ব্রেকিং নিউজ
জাতীয়

অনুমোদন নেই, তবুও বছরে ৬৭ লাখ টাকা ফি আদায়

j
jagonews24 অনলাইন ডেস্ক
5 বার পঠিত
বিজ্ঞাপন Ad
পরিবহন নেই, চিকিৎসাসেবাও নেই। অথচ এসব খাতসহ সরকারি পরিপত্রে অনুমোদন না থাকা বিভিন্ন খাতে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে জামালপুর সরকারি আশেক মাহমুদ কলেজ কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে। শুধু তাই নয়, অনুমোদিত কিছু খাতেও একাধিকবার অর্থ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। সবমিলিয়ে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে বছরে প্রায় ৬৭ লাখ টাকা অতিরিক্ত আদায় করা হচ্ছে বলে হিসাব বিশ্লেষণে উঠে এসেছে। সরকারি পরিপত্র উপেক্ষা করে পরিবহন, আইসিটি, চিকিৎসা, অতিথি শিক্ষক, উন্নয়ন তহবিল, পরিচয়পত্র, ব্যবস্থাপনা, ক্রীড়া ও সংস্কৃতি, রোভার স্কাউট, বিএনসিসি এবং নিরাপত্তা ও কর্মচারী খাতে এসব অর্থ নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ। এ নিয়ে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে। ২০২৫ সালের ২২ এপ্রিল মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের এক স্মারকে ‘সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের নিকট হতে আদায়কৃত অর্থের আয়-ব্যয় সংক্রান্ত সংশোধিত নীতিমালা’ প্রণয়ন করা হয়। ওই পরিপত্রের তফসিল ‘খ’ বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, কলেজটিতে অনুমোদন না থাকা কয়েকটি খাতে অর্থ আদায় করা হচ্ছে। একইসঙ্গে অনুমোদিত কিছু খাতেও একাধিকবার টাকা নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ। কলেজের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে প্রথমবর্ষ সম্মান শ্রেণিতে ভর্তির যোগ্যতা অর্জন করেছেন দুই হাজার ১৪৮ জন শিক্ষার্থী। এর মধ্যে কলা ও বাণিজ্য বিভাগের এক হাজার ৪৬৩ জন এবং বিজ্ঞান বিভাগের ৬৮৫ জন। সম্মান, ডিগ্রি, মাস্টার্স ও প্রিলিমিনারি টু মাস্টার্স মিলিয়ে এইচএসসি বাদে কলেজটিতে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ১১ হাজার ২২২ জন। পরিবহন নেই, তবু ২২ লাখ টাকা সবচেয়ে বেশি প্রশ্ন উঠেছে পরিবহন ফি নিয়ে। পরিপত্র অনুযায়ী, শিক্ষার্থীদের জন্য পরিবহন ব্যবস্থা থাকলেই কেবল এ খাতে অর্থ আদায় করা যাবে। কিন্তু কলেজে শিক্ষার্থীদের নিজস্ব কোনো পরিবহন ব্যবস্থা না থাকার পরও তাদের কাছ থেকে ২০০ টাকা করে নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এ হিসেবে কলেজের ১১ হাজার ২২২ শিক্ষার্থীর কাছ থেকে বছরে প্রায় ২২ লাখ ৪৪ হাজার ৪০০ টাকা পরিবহন ফি আদায় করা হচ্ছে বলে হিসাব পাওয়া গেছে। অনুমোদন নেই, তবুও আইসিটি ফি সরকারি পরিপত্রে ‘আইসিটি ফি’ নামে কোনো অনুমোদিত খাত না থাকলেও শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ১২০ টাকা করে আদায় করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। বিভিন্ন বর্ষ ও কোর্স মিলিয়ে এ খাতে বছরে ১৩ লাখ ৪৬ হাজার ৬৪০ টাকা আদায় করা হচ্ছে বলে জানা গেছে। চিকিৎসা ফি আদায় নিয়েও রয়েছে প্রশ্ন। পরিপত্র অনুযায়ী, যেসব প্রতিষ্ঠানে চিকিৎসাসেবা রয়েছে, কেবল সেসব প্রতিষ্ঠানেই এ খাতে অর্থ আদায় করা যাবে। কিন্তু কলেজে চিকিৎসাসেবার ব্যবস্থা না থাকার পরও শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে এ বাবদ টাকা নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ। এতে বছরে দুই লাখ ২৪ হাজার ৪৪০ টাকা আদায় হচ্ছে। অতিথি শিক্ষক ফি অতিথি শিক্ষক ফি নামেও শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ১৫০ টাকা করে নেওয়া হচ্ছে। সরকারি পরিপত্রে এ ধরনের কোনো অনুমোদিত খাতের উল্লেখ নেই। শুধু প্রথম বর্ষ সম্মান শ্রেণির দুই হাজার ১৪৮ জন শিক্ষার্থীর