বিজ্ঞাপন
দেশের অন্যতম বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা বাংলাদেশ এক্সটেনশন এডুকেশন সার্ভিসেস (বিজ) ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন করেছে।
শনিবার (২২ আগস্ট) দুপুরে রাজধানীর ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় (আইসিসিবি) দিনব্যাপী আয়োজিত অনুষ্ঠানে সারাদেশ থেকে আসা প্রায় ৫ হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারী অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে বিজের প্রতিষ্ঠাতা ও সিনিয়র অ্যাডভাইজার সাইফুল ইসলাম রবিনকে বিশেষ সম্মাননা দেওয়া হয়। প্রতিষ্ঠাতার স্মৃতিচারণ ও বক্তব্যের মধ্য দিয়ে তুলে ধরা হয় গত পাঁচ দশকে বিজের উন্নয়ন ও মানবিক কর্মকাণ্ডের নানা দিক।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিজের চেয়ারম্যান ও কার্যনির্বাহী পরিষদের সভাপতি মোহাম্মদ ইসমাইল। প্রধান অতিথি ছিলেন মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটির (এমআরএ) এক্সিকিউটিভ ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন। বিশেষ অতিথি ছিলেন পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশনের (পিকেএসএফ) ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. ফজলুল কাদের।
আরও পড়ুন
বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ বাড়ানো ও ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিতে জোর
অনুষ্ঠানে এমআরএর এক্সিকিউটিভ ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন বলেন, ‘নো রেগুলেশন ইজ বেটার দেন ব্যাড রেগুলেশন।’ নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসেবে খারাপ নিয়ম দিয়ে নিয়ন্ত্রণ করার চেয়ে ভালো নীতি প্রণয়ন করা জরুরি বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি বলেন, মাইক্রোফাইন্যান্স খাতে দীর্ঘমেয়াদি নীতি প্রণয়নের কাজ চলছে। এ খাতে প্যাশনেট নেতৃত্ব প্রয়োজন। গত কয়েক বছরে বিপুলসংখ্যক প্রতিষ্ঠান লাইসেন্সের জন্য আবেদন করেছে। তাদের মধ্যে কেউ কেউ ব্যবসার উদ্দেশ্যে এসেছে। খারাপ কিছু প্রতিষ্ঠানের কারণে ভালো প্রতিষ্ঠানগুলোর ভাবমূর্তি সংকটে পড়ছে। এ ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে।
অধ্যাপক হেলাল উদ্দিন বলেন, নিয়ম মেনে পরিচালিত অনেক এমএফআই প্রতিষ্ঠানের আর্থিক অবস্থা ব্যাংকের তুলনায় ভালো। অনেক ব্যাংকের নেট অ্যাসেট ভ্যালু ঋণাত্মক হয়ে গেছে। অন্যদিকে মাইক্রোফাইন্যান্স প্রতিষ্ঠানের সঞ্চয় ও ঋণ কার্যক্রমের কারণে তাদের অবস্থান অনেক ক্ষেত্রে শক্তিশালী।
তিনি আরও জানান, মাইক্রোফাইন্যান্স খাতের মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের শুক্র ও শনিবার কাজ না করানো, সুনির্দিষ্ট বেতন কাঠামো নির্ধারণ এবং বিভিন্ন ভাতাসহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
অনুষ্ঠানে বিজের প্রতিষ্ঠাতা সাইফুল ইসলাম রবিন বলেন, ‘স্বাস্থ্য না থাকলে কিছুই নেই। তাই ভালো স্বাস্থ্য নিয়ে কাজ শুরু করেছিলাম। নারীদের জন্য বেশি কাজ করেছি। কারণ একটি পরিবার নারীদের ওপর বেশি নির্ভরশীল।’
তিনি বলেন, ভূমিহীন, কর্মহীন ও শিশুদের নিয়েও শুরু থেকেই কাজ করেছেন। ভূমিহীনদের কর্মসংস্থানের জন্য ল্যান্ডলেস প্রোগ্রাম এবং শিশুদের জন্য প্রি-স্কুল কার্যক্রম চালু করা হয়। শিক্ষক নিয়োগ দিয়ে শিক্ষার কার্যক্রমও শুরু করা হয়েছিল।
আরও পড়ুন
মানহীন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় চিহ্নিত করে ব্যবস্থা: শিক্ষামন্ত্রী
নিজের প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আবেগের সম্পর্ক তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আমি কোনো সময় এটাকে চাকরি হিসেবে দেখিনি। ইটস মাই প্যাশন।’ শারীরিক অসুস্থতা নিয়েও সুবর্ণজয়ন্তীর অনুষ্ঠানে উপস্থিত হওয়ার কথা জানান তিনি।
বিজ প্রতিষ্ঠাতার ভাষ্য, তার দুটি পরিবার—একটি রক্তের পরিবার এবং অন্যটি বিজ। প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিজের সন্তানের মতো উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘তোমরা আছো বলেই আমি আছি। আমি তোমাদের মধ্যে বেঁচে থাকবো।’
বিজের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ইসমাইল বলেন, প্রতিষ্ঠান যে হারে বড় হচ্ছে, সেই হারে কর্মীদের মানসিকভাবেও প্রস্তুত করতে হবে। তা না হলে প্রতিষ্ঠানকে ব্যর্থতার মুখে পড়তে হবে।
দিনব্যাপী আয়োজনে স্বাগত বক্তব্য, অতিথিদের বক্তব্য, সভাপতির বক্তব্য, দীর্ঘ কর্মজীবনে বিশেষ অবদান রাখা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পুরস্কার ও সম্মাননা, প্রামাণ্যচিত্র ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনাসহ বিভিন্ন আয়োজন ছিল।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, গত পাঁচ দশকে ক্ষুদ্রঋণ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, দক্ষতা উন্নয়ন ও সামাজিক ক্ষমতায়ন কর্মসূচির মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি দেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে কাজ করেছে। বর্তমানে মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটির তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে বিজ দেশের ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানগুলোর (এমএফআই) মধ্যে সপ্তম অবস্থানে রয়েছে বলে জানানো হয়।
এসএম/এমএমকে
বিজ্ঞাপন