জাতীয়

বাংলাদেশের এআই রূপান্তরের প্রথম বড় ক্ষেত্র হওয়া উচিত জনপ্রশাসন

j
jagonews24 অনলাইন ডেস্ক
3 বার পঠিত
বিজ্ঞাপন Ad
বাংলাদেশের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) রূপান্তরের প্রথম বড় ক্ষেত্র জনপ্রশাসন হওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসন বিষয়ক উপদেষ্টা মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ। তিনি বলেন, সরকারি তথ্যভাণ্ডারের ওপর ভিত্তি করে এআই সহকারী চালু করা গেলে কর্মকর্তাদের সময় সাশ্রয়, দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও সরকারি সেবার দক্ষতা বাড়ানো সম্ভব। বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) ঢাকার বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (বিআইআইএসএস) অডিটোরিয়ামে ‘এআই অ্যান্ড গভর্ন্যান্স: গ্লোবাল টেকনোলজি আর্কিটেকচার, ন্যাশনাল ডিজিটাল পাবলিক ইনফ্রাস্ট্রাকচার অ্যান্ড পলিসি ডিরেক্টিভস’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। ইসমাইল জবিউল্লাহ বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এখন আর কেবল প্রযুক্তির বিষয় নয়; এটি জাতীয় সক্ষমতা, সুশাসন, অর্থনীতি, নিরাপত্তা ও ভূরাজনীতির গুরুত্বপূর্ণ উপাদানে পরিণত হয়েছে। জনগণের সম্মতি, সচেতনতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করে ধীরে ধীরে এআই গ্রহণের মাধ্যমে সরকারি সেবাকে আরও দ্রুত, সহজ, স্বচ্ছ ও জনবান্ধব করতে হবে। আরও পড়ুন শিল্প-বাণিজ্য-জীবনধারা বদলে দিচ্ছে ‘এআই’ এমন একটি ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব, যেখানে কোনো তথ্যের জন্য কর্মকর্তাকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ফাইল খুঁজতে হবে না জানিয়ে তিনি বলেন, অনুমোদিত সরকারি তথ্যভাণ্ডারের ভিত্তিতে এআই সহকারী সংশ্লিষ্ট বিধি, পরিপত্র, পূর্ববর্তী সিদ্ধান্ত, উৎসসহ প্রয়োজনীয় তথ্য সরবরাহ করতে পারে। সরকারি ব্যয়, ক্রয়, নিয়োগ, স্বাস্থ্যসেবা, করব্যবস্থা, সামাজিক সুরক্ষা ও ফাইল ব্যবস্থাপনাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে এআই ব্যবহার করা যেতে পারে জানিয়ে তিনি বলেন, পরিকল্পনা কমিশন ও অর্থ বিভাগ প্রকল্প প্রণয়ন, ব্যয়ের যৌক্তিকতা যাচাই ও প্রকল্প পর্যবেক্ষণে এআই ব্যবহার করলে সময় ও সরকারি অর্থের অপচয় কমানো সম্ভব। স্বাস্থ্যসেবা, পাসপোর্ট, ড্রাইভিং লাইসেন্সসহ নাগরিক সেবাগুলো আরও দ্রুত ও সহজ করতেও এআই ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে বলে জানান তিনি। আরও পড়ুন ফের এআই নীতিমালা তৈরির তোড়জোড় এআই ব্যবহারে তথ্যের গোপনীয়তা ও সাইবার নিরাপত্তার ওপর গুরুত্ব দিয়ে জনপ্রশাসন উপদেষ্টা বলেন, কোন তথ্য কতটুকু এবং কোন স্তরে ব্যবহার বা শেয়ার করা যাবে, সে বিষয়ে সুস্পষ্ট নীতিমালা প্রয়োজন। একই সঙ্গে তথ্যের শ্রেণিবিন্যাস, শক্তিশালী সাইবার নিরাপত্তা ও আইনগত কাঠামো নিশ্চিত করতে হবে। এআইয়ের সম্ভাবনা ও ঝুঁকি তুলে ধরে তিনি বলেন, একটি দিয়াশলাইয়ের কাঠি দিয়ে যেমন রান্না করা যায়, তেমনি একটি ঘরও পুড়িয়ে দেওয়া যায়- এআই ঠিক তেমনই। তাই প্রযুক্তির ব্যবহার হতে হবে নিরাপদ, দায়িত্বশীল ও জনকল্যাণমুখী। কর্মসংস্থানে এআইয়ের প্রভাব প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত এআই সহায়ক সরকার, মানুষবিহীন সরকার নয়। প্রযুক্তির সঙ্গে কর্মসংস্থানের ভারসাম্য বজায় রেখে জনকল্যাণমুখী সমাধান খুঁজে বের করতে হবে। এআইয়ের অগ্রযাত্রা থামিয়ে রাখা সম্ভব নয়। তবে আইন, নীতিমালা, নিরাপত্তা ও জনসচেতনতার মাধ্যমে এর ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণ করে জনগণের কল্যাণে সুফল নিশ্চিত করা সম্ভব বলে মনে করেন প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসন বিষয়ক উপদেষ্টা। সেমিনারে বিআইআইএসএসের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আসম রিদওয়ানুর রহমান স্বাগত বক্তব্য দেন। আরএমএম/এএসএ
বিজ্ঞাপন Ad
পাঠকের মতামত
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন Ad
বিজ্ঞাপন Ad

সম্পাদক ও প্রকাশক: <b>ডি. হাসান. খান</b> | নির্বাহী সম্পাদক: <b>এ. এইচ. সুমন</b>
<div><b>বেলভিউ টাওয়ার ৭১ বীর উত্তম সিআর দত্ত রোড, হাতিরপুল, ঢাকা-১২০৫</b></div>