কাছ থেকে এ খাতে তিন লাখ ২২ হাজার ২০০ টাকা নেওয়া হয়েছে বলে হিসাব পাওয়া গেছে। উন্নয়ন তহবিলে প্রতিবছর টাকা পরিপত্র অনুযায়ী, উন্নয়ন তহবিলের অর্থ কেবল প্রথমবর্ষে এককালীন আদায়ের কথা। কিন্তু কলেজে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে প্রত্যেক বর্ষে ১০০ টাকা করে নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ। এতে সম্মান ও ডিগ্রি শ্রেণির শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে বছরে অতিরিক্ত সাত লাখ ৩৪ হাজার ৪০০ টাকা আদায় করা হচ্ছে বলে হিসাব পাওয়া গেছে। পরিচয়পত্রের ফি আদায়েও একই ধরনের অভিযোগ রয়েছে। পরিপত্রে প্রথমবর্ষে একবার পরিচয়পত্রের ফি নেওয়ার কথা বলা হলেও কলেজে দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ বর্ষেও এ বাবদ অর্থ আদায় করা হচ্ছে। এতে বছরে অতিরিক্ত চার লাখ ৭৬ হাজার ৭০০ টাকা আদায় করছে কলেজ কর্তৃপক্ষ। ব্যবস্থাপনা ফি নির্ধারিত ৫০ টাকার পরিবর্তে ১০০ টাকা করে আদায় করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। অর্থাৎ শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ৫০ টাকা করে নেওয়া হচ্ছে। এতে বছরে এ খাতে বাড়তি দুই লাখ ৬১ হাজার ১০০ টাকা আদায় হচ্ছে বলে হিসাব পাওয়া গেছে। একই খাতে দুইবার টাকা ক্রীড়া ও সংস্কৃতি, রোভার স্কাউট এবং বিএনসিসি খাতেও একই অর্থ দুইবার আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। ভর্তি বিজ্ঞপ্তির সময় এসব খাতে অর্থ নেওয়ার পর সেশন ফির আওতায় থাকা পৃথক খাতেও একই বাবদ টাকা আদায় করা হচ্ছে। শুধু প্রথমবর্ষ সম্মান শ্রেণির শিক্ষার্থীদের কাছ থেকেই এসব খাতে অতিরিক্ত দুই লাখ ৭৯ হাজার ২৪০ টাকা আদায় করা হয়েছে বলে হিসাব বিশ্লেষণে উঠে এসেছে। আরও পড়ুন একাদশে ভর্তি / প্রবাসীর সন্তানসহ ৪ ধরনের শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ কোটা নিরাপত্তা-কর্মচারী খাতে কোটি টাকা সবচেয়ে বড় প্রশ্ন উঠেছে নিরাপত্তা, নৈশপ্রহরী ও অত্যাবশ্যকীয় কর্মচারী খাত নিয়ে। এ খাতে সেশন ফির সঙ্গে প্রতি শিক্ষার্থীর কাছ থেকে এক হাজার ১০০ টাকা করে নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ। কলেজের ১১ হাজার ২২২ শিক্ষার্থীর কাছ থেকে এ বাবদ বছরে এক কোটি ২৩ লাখ ৪৪ হাজার ২০০ টাকা আদায় হয় বলে হিসাব পাওয়া গেছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কলেজটিতে ৭৯ জন কর্মচারী কর্মরত। এর মধ্যে ৯জনের বেতন সরকারি বরাদ্দ থেকে দেওয়া হয়। বাকি ৭০ জন কর্মচারীর বেতন শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে আদায় করা অর্থ থেকে পরিশোধ করা হয় বলে জানা গেছে। আরও পড়ুন ‘সর্বহারা পার্টি’ পরিচয়ে এক কলেজের ৬ শিক্ষকের কাছে চাঁদা দাবি কর্মচারীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তাদের মাসিক বেতন ৮ হাজার থেকে ১২ হাজার টাকা। সর্বোচ্চ ১২ হাজার টাকা ধরে হিসাব করলে ৭০ জন কর্মচারীর মাসিক বেতন বাবদ প্রয়োজন আট লাখ ৪০ হাজার টাকা। বছরে এ ব্যয় দাঁড়ায় এক কোটি ৮০০ হাজার টাকা। এর সঙ্গে দুই ঈদে বেতনের সমপরিমাণ ১৬ লাখ ৮০ হাজার টাকা বোনাস যোগ করলে বছরে মোট ব্যয় দাঁড়ায় এক কোটি ১৭ লাখ ৬০ হাজার টাকা। সে হিসেবে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে এ খাতে বছরে পাঁচ লাখ ৮৪ হাজার ২০০ টাকা অতিরিক্ত আদায় করা হচ্ছে বলে অভিযোগ। আরও পড়ুন জাগো নিউজে সংবাদ প্রকাশ / সেই কলেজশিক্ষকের বেতন বন্ধ, অধ্যক্ষকে বরখাস্তের সুপারিশ পরিপত্রে বলা হয়েছে, অনিয়মিত শ্রমিকের সেবা নেওয়ার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিতে হবে। প্রয়োজনে ‘আউটসোর্সিং প্রক্রিয়ায় সেবা গ্রহণ নীতিমালা, ২০১৮’ অনুসরণ করে ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বলা হয়েছে। তবে কলেজ কর্তৃপক্ষ এসব নিয়ম ও অনুমোদন অনুসরণ না করেই কর্মচারী নিয়োগ দিয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। কলেজের শিক্ষার্থী শাওন মোল্লা জাগো নিউজকে বলেন, ‌‘আমরা শিক্ষার্থী হিসেবে বিভিন্ন সময় ফি পরিশোধ করি। কিন্তু অনেক খাতের টাকা কেন নেওয়া হচ্ছে, তা আমাদের পরিষ্কারভাবে জানানো হয় না। বিশেষ করে পরিবহন ব্যবস্থা না থাকার পরও পরিবহন ফি নেওয়ার বিষয়টি আমাদের কাছে অযৌক্তিক মনে হয়।’ আরও পড়ুন হলি ক্রসে বিবাহিতদের ভর্তিতে নিষেধাজ্ঞা, বিয়ে করলেই টিসি! তিনি বলেন, ‘পরিবার থেকে কষ্ট করে টাকা এনে পড়াশোনার খরচ চালাতে হয়। তাই কোনো খাতে অতিরিক্ত অর্থ নেওয়া হলে সেটি শিক্ষার্থীদের ওপর বাড়তি বোঝা হয়ে দাঁড়ায়। আমরা চাই, কলেজ প্রশাসন বিষয়গুলো পরিষ্কার করুক। অপ্রয়োজনীয় বা অননুমোদিত ফি আদায় বন্ধ করুক।’ এ বিষয়ে কলেজ ছাত্রদলের সদস্যসচিব বায়েজিদ বলেন, ‘সরকারি কলেজে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোনো খাতে কত টাকা নেওয়া যাবে, সে বিষয়ে সরকারি নীতিমালা রয়েছে। সেই নীতিমালার বাইরে যদি শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা নেওয়া হয়, তাহলে বিষয়টি তদন্ত করে দেখা দরকার। পরিবহন ব্যবস্থা না থাকলে পরিবহন ফি নেওয়া কিংবা একই খাতে একাধিকবার টাকা নেওয়ার অভিযোগ থাকলে সেটিও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। আমরা এসব বিষয়ে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি চাই।’ আরও পড়ুন শিক্ষার্থীদের উপহারের ফ্রিজ বাসায় নিয়ে গেলেন বিভাগীয় প্রধান কলেজ ছাত্রশিবিরের সভাপতি জামাল হোসেন বলেন, ‘একটি সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অর্থ নেওয়ার ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা থাকা জরুরি। কোন খাতে কত টাকা নেওয়া হচ্ছে এবং সেই অর্থ কোথায় ব্যয় হচ্ছে, তার পূর্ণাঙ্গ হিসাব শিক্ষার্থীদের জানার অধিকার রয়েছে। সরকারি পরিপত্রের বাইরে কোনো খাতে অর্থ আদায় করা হলে তা বন্ধ করতে হবে।’ সবমিলিয়ে বিভিন্ন খাতে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে বছরে প্রায় ৬৭ লাখ টাকা অতিরিক্ত আদায় করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে এই বাড়তি টাকা কোন কোন খাতে ব্যয় করা হচ্ছে, সে বিষয়ে কলেজ কর্তৃপক্ষ সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য-উপাত্ত উপস্থাপন করতে পারেনি। আরও পড়ুন এক রাতেই বদলি ৪৬ শিক্ষক, মতিঝিল আইডিয়ালে চাঞ্চল্য এ বিষয়ে জামালপুর জেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর সেলিম বলেন, ‘যেসব সুবিধার কথা বলে অর্থ আদায় করা হচ্ছে, সেসবই দুর্নীতি। সরকারি পরিপত্রের বাইরে গিয়ে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোনো অর্থ আদায় করা হলে তা বন্ধ করতে হবে। এসব অভিযোগের বিষয়ে দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।’ অভিযোগের বিষয়ে সরকারি আশেক মাহমুদ কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. শওকত আলম মীর বলেন, মাস্টাররোল কর্মচারী বা ফি আদায়ে সরকারের যে নীতিমালা বা পরিপত্র আছে, সেই পরিপত্রের বাইরে কোনো সরকারি কলেজেই যেতে পারে না। আমরা সরকারি আশেক মাহমুদ কলেজও সেই পরিপত্রের বাইরে অবস্থান করছি না। সম্প্রতি নতুন কোনো কর্মচারী নিয়োগ দেওয়া হয়নি বলেও দাবি করেন তিনি। এসআর/জেআইএম
বিজ্ঞাপন Ad
পাঠকের মতামত
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন Ad
বিজ্ঞাপন Ad

সম্পাদক ও প্রকাশক: <b>ডি. হাসান. খান</b> | নির্বাহী সম্পাদক: <b>এ. এইচ. সুমন</b>
<div><b>বেলভিউ টাওয়ার ৭১ বীর উত্তম সিআর দত্ত রোড, হাতিরপুল, ঢাকা-১২০৫</b></div>