ব্রেকিং নিউজ
বিএনপি নেতা ছুরিকাঘাতের দায়ে প্রধান শিক্ষক গ্রেফতার সুপারি গাছে উঠতে না চাওয়ায় কিশোরকে ছুরিকাঘাতে হত্যা ‘মজলুমদের হাত দিয়ে যে আইন হচ্ছে, তা গুমের পথ সুগম করবে’ মেছো বিড়াল নিয়ে মানুষকে কেন সচেতন করছে চুয়াডাঙ্গার সংগঠন ‘পানকৌড়ি’ পাকিস্তানে কিছুই বদলায়নি, এখনো সেই একই গল্প: হামিন আহমেদ বাংলাদেশের জাহাজ নির্মাণে বিনিয়োগে আগ্রহী মারস্ক লাইন তৃণমূলের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের দৃষ্টান্ত বিএনপিই তৈরি করেছে: আলাল দক্ষিণ সুরমায় পূর্ণাঙ্গ স্টেডিয়াম হবে: ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী কুড়ালের ভয় দেখিয়ে গৃহবধূকে ধর্ষণের চেষ্টা, গ্রেপ্তার ১ যশোরে যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত কয়েদির হাসপাতালে মৃত্যু
জাতীয়

পুঞ্জীভূত সংকট কাটাতে বাংলাদেশের নিজস্ব অর্থনৈতিক মডেল প্রয়োজন

j
jagonews24 অনলাইন ডেস্ক
1 বার পঠিত
বিজ্ঞাপন Ad
সরকার পুঞ্জীভূত সংকটের উত্তরাধিকার পেয়েছে। এসব সংকট থেকে বেরিয়ে আসতে বাংলাদেশের নিজস্ব বাস্তবতার আলোকে নতুন অর্থনৈতিক মডেল প্রয়োজন বলে মনে করেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। তার মতে, মানুষের জীবনে স্বস্তি আনা, বিনিয়োগ বাড়ানো, বন্ধ কলকারখানা চালু করা এবং জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এগোচ্ছে সরকার। সরকারের ছয় মাসের কার্যক্রম, অর্থনৈতিক সংকট, মূল্যস্ফীতি, ব্যাংক খাত, বিনিয়োগ, রাজস্ব, সামাজিক নিরাপত্তা, স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও জ্বালানি নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন বিষয়ে জাগো নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন তিনি। সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন জাগো নিউজের জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক সাঈদ শিপন। জাগো নিউজ: সরকারের ছয় মাসের কর্মকাণ্ডকে কীভাবে মূল্যায়ন করছেন? ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর: বাংলাদেশের জনগণ তথা রাষ্ট্র পুঞ্জীভূত সংকটের উত্তরাধিকার পেয়েছে। জনগণ পরিবর্তন চেয়েছে। পরিবর্তনের জন্য বিভিন্ন রাজনৈতিক দল প্রতিশ্রুতি দিয়েছে এবং সেই প্রতিশ্রুতির ভিত্তিতে জনগণ তাদের নির্বাচনি ম্যান্ডেট দিয়েছে। সেই গণরায় এখন নীতি কাঠামোয় কীভাবে প্রতিফলিত হবে, সেটি নিয়ে আমরা আলোচনা করছি। এই আলোচনায় প্রথমেই দেখতে হবে পুঞ্জীভূত সংকটগুলো কী ছিল। একটি পরিবারের কথা চিন্তা করলে দেখা যাবে, তার সঞ্চয় শেষ হয়েছে, ঋণে আক্রান্ত হয়েছে। ব্যবসা-বাণিজ্য ঋণের ভারে ন্যুব্জ হয়েছে, অন্যদিকে অনেক কলকারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। আরও পড়ুন আগস্টের ১৯ দিনে এলো ২৫ হাজার কোটি টাকার প্রবাসী আয় রাষ্ট্রও ঋণ নিতে নিতে পাহাড়সম ঋণের ভারে ন্যুব্জ হয়েছে। সেখান থেকে বেরিয়ে আসার কোনো পরিকল্পনা ছিল না। পৃষ্ঠপোষকতার সংস্কৃতির মাধ্যমে একটি অলিগার্কিক শাসনব্যবস্থা তৈরি করা হয়েছে এবং সেই ব্যবস্থা তৈরি করতে প্রতিষ্ঠানগুলোকে ভেঙে চুরমার করে দেওয়া হয়েছে। সমাজে অস্বস্তি ও অসহিষ্ণুতাও বেড়েছে। জাগো নিউজ: তাহলে বর্তমান সরকারের সামনে মূল চ্যালেঞ্জ কী? ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর: জনগণ পরিবর্তনের রায় দিয়েছে, কারণ ইতিহাস তাদের সাক্ষ্য দেয় এই ধরনের চ্যালেঞ্জ অতীতে যারা মোকাবিলা করেছে, তারাই বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা এগিয়ে নিতে পেরেছে। স্বাধীনতার মূল মন্ত্র হচ্ছে সমতা, মানবিক মর্যাদা, সামাজিক নিরাপত্তা ও সামাজিক ন্যায্যতা। জুলাইয়ের মন্ত্রও হচ্ছে বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ে তোলা। আমাদের নতুন একটি মডেল দরকার। সেই মডেল বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে হতে হবে। পুঞ্জীভূত সংকট প্রতিটি খাতে গেছে, প্রতিটি বয়সের মানুষের কাছে গেছে এবং প্রতিটি পেশার ওপর নিষ্পেষণ হয়েছে। সেই কারণে সবার জন্য বাংলাদেশ গঠনের এবং সবাইকে নিয়ে বাংলাদেশের জন্য একটি দার্শনিক ভিত্তি দেওয়া হয়েছে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’। একই সঙ্গে একটি ভিশন দেওয়া হয়েছে গণতান্ত্রিক, মানবিক ও কল্যাণ রাষ্ট্র। জাগো নিউজ: সামাজিক নিরাপত্তার ক্ষেত্রে কী ধরনের পরিবর্তন আনা হচ্ছে? ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর: অতীতে বহু অর্থ ব্যয় করে জাতীয় সামাজিক নিরাপত্তা কৌশল তৈরি করা হয়েছিল। কিন্তু শেষ বছরে দেখা গেছে, দারিদ্র্য বেড়েছে। দারিদ্র্য কমাতে হলে ভুলগুলো চিহ্নিত করে সেগুলো সমাধান করতে হবে। আরও পড়ুন সাড়ে ৬ শতাংশ সুদে ঋণ মিললে সোলারে যাবে আরও ১৩০০ পোশাক কারখানা তিনটি বড় ভুল ছিল। প্রথমত, যাদের তালিকাভুক্ত হওয়ার কথা নয়, তারা তালিকাভুক্ত হয়েছে। দ্বিতীয়ত, যাদের তালিকাভুক্ত হওয়ার কথা, তারা তালিকাভুক্ত হয়নি। তৃতীয়ত, নির্বাচন পদ্ধতিতে রাজনৈতিক প্রভাব ছিল। বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর কৃষি ঋণ মাফ করেছে। অতীতে একবার হয়েছিল, এবার ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ মাফ করা হয়েছে। এর মাধ্যমে ন্যূনতম ১২ লাখ কৃষক সহায়তা পেয়েছেন। ফ্যামিলি কার্ডের ক্ষেত্রেও বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর মাধ্যমে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে যাওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। সেখানে প্রক্সি মিন্স টেস্টের দিকে যাওয়া হয়েছে। এই অর্থবছরে ৪১ লাখ মানুষকে এর আওতায় আনা সম্ভব হলে রক্ষণশীল হিসাবেও বলা হচ্ছে, এতে ৫ শতাংশ দারিদ্র্য হ্রাস পেতে পারে। মানুষের জীবনে স্বস্তি দেওয়াই বড় বিষয়। বাংলাদেশের অধিকাংশ মানুষ নারী। সীমিত সম্পদ কোথায় ব্যবহার করলে সর্বোচ্চ ফল পাওয়া যাবে, সেটি বিবেচনা করেই ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হয়েছে। দারিদ্র্য কমাতে হবে। একই