জাতীয়

চিকিৎসা সহায়তা নিয়ে রাবি অধ্যাপক-শিক্ষক সমিতির পাল্টাপাল্টি বক্তব্য

j
jagonews24 অনলাইন ডেস্ক
1 বার পঠিত
বিজ্ঞাপন Ad
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) শিক্ষক সমিতির আর্থিক অসহযোগিতায় চিকিৎসা ব্যয় মেটাতে না পেরে ছেলের মৃত্যু এবং তিনিও মৃত্যুর পথে বলে অভিযোগ তুলেছেন ক্রপ সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি বিভাগের অধ্যাপক মো. আলি আজগর। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে সহযোগিতা করা হয়েছিল বলে জানিয়েছে রাবি শিক্ষক সমিতি। বুধবার (১৯ জুলাই) রাতে সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে এক দীর্ঘ পোস্টে আলি আজগর এ অভিযোগ তোলেন। ফেসবুক পোস্টে তিনি লেখেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো শিক্ষক অসুস্থ হলে শিক্ষক সমিতি আর্থিক সহযোগিতা প্রদান করে। কিন্তু তাকে সাহায্য না করে তাদের অন্য প্রিয় শিক্ষককে সাহায্য করা হয়েছে। এছাড়া সহযোগিতা না করে তার স্ত্রীকে একাধিকবার ঘুরিয়ে শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক রাত ৮ থেকে ৯টায় ডাকলে তিনি তার স্ত্রীকে যেতে দেননি বলে অভিযোগ তুলেছেন এই শিক্ষক। তবে শিক্ষক সমিতির দাবি, তাদের পক্ষ থেকে পূর্ণ সহযোগিতা করা হয়েছিল। এছাড়া সমিতির পক্ষ থেকে যেই প্রক্রিয়ায় সাহায্য করা হয়, তিনি সেই প্রক্রিয়ায় আবেদন করেন না এবং সঠিক প্রক্রিয়ায় সহযোগিতা নিতেও আসেন না বলে জানিয়েছে রাবি শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক। ফেসবুক পোস্টে আলি আজগর লেখেন, আমার পুত্র আর্থিক সংকটে গত ১৫ জানুয়ারি মারা গেছে, রাবি শিক্ষক সমিতি আমার চিকিৎসার খরচ না দেওয়ায় আমিও একই পথে। বর্তমানে আমার হার্টের পাম্পিং সিস্টেম অতিরিক্ত দুর্বল হওয়ায় ওষুধ খেয়েও হার্ট ভালোভাবে সারা শরীরে রক্ত পাঠাতে পারছে না। আর্থিক সংকটে হার্টে সিআরটি (CRT) পেসমেকার লাগাতে পারছি না। হার্টে সিআরটি পেসমেকার লাগাতে প্রায় পাঁচ লক্ষ টাকা প্রয়োজন। তার অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো শিক্ষক অসুস্থ হলে শিক্ষক সমিতি আর্থিক সহযোগিতা প্রদান করে কারণ আমরা শিক্ষকেরা প্রতি মাসে শিক্ষক সমিতির কল্যাণ তহবিলে চাঁদা দেয়। গত অক্টোবর-নভেম্বর মাসে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের কাছে দুই বার পাঁচ লক্ষ টাকা আর্থিক সহযোগিতা চেয়ে আবেদন করি। তারা আমাকে টাকা না দিয়ে তাদের প্রিয় শিক্ষককে প্রায় ২৫ লক্ষ টাকা অনুদান দিয়েছে। কারণ আমি তাদের প্রিয় উপাচার্যের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেছিলাম। সমিতির সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে তিনি আরও লেখেন, আমার পুত্র গত জানুয়ারিতে লাইফ সাপোর্টে থাকাকালীন আমার ওয়াইফ শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদকের সঙ্গে দেখা করে আবেদন জমা দিয়ে পাঁচ লক্ষ টাকা লোন চেয়েছিল। তিনি দুই দিন আমার ওয়াইফ কে ঘুরিয়ে রাত ৮ থেকে ৯টায় জুবেরি ক্লাবে তার সঙ্গে দেখা করতে বললে, আমি যেতে দেইনি। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. ওমর ফারুক সরকার বলেন, এগুলো সব মিথ্যা। তাকে এর আগে সমিতি থেকে দুই লাখ ৫০ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছিল। এছাড়া যে প্রক্রিয়ায় সহযোগিতা দেওয়া হয় তিনি সে প্রক্রিয়ায় আসেন না। তিনি আরও বলেন, আমরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলেছি তাকে সহযোগিতার জন্য। এর আগের ভিসি স্যারও তাকে সাহায্য করার জন্য উদ্যোগ নিয়েছিল কিন্তু তাকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। শিক্ষক সমিতিও তাকে সাহায্য করার জন্য আসতে বললে তিনি আসেনি। শিক্ষক সমিতির তৎকালীন সভাপতি হাবিবুর রহমান বলেন, শিক্ষক সমিতির নিয়মে শিক্ষকের সন্তানের জন্য সহযোগিতার বিধান না থাকা সত্ত্বেও আমরা মানবিক কারণে সমিতি থেকে টাকা উত্তোলন করে তিন লাখ টাকা তাকে দিয়েছিলাম। আমরা যে তাকে সাহায্য করেছি সে বরাবরই সেটা অস্বীকার করে আসছে। তার অভিযোগের কোনো সত্যতা নেই। তিনি নিয়মিতই ফেসবুকে এসব লেখেন। মিরাজ হোসেন/এসজেডএইচ/জেআইএম
বিজ্ঞাপন Ad
পাঠকের মতামত
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন Ad
বিজ্ঞাপন Ad

সম্পাদক ও প্রকাশক: <b>ডি. হাসান. খান</b> | নির্বাহী সম্পাদক: <b>এ. এইচ. সুমন</b>
<div><b>বেলভিউ টাওয়ার ৭১ বীর উত্তম সিআর দত্ত রোড, হাতিরপুল, ঢাকা-১২০৫</b></div>