বিজ্ঞাপন
মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে আবু সাঈদ স্ট্যান্ডের ব্যানার সরিয়ে ফেলার দাবি ঘিরে গতকাল রাত থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয় আলোচনা-সমালোচনা। তবে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) বলছে, আবু সাঈদ স্ট্যান্ডের ব্যানার সরানো হয়নি। বরং সেটি আগের জায়গাতেই রয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত সাবেক উপদেষ্টা ও এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার একটি ফেসবুক পোস্টকে ঘিরে। সেখানে তিনি দাবি করেন, তামিম ইকবালের নেতৃত্বাধীন বিসিবি আবু সাঈদের নামে করা গ্যালারির ব্যানার সরিয়ে দিয়েছে।
ফেসবুক পোস্টে আসিফ মাহমুদ লেখেন, ‘৫ আগস্টের পর শহীদ আবু সাঈদের সম্মানে মিরপুর স্টেডিয়ামে একটি গ্যালারির নামকরণ করেছিলাম আমরা। নতুন সরকারের অবৈধ বিসিবি প্রেসিডেন্ট সেটা অপসারণ করেছে। ধন্যবাদ নতুন সরকার, ন্যাপোকিডগণ এবং নতুন সভাপতিকে।’
পোস্টটি দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এরপর বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতা ও অন্য অনেকেও বিষয়টি নিয়ে পোস্ট দেন। ফলে অল্প সময়ের মধ্যেই বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। তবে এর মধ্যেই আবু সাঈদ স্ট্যান্ডের ব্যানার আগের জায়গায় থাকার একটি ছবিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
এরপর নতুন করে দাবি ওঠে, বৃষ্টিতে ব্যানারটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় সেটি সরিয়ে নতুন ব্যানার লাগানোর পরিকল্পনা ছিল। সমালোচনা শুরু হওয়ার পর রাতেই সেটি পুনরায় লাগানো হয়েছে বলেও দাবি করা হয়।
তবে ব্যানার সরানো কিংবা নতুন করে লাগানোর- দুই দাবিই নাকচ করেছেন বিসিবি পরিচালক সিরাজউদ্দীন মোহাম্মদ আলমগীর। জাগো নিউজকে তিনি বলেন, ‘এটা (আবু সাঈদ স্ট্যান্ডের ব্যানার) আসলে স্বশরীরে গিয়ে দেখা উচিত। এটা আসলে সরানো হয়নি, এটা আছে।’
ব্যানারটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় নতুন করে লাগানোর বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এমন কিছু আমার জানা নেই। ওটা সরানোই হয়নি। আর এটা সরানো হয়েছে বা সরানো হবে এমন কিছুও শুনিনি আমি। এ ধরনের কোনো তথ্য আমার কাছে নেই। আমি কালকও গিয়ে দেখলাম ওটা ওখানেই আছে। আরও সংস্কার করার কথা বলছে, কাজ শুরু করছে।’
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি যেভাবে ছড়িয়েছে, সেটিকে ‘প্রোপাগান্ডা’ হিসেবে দেখছেন বিসিবির এই পরিচালক। তিনি বলেন, ‘এটা তো সরানো সম্ভব না। এই যে প্রোপাগান্ডা যেভাবে ছড়ায় তারা, এটা তো খুবই অস্বাভাবিক। কালকে একজন পোস্ট দেওয়ার পরে দেখলাম আরও ১৫টা পোস্ট আসছে কয়েক মিনিটের ভেতরে।’
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ হিসেবে পরিচিত আবু সাঈদ। ওই বছরের ১৬ জুলাই কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে পুলিশের গুলিতে নিহত হন তিনি।
এসকেডি/আইএইচএস/
বিজ্ঞাপন