জাতীয়

২১১ দেশের বিশ্বকাপ, ইসরায়েল-ফিলিস্তিনকে দিয়ে উদ্বোধনী ম্যাচ

j
jagonews24 অনলাইন ডেস্ক
1 বার পঠিত
বিজ্ঞাপন Ad
ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো বিশ্ব ফুটবলের পরিধি আরও বড় করার উচ্চাভিলাষী এক পরিকল্পনা করেছিলেন। প্রস্তাবটি ছিল ২১১ দেশের অংশগ্রহণে অনূর্ধ্ব-১৫ বিশ্বকাপ আয়োজনের। শুধু দলসংখ্যাতেই নয়, আয়োজনের ধরনেও ছিল বড় চমক- উদ্বোধন বা সমাপনী অনুষ্ঠান করার কথা ছিল ওয়াল্ট ডিজনি ওয়ার্ল্ডে। এমনকি প্রতিযোগিতার উদ্বোধনী ম্যাচ হিসেবে ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনকে মুখোমুখি করার ভাবনাও ছিল ইনফান্তিনোর। তবে দীর্ঘ পরিকল্পনা ও বিনিয়োগকারীদের আগ্রহের পরও শেষ পর্যন্ত মাঠে গড়ায়নি এই প্রকল্প। ২০২৬ বিশ্বকাপ শুরুর আগেই নীরবে পরিকল্পনাটি বাতিল করে দেওয়া হয়। লিটল লিগের আদলে বিশাল যুব বিশ্বকাপ পরিকল্পনাটির মূল ভাবনা ছিল বেসবলের জনপ্রিয় ‘লিটল লিগ’ মডেল থেকে অনুপ্রেরণা নেওয়া। বিশ্বের ২১১টি ফিফা সদস্য দেশকে নিয়ে অনূর্ধ্ব-১৫ পর্যায়ে একটি বিশাল বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা আয়োজন করতে চেয়েছিলেন ইনফান্তিনো। প্রস্তাবটি শুধু একটি সাধারণ যুব টুর্নামেন্টের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না। এটিকে বাণিজ্যিকভাবে বড় একটি ক্রীড়া ইভেন্টে পরিণত করার পরিকল্পনাও ছিল। তরুণ ফুটবলারদের পাশাপাশি বিশ্বব্যাপী দর্শক, সম্প্রচারমাধ্যম ও বাণিজ্যিক অংশীদারদের আকৃষ্ট করাই ছিল এর অন্যতম লক্ষ্য। তবে এত বড় একটি আয়োজনের জন্য প্রয়োজন ছিল বিশাল অবকাঠামো ও বাণিজ্যিক সহযোগিতা। সেই জায়গাতেই যুক্ত হয় যুক্তরাষ্ট্রের বেসরকারি বিনিয়োগকারীরা। প্রস্তাবটির বিস্তারিত নকশা তৈরি করেছিলেন মেক্সিকো ফুটবল ফেডারেশনের সাবেক কমিশনার হুয়ান কার্লোস রদ্রিগেজ। প্রকল্পটির পেছনে ছিল বেসরকারি মার্কিন মূলধন। এরসঙ্গে যুক্ত ছিল এলড্রিজ ইন্ডাস্ট্রিজ, যার চেয়ারম্যান চেলসি ক্লাবের সহ-মালিক টড বোহলি। আয়োজকরা সম্ভাব্য ভেন্যু নিয়েও আলোচনা করেছিলেন। এমনকি ইএসপিএনের সঙ্গেও এ বিষয়ে কথাবার্তা হয়েছিল। ফ্লোরিডার অরল্যান্ডোয় অবস্থিত ইএসপিএন ওয়াইড ওয়ার্ল্ড অব স্পোর্টস কমপ্লেক্সকে সম্ভাব্য ভেন্যু হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এই কমপ্লেক্সটি ওয়াল্ট ডিজনি ওয়ার্ল্ড রিসোর্টের ভেতরেই অবস্থিত। ফলে ফুটবল, বিনোদন ও বাণিজ্যিক আয়োজনকে একসঙ্গে যুক্ত করার সুযোগ ছিল এই প্রকল্পে। ডিজনিল্যান্ডে অনুষ্ঠান, উদ্বোধনে ইসরায়েল-ফিলিস্তিন পরিকল্পনার সবচেয়ে আলোচিত দিকগুলোর একটি ছিল উদ্বোধন বা সমাপনী অনুষ্ঠান ডিজনি থিম পার্কে আয়োজনের ভাবনা। অর্থাৎ একটি যুব বিশ্বকাপকে শুধু ফুটবল প্রতিযোগিতা নয়, বরং বড় ধরনের বিনোদন ও বাণিজ্যিক ইভেন্ট হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা ছিল। এর চেয়েও বেশি তাৎপর্যপূর্ণ ছিল উদ্বোধনী ম্যাচের পরিকল্পনা। ইনফান্তিনো চেয়েছিলেন ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনকে মুখোমুখি করে টুর্নামেন্ট শুরু করতে। ভাবনাটির পেছনে ছিল ফুটবলকে ঐক্য ও