই পারিবারিক নিরাপত্তা ও শরিয়তের বিধান মেনেই পারস্পরিক পরিচয়ের পথ সুগম করা উচিত। সূত্র: ইউটিউব, মুসলিম আখি ওএফএফ
বিজ্ঞাপন Ad
পাঠকের মতামত
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন Ad
বিজ্ঞাপন Ad

সম্পাদক ও প্রকাশক: <b>ডি. হাসান. খান</b> | নির্বাহী সম্পাদক: <b>এ. এইচ. সুমন</b>
<div><b>বেলভিউ টাওয়ার ৭১ বীর উত্তম সিআর দত্ত রোড, হাতিরপুল, ঢাকা-১২০৫</b></div>