সঙ্গে আমাদের স্বাস্থ্য ব্যয়ের বিষয়টিও দেখতে হবে। দেশে মোট স্বাস্থ্য ব্যয়ের ৭২ শতাংশই মানুষের নিজস্ব পকেট থেকে যায়। একদিকে মানুষ দারিদ্র্য ও মূল্যস্ফীতিতে আক্রান্ত, অন্যদিকে স্বাস্থ্যগত বোঝারও পরিবর্তন হয়েছে। জীবনযাপনজনিত রোগ বেড়েছে। একটি পরিবারের ওপর এ ধরনের রোগের চাপ পড়লে পরিবারের স্বাভাবিক অর্থনৈতিক কার্যক্রম চালানো কঠিন হয়ে পড়ে। জাগো নিউজ: স্বাস্থ্য খাতে সরকারের পরিকল্পনা কী? ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর: উপজেলা পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবার পাশাপাশি জেলা পর্যায়েও কিডনি ডায়ালাইসিস সেন্টার, সিসিইউ এবং শিশু ও মাতৃসেবা দরকার। স্বাস্থ্য খাতে মোট দেশজ উৎপাদনের তুলনায় বরাদ্দ আগে ০ দশমিক ৬৭ শতাংশ ছিল। সেটি বাড়িয়ে ২ দশমিক ৫০ শতাংশ করা হয়েছে। আরও পড়ুন ২০২৮-২৯ থেকে অর্থবছর এপ্রিল-মার্চ, ৯ মাসে শেষ হবে ২০২৭-২৮ সেই অনুযায়ী বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে। তবে এটাও সত্য, স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দকৃত অর্থ অনেক সময় পুরোপুরি ব্যয় হয় না। এই জায়গায় বাস্তবায়ন সক্ষমতা বাড়াতে হবে। জাগো নিউজ: শিক্ষা খাত নিয়ে আপনার মূল্যায়ন কী? ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর: আমরা শিক্ষিত বেকার এবং দক্ষতাহীন জনশক্তি তৈরি হতে দেখেছি। এমনকি দ্বাদশ শ্রেণির সার্টিফিকেট পাওয়া একজন শিক্ষার্থীর দক্ষতা অনেক ক্ষেত্রে সপ্তম শ্রেণির পর্যায়ের। এই পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটাতে হলে শিক্ষা খাতে ধারাবাহিকভাবে মোট দেশজ উৎপাদনের ৫ শতাংশে যেতে হবে। সামাজিক নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও ৫ শতাংশ, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে প্রয়োজনীয় মাত্রায় বরাদ্দ নিশ্চিত করতে পারলে আমরা গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের মৌলিক ভিত্তি—মানবিক ও কল্যাণ রাষ্ট্রের দিকে এগোতে পারব। সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে একটি প্যারাডাইম শিফট করা হয়েছে। সেটি হচ্ছে সর্বজনীন, পূর্ণ জীবনচক্রভিত্তিক সামাজিক নিরাপত্তা। জাগো নিউজ: বিনিয়োগ পরিস্থিতি কীভাবে উন্নত করা হবে? ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর: বিনিয়োগের ক্ষেত্রে ন্যূনতম পাঁচটি বিষয় নিশ্চিত করতে হবে। প্রথম হচ্ছে নীতির ধারাবাহিকতা বা পলিসি প্রেডিক্টেবিলিটি। করের ক্ষেত্রে পাঁচ বছরের পরিকল্পনা করা হয়েছে, যাতে একজন ব্যবসায়ী মধ্যমেয়াদে পরিকল্পনা করতে পারেন। একই সঙ্গে বৈষম্য কমানোর চেষ্টা করা হয়েছে। আগে কোনো কোনো রপ্তানি পণ্যে বিশেষ সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সব পণ্যে দেওয়া হয়নি। এখন সবাইকে সমসুযোগ দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। বন্ডেড ওয়্যারহাউস নীতিতেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। আরও