শান্তির প্রতীক হিসেবে তুলে ধরা। দুই দেশের তরুণ ফুটবলারদের একই মাঠে খেলানোর মধ্য দিয়ে একটি প্রতীকী বার্তা দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু বাস্তব রাজনৈতিক পরিস্থিতি সেই পরিকল্পনায় বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। করমর্দন না হওয়ায় ভেস্তে যায় ভাবনা ফিফা কংগ্রেসে ইসরায়েল ও ফিলিস্তিন ফুটবল ফেডারেশনের প্রতিনিধিদের সম্পর্ক আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। ভ্যাঙ্কুভারে অনুষ্ঠিত কংগ্রেসে দুই পক্ষের প্রতিনিধিরা পরস্পরের সঙ্গে করমর্দন পর্যন্ত করেননি। এই পরিস্থিতির পর ইসরায়েল-ফিলিস্তিন ম্যাচ আয়োজনের ধারণা আর চূড়ান্ত প্রস্তাবে রাখা হয়নি। ফলে যে ম্যাচকে ইনফান্তিনো ফুটবলের মাধ্যমে ঐক্যের প্রতীক হিসেবে ব্যবহার করতে চেয়েছিলেন, সেটিও পরিকল্পনা থেকে বাদ পড়ে। শেষ পর্যন্ত পুরো অনূর্ধ্ব-১৫ বিশ্বকাপ প্রকল্পটিই আর এগোয়নি। বাণিজ্যিকীকরণ নিয়ে নতুন প্রশ্ন ২১১ দেশের এই যুব বিশ্বকাপ আয়োজনের পরিকল্পনা সামনে আসায় ফুটবলের ক্রমবর্ধমান বাণিজ্যিকীকরণ নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। বিশেষ করে অনূর্ধ্ব-১৫ পর্যায়ের খেলোয়াড়দের নিয়ে এত বড় আন্তর্জাতিক আয়োজন করলে তাদের ওপর প্রতিযোগিতার চাপ কতটা বাড়বে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আন্তর্জাতিক ফুটবলের ক্যালেন্ডার এমনিতেই ক্রমশ ব্যস্ত হয়ে উঠছে। সিনিয়র পর্যায়ে ম্যাচ ও টুর্নামেন্টের সংখ্যা বাড়ার পাশাপাশি বয়সভিত্তিক ফুটবলেও যদি বড় বড় প্রতিযোগিতা যোগ হয়, তাহলে তরুণ খেলোয়াড়দের বিশ্রাম, প্রশিক্ষণ ও শারীরিক বিকাশ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হতে পারে। এই প্রকল্প বাতিল হওয়ায় আপাতত ফিফাকে সেই অতিরিক্ত চাপ ও সমালোচনার মুখে পড়তে হচ্ছে না। থামছে না ইনফান্তিনোর সম্প্রসারণ ভাবনা অনূর্ধ্ব-১৫ বিশ্বকাপের পরিকল্পনা শেষ পর্যন্ত বাতিল হলেও বিশ্ব ফুটবলের পরিধি বাড়ানো এবং নতুন বাণিজ্যিক সুযোগ তৈরির বিষয়ে ইনফান্তিনোর আগ্রহ থেমে নেই। বিশেষ করে উত্তর আমেরিকাকে কেন্দ্র করে নতুন প্রতিযোগিতা, সম্প্রচারস্বত্ব ও বাণিজ্যিক অংশীদারত্ব বাড়ানোর দিকে ফিফার মনোযোগ রয়েছে। ২০২৬ বিশ্বকাপকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে ফুটবলের বাজার আরও বিস্তৃত করার সুযোগও তৈরি হয়েছে। তবে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হলো- বাণিজ্যিক প্রবৃদ্ধির সঙ্গে খেলোয়াড়দের কল্যাণ এবং আন্তর্জাতিক সূচির ভারসাম্য বজায় রাখা। ২১১ দেশের অনূর্ধ্ব-১৫ বিশ্বকাপ তাই শেষ পর্যন্ত বাস্তবায়িত না হলেও, ইনফান্তিনোর প্রস্তাবটি বিশ্ব ফুটবলের ভবিষ্যৎ কোন দিকে এগোচ্ছে- তার একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ হয়ে থাকল। আইএইচএস/
বিজ্ঞাপন Ad
পাঠকের মতামত
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন Ad
বিজ্ঞাপন Ad

সম্পাদক ও প্রকাশক: <b>ডি. হাসান. খান</b> | নির্বাহী সম্পাদক: <b>এ. এইচ. সুমন</b>
<div><b>বেলভিউ টাওয়ার ৭১ বীর উত্তম সিআর দত্ত রোড, হাতিরপুল, ঢাকা-১২০৫</b></div>