জাতীয়

নেংটি ইঁদুরের দৌরাত্ম্য

P
Prothom Alo অনলাইন ডেস্ক
1 বার পঠিত
বিজ্ঞাপন Ad

ইঁদুরের দৌরাত্ম্য যে কতটা ভয়াবহ হতে পারে, সেটা কয়েক দিন ধরে হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছি।

একটা পুঁচকে নেংটি ইঁদুরের এতই ক্ষমতা যে তার ভয়ে জীবন অতিষ্ঠ প্রায়।

কোনোভাবেই তার থেকে রেহাই পাচ্ছি না। অবশেষে বাজার থেকে চানাচুর, দুধ-কলা আর বিষ কিনে এনেও যখন কাজ হলো না, তখন নিরুপায় হয়ে সিদ্ধান্ত নিলাম আজ এর একটা বিহিত করতেই হবে।

ছোট ভাইকে বললাম... 

চল আজ এই ইঁদুরের সঙ্গে হেস্তনেস্ত কিছু একটা করতেই হবে!

মানুষ হয়ে সামান্য একটা পুঁচকে ইঁদুরের কাছে হেনস্তা! এভাবে তো আর বেঁচে থাকা সম্ভব হচ্ছে না!

দরজা–জানালা ভালোভাবে বন্ধ কর তো!

পুঁচকে ইঁদুরের এক দিন কি আমাদের এক দিন।

আমার মারাত্মক আর অগ্নিমূর্তি চেহারা দেখে ছোট ভাই দারুণ উদ্যমে কোথা থেকে যেন একটা লোহার রড নিয়ে এল আর আমি একটা ক্রিকেট খেলার ব্যাট খুঁজে বের করে হাতে নিলাম!

ঘরে দুইটা খাট আছে, একটার ওপর আরেকটা খাট তুলে রাখলাম!

যেহেতু ইঁদুরের বই পছন্দ এবং নিয়মিত বই পড়ার অভ্যাস আছে, এই অনুমানের ভিত্তিতে বইয়ের তাক থেকে বই সরাতেই নেংটি ইঁদুর দৌড়ে আমার পড়ার টেবিলের নিচে ঢুকলেন!

ছোট ভাই লোহার রড নিয়ে প্রস্তুত আর আমি ব্যাট নিয়ে। টেবিলটা সরাতেই ইঁদুর ভাইয়া মুহূর্তের মধ্যে কোথায় যেন উধাও হয়ে গেলেন! বুঝলাম নেংটি ভাইয়া এবার হয়তো টেবিলের ওপর রাখা বইয়ের স্তূপে লুকিয়েছেন। যেই ভাবা সেই কাজ...টেবিল থেকে সাবধানে বইগুলো নামালাম। কিন্তু হায়! ইঁদুর ভাইয়া কোথায় গেলেন!

পরে বইগুলো টেবিল থেকে নামিয়ে টেবিলটা ওলটাতেই দেখি নেংটি ভাইয়া ভাঙা ড্রয়ারের ভেতর ঢুকে আরাম করে বসে আছেন এবং আমাদের দেখে দুই হাত নেড়ে হাই বললেন! 

রাগে ফেটে পড়ে, তোরে আজ খাইছি বলে ছোট ভাই লোহার রড উঁচু করতে করতেই নেংটি ভাইয়া ভোঁ–দৌড় দিয়ে আরেকটা টেবিলের নিচে ঢুকে পড়লেন।

টেবিলটাতে অনেকবার বাড়ি দিলাম জোরে জোরে এই জন্য যে নেংটি ভাইয়া হয়তো শব্দ শুনে ভয়ে বেরিয়ে এসে দুই হাত ওপরে তুলে আমাদের কাছে আত্মসমর্পণ করবেন! কিন্তু না, তিনি বের হয়ে এলেন না! 

আবারও টেবিলের সমস্ত বই নিচে নামিয়ে যেমনি ড্রয়ার খুলেছি, অমনি তিনি দিলেন আরেক ভৌঁ–দৌড়। এইবার তিনি দরজার নিচে সামান্য যে ফাঁকা ছিল, সেটা দিয়ে পগার পার হয়ে গেলেন!

হতাশ হয়ে আমরা কিছুক্ষণ ইঁদুর ভাইয়াকে শালা, ইতর, অসভ্য ইত্যাদি অকথ্য ভাষায় গালাগালি লাগলাম!

কিছুক্ষণ পর পাশের রুমের বড় ভাই এসে বললেন, কী ব্যাপার ভাই, লাঠিসোটা নিয়ে মারামারি করবেন নাকি...! বড় ভাইকে পুরো আধা ঘণ্টা ধরে নেংটি ইঁদুরের কেচ্ছা বললাম এবং আমাদের অক্লান্ত নিষ্ফল পরিশ্রম সম্পর্কে জানালাম। 

বড় ভাই রহস্যময় হাসি দিয়ে বললেন: যার যে কাজে অভ্যাস নেই , তার সেই কাজ না করাই ভালো! আর করতে গেলে তার অবস্থা ইঁদুরের মতোই হবে! বড় ভাইয়ের কথা শুনে আমি আর ছোট ভাই বেশ অপমানিত বোধ করলাম। সামান্য একটা নেংটি ইঁদুরের জন্য এভাবে কথা শুনতে হলো। 

হায় রে কপাল! এত কষ্ট করে ব্যর্থ হলাম। সান্ত্বনা দেবেন কি, উল্টো কী বললেন এগুলো।

পরে নিজে নিজে সান্ত্বনা খুঁজে নিলাম এটা ভেবে যে ‘অসভ্য নেংটি ইঁদুর আর যা–ই হোক, তোরে তো ঘর ছাড়া করতে পেরেছি!’ ছোট ভাই খুব জ্ঞানী, জ্ঞানী চেহারা নিয়ে অত্যন্ত গাম্ভীর্যের সঙ্গে বলল ভাই,  ‘বর্তমান সমাজেও এমন নেংটি ইঁদুরের দৌরাত্ম্য সর্বত্রই!’

বিজ্ঞাপন Ad
পাঠকের মতামত
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন Ad
বিজ্ঞাপন Ad

সম্পাদক ও প্রকাশক: <b>ডি. হাসান. খান</b> | নির্বাহী সম্পাদক: <b>এ. এইচ. সুমন</b>
<div><b>বেলভিউ টাওয়ার ৭১ বীর উত্তম সিআর দত্ত রোড, হাতিরপুল, ঢাকা-১২০৫</b></div>