পড়ুন ছয় মাসে সরকারের উদ্যোগ আছে, তবে অর্থনীতির পুঞ্জীভূত সংকট কাটেনি দ্বিতীয়ত, বিনিয়োগের ক্ষেত্রে লাল ফিতার দৌরাত্ম্য কমাতে হবে এবং সময়ের বাধ্যবাধকতা তৈরি করতে হবে। এখন কমিটিকে নির্দিষ্ট সময় দেওয়া হচ্ছে। আবেদন করার পর কোন পর্যায়ে কত সময় লাগবে, সেটিকে কথামালার পরিবর্তে সংখ্যাবাচক সূচকে আনার চেষ্টা করা হচ্ছে। জাগো নিউজ: বন্ধ কলকারখানা চালুর ক্ষেত্রে কী উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে? ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর: দেশীয় বিনিয়োগকারীদের বড় একটি অংশের সম্ভাবনা রয়েছে বন্ধ কলকারখানায়। এসব কলকারখানা চালু করতে তিনটি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। অতীতে বিভিন্ন সময়ে বন্ধ হওয়া কলকারখানাগুলোতে যাতে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয় এবং ডিসেম্বরের মধ্যে হস্তান্তর করা যায়, সে জন্য ইতোমধ্যে দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। এ প্রক্রিয়াকে পরিবর্তন করতে প্রাতিষ্ঠানিক আইন করা হয়েছে এবং একটি প্রতিষ্ঠানের অধ্যাদেশ আনা হয়েছে। নির্দিষ্ট করা হয়েছে যে ডিসেম্বরের মধ্যে এগুলো হস্তান্তর করা হবে। ইতোমধ্যে কয়েকটি হস্তান্তর করে আমরা অভিজ্ঞতা পেয়েছি। একই সঙ্গে সমতাভিত্তিক আঞ্চলিক উন্নয়নকেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। জাগো নিউজ: কোন কোন শিল্পকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে? ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর: অগ্রাধিকার খাতগুলোর মধ্যে ওষুধ শিল্প রয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে ওষুধ শিল্পের গুড ম্যানুফ্যাকচারিং প্র্যাকটিস যাচাইয়ের জন্য আসার কথা ছিল না। এবার তারা ঘোষণা করেছে যে ওষুধ শিল্পের ক্ষেত্রে তারা এটি করবে। শিল্পে বহুমুখীকরণ করতে হবে। ইলেকট্রনিক্স শিল্পের ক্ষেত্রেও আমরা ইতোমধ্যে কিছু অঞ্চল চিহ্নিত করেছি। যেখানে বন্ধ কলকারখানা রয়েছে, সেখানে শিল্প স্থাপনের সুযোগ দেওয়া যেতে পারে। ঢাকার ডেমরায় এমন দুটি অঞ্চল রয়েছে। জাগো নিউজ: অর্থায়নের ক্ষেত্রে কী পরিকল্পনা রয়েছে? ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর: বাংলাদেশে সবসময় রাজস্ব ব্যবস্থার সঙ্গে মুদ্রানীতির সমন্বয়ের কথা বলা হয়েছে, কিন্তু কখনো সেভাবে অনুশীলন করা হয়নি। একদিকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বায়ত্তশাসন রক্ষা করতে হবে, অন্যদিকে রাজস্বনীতির সঙ্গে সমন্বয় করতে হবে। মূল্যস্ফীতি যে পর্যায়ে রয়েছে, এই পর্যায়ের সুদের হারে কোনো ব্যবসা করা সম্ভব নয়। সে জন্য ঋণাত্মক সুদের হারের মাধ্যমে পুনঃঅর্থায়ন স্কিম তৈরি করা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক এরই মধ্যে চুক্তি করেছে। এর ভর্তুকি রাজস্ব থেকে দেওয়া হচ্ছে। আরও পড়ুন বাংলাদেশে বছরে এক বিলিয়ন ডলারের প্রকল্প চিহ্নিত করেছে এডিবি করোনাকালে যে প্রণোদনা দেওয়া হয়েছিল, তার অনেকটাই ফেরত আসেনি। এবার নির্দিষ্টকরণ করা হয়েছে এবং ব্যাংক ব্যবস্থার মাধ্যমে অর্থায়ন করা হবে। বাড়তি অংশের ভর্তুকি রাজস্ব ব্যবস্থা থেকে দেওয়া হবে। জাগো নিউজ: জ্বালানি সংকট নিয়ে ব্যবসায়ী ও শিল্প উদ্যোক্তাদের উদ্বেগ রয়েছে। এ বিষয়ে কী বলবেন? ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর: জ্বালানি নিরাপত্তা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর একটি। অতীতে জ্বালানি খাত ছিল আমদানি-নির্ভর এবং নির্দিষ্ট কিছু লোককে কেন্দ্র করে পৃষ্ঠপোষকতার সংস্কৃতি তৈরি করা হয়েছিল। বিভিন্ন দেশের সঙ্গে যে চুক্তিগুলো করা হয়েছিল, সেগুলোর কিছু বিষয়ে নানা প্রশ্ন রয়েছে। সেই পরিস্থিতিতে গ্যাস অনুসন্ধান করা হয়নি। তাহলে গ্যাস কোথা থেকে পাওয়া যাবে? বাংলাদেশে কয়লা থাকা সত্ত্বেও কয়লার ব্যবহার নিশ্চিত করা হয়নি। ফুলবাড়ী বা বড়পুকুরিয়ার কথা বলা যায়। ভবিষ্যতের বাংলাদেশ নিয়ে আমাদের চিন্তা করতে হবে। সৌর বিদ্যুতের সম্ভাবনাও কাজে লাগাতে হবে। আমরা চাই মানুষ শুধু বিদ্যুতের গ্রাহক না থেকে বিদ্যুতের উৎপাদক হোক, অর্থাৎ ‘ফ্রম ক্লায়েন্ট টু প্রডিউসার অব ইলেক্ট্রিসিটি’। জাগো নিউজ: সৌর বিদ্যুতের ক্ষেত্রে বাস্তব অগ্রগতি কতটা? ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর: নেট মিটারিং চালু করা হয়েছে। এ বিষয়ে ৩৬ হাজার আবেদন পাওয়া গেছে। বিদ্যুৎ খাতের সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোতে জনবলের সংকট রয়েছে। এ কারণে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে শুরু করে মন্ত্রিপরিষদ ভবন পর্যন্ত আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক হয়েছে। নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, নেট মিটারিং বাস্তবায়নে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে। আরও পড়ুন সব কর অঞ্চলে উৎসে কর পরিবীক্ষণ টিম গঠনের নির্দেশ আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বাসযোগ্য পৃথিবী তৈরি করতে হবে। সৌরবিদ্যুৎ এক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। পানি পাম্পসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহার করা সম্ভব। গৃহস্থালির জ্বালানি ব্যবস্থাতেও সৌরশক্তির ব্যবহার বাড়ানো সম্ভব। নেট মিটারিংয়ের কথা আগে বলা হলেও বাস্তবায়িত হয়নি। আমরা এখন বাস্তবায়ন করছি। বাংলাদেশ যে পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে, তাতে ২০২৯ সালের নভেম্বরের মধ্যে সৌরবিদ্যুৎ থেকে ৫ হাজার মেগাওয়াট পর্যন্ত বিদ্যুৎ পাওয়ার লক্ষ্য রয়েছে। জাগো নিউজ: তাহলে শিল্পায়নের জন্য পর্যাপ্ত গ্যাস ও বিদ্যুৎ নিশ্চিত করার নিশ্চয়তা দিচ্ছেন? ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর: জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে বাংলাদেশের শিল্পায়ন সম্ভব নয়। বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদনের প্রবৃদ্ধির সঙ্গে শিল্প খাতের প্রবৃদ্ধির সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। তাই বাংলাদেশকে উৎপাদনমুখী এবং শিল্পনির্ভর হতে হবে। আমাদের লক্ষ্য বাংলাদেশকে একটি ম্যানুফ্যাকচারিং হাবে পরিণত করা। আরও পড়ুন শীতে স্বস্তি আসবে জ্বালানিতে, জানালেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা চট্টগ্রামে ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যান্ড ইকোনমিক জোনের কাজ এগোচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা ১৮ মাসের মধ্যে উৎপাদনে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন। একইভাবে মংলা অঞ্চলেও একটি রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল হচ্ছে। সেখানেও ১৮ মাসের মধ্যে উৎপাদন শুরুর কথা বলা হয়েছে। উত্তরাঞ্চলেও আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। ওই অঞ্চলে কৃষিপণ্য, ফল, ফুল ও দুগ্ধজাত পণ্যে উদ্বৃত্ত রয়েছে। দেশীয় শিল্প উদ্যোক্তারা সেখানে উদ্যোগ নিয়েছেন। তাদের ব্যাংকিং অর্থায়ন পাওয়ার সুযোগ তৈরির জন্য আইনেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। জাগো নিউজ: মূল্যস্ফীতির ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষ কবে দৃশ্যমান স্বস্তি পাবে? ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর: মানুষের জীবনে স্বস্তি আনা আমাদের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। মূল্যস্ফীতি কমাতে হলে অর্থনীতির পুঞ্জীভূত সমস্যাগুলো একসঙ্গে মোকাবিলা করতে হবে। শুধু একটি খাতে ব্যবস্থা নিয়ে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। রাজস্বনীতি, মুদ্রানীতি, উৎপাদন, বিনিয়োগ, জ্বালানি ও সামাজিক নিরাপত্তা— সবগুলোকে সমন্বিতভাবে দেখতে হবে। জাগো নিউজ: সরকারের আত্মসমালোচনার জায়গা কোথায়? এমন কোনো উদ্যোগ আছে, যা ছয় মাসে করতে পারেননি? ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর: আমরা বলছি না যে সবকিছু হয়ে গেছে। আমরা বলছি, আমরা সেই পথে আছি। পুঞ্জীভূত সংকট প্রতিটি খাতে ছিল। সেগুলোকে কার্পেটের নিচে না রেখে সামনে আনা হয়েছে এবং সমাধানের পথ নির্ধারণ করা হয়েছে। আরও পড়ুন গ্যাস সংকটে বসে আছে ৬ হাজার মেগাওয়াটের বেশি বিদ্যুৎকেন্দ্র জ্বালানি, বিনিয়োগ, অর্থায়ন, সামাজিক নিরাপত্তা, স্বাস্থ্য, শিক্ষা প্রতিটি ক্ষেত্রেই দীর্ঘদিনের সমস্যা রয়েছে। এসব সমস্যার সমাধান একদিনে সম্ভব নয়। ছয় মাসেও সবকিছু সম্পন্ন হয়ে যাবে এমন প্রত্যাশা বাস্তবসম্মত নয়। তবে জবাবদিহিতার সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠা করতে হবে। প্রত্যেকটি প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে এবং জনগণের কাছে জবাবদিহি করতে হবে। জনগণ আস্থা ফিরে পেয়েছে। একদিনে পরিবর্তন সম্ভব নয়। আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে পুঞ্জীভূত সংকট থেকে বেরিয়ে বাংলাদেশের নিজস্ব বাস্তবতার আলোকে একটি গণতান্ত্রিক, মানবিক ও কল্যাণ রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক ভিত্তি তৈরি করা। জাগো নিউজ: গ্যাস অনুসন্ধানের ক্ষেত্রে কী পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে? ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর: গ্যাস অনুসন্ধানে অতীতে কাঙ্ক্ষিত উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলের পাশের দেশগুলোতে গ্যাস উত্তোলন হচ্ছে, কিন্তু বাংলাদেশে সেভাবে উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। এখন সমুদ্রের গ্যাস অনুসন্ধানের জন্য ব্লকগুলোতে অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে চাই। অতীতে যেভাবে ব্লকে অংশগ্রহণ হয়েছে, এখন সেভাবেই আবার অনুসন্ধানের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। প্রত্যেকটি উত্তোলন কর্মকাণ্ডের সঙ্গে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি লিমিটেডকে (বাপেক্স) সম্পৃক্ত করা হবে। এটি এখন চলছে। চলতি বছরের নভেম্বর মাসে আমাদের ব্লকগুলো দরপত্রে যাবে। জাগো নিউজ: বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে নতুন নীতির কোনো পরিবর্তন আসছে? ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর: বড় ধরনের পরিবর্তন হচ্ছে। বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে আমরা ‘নো পাওয়ার, নো পে’ নীতিকে গুরুত্ব দিচ্ছি। অর্থাৎ বিদ্যুৎ না পেলে অর্থ পরিশোধের প্রশ্নও থাকবে না। দেশীয় কোম্পানির ক্ষেত্রে দেশীয় অর্থ ব্যবহারের বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে। মূল বিষয় হচ্ছে কোন ধরনের অর্থায়ন দেশের জন্য লাভজনক এবং কীভাবে দেশের স্বার্থ রক্ষা করা যায়। জাগো নিউজ: বর্তমানে জ্বালানি সংকট থেকে বের হওয়ার পরিকল্পনা কী? ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর: জ্বালানিকে আমরা কয়েকটি পর্যায়ে দেখছি। প্রথম বিষয় হচ্ছে, বর্তমানে যে পরিস্থিতিতে আমরা পড়েছি, সেখান থেকে লোডশেডিং কবে বন্ধ করা হবে। সেটা শীতকালের মধ্যে বন্ধ করতে হবে। দ্বিতীয় পর্যায় হচ্ছে গ্রীষ্মকাল। গ্রীষ্মকালে দৃশ্যমান অগ্রগতি থাকতে হবে। এরপর আমাদের স্বাভাবিক প্রবৃদ্ধির হার এবং মোট দেশজ উৎপাদনের প্রবৃদ্ধির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ২০২৯ সালের মধ্যে জ্বালানি চাহিদার একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে যেতে হবে। এর সঙ্গে পরবর্তী আরও পাঁচ বছরের পরিকল্পনাও বিবেচনা করা হচ্ছে। জাগো নিউজ: আপনার ব্যস্ততার মধ্যেও সময় দেওয়ার জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ। ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর: আপনাকে ও জাগো নিউজকে ধন্যবাদ। এমএএস/এমএএইচ/
বিজ্ঞাপন Ad
পাঠকের মতামত
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন Ad
বিজ্ঞাপন Ad

সম্পাদক ও প্রকাশক: <b>ডি. হাসান. খান</b> | নির্বাহী সম্পাদক: <b>এ. এইচ. সুমন</b>
<div><b>বেলভিউ টাওয়ার ৭১ বীর উত্তম সিআর দত্ত রোড, হাতিরপুল, ঢাকা-১২০৫</b></div>