প্রচ্ছদ

ইসরায়েলের সঙ্গে চুক্তির চেষ্টা করছে সিরিয়া

j
jagonews24 অনলাইন ডেস্ক
8 বার পঠিত
বিজ্ঞাপন Ad
সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা জানিয়েছেন, ইসরায়েলের সঙ্গে একটি নিরাপত্তা চুক্তিতে পৌঁছাতে সক্রিয়ভাবে কাজ করছে তার সরকার। কয়েকটি দেশের অংশগ্রহণে এই উদ্যোগ চলছে বলে তিনি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই চুক্তি ভবিষ্যতে একটি বিস্তৃত শান্তি প্রতিষ্ঠার পথ খুলে দিতে পারে। আল জাজিরার ‘আল মুকাবালা’ অনুষ্ঠানে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে আল-শারা বলেন, সম্ভাব্য কোনো চুক্তির ফলে অধিকৃত গোলান মালভূমির ওপর সিরিয়ার অধিকার কোনোভাবেই ক্ষুণ্ন হবে না। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ওই ভূখণ্ডের দাবি সিরিয়া কখনও ছাড়বে না। তিনি জানান, তার সরকার ইসরায়েলের সঙ্গে সরাসরি সংঘর্ষ এড়িয়ে চলার নীতি অনুসরণ করছে। তার মতে, একটি নিরাপত্তা সমঝোতা ভবিষ্যতে চলমান সংকটের আরও বিস্তৃত ও স্থায়ী সমাধানের পথ তৈরি করতে পারে। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে বাশার আল-আসাদের সরকারের পতনের পর আল-শারা ক্ষমতায় আসেন। এরপর থেকেই দক্ষিণ সিরিয়ায় ইসরায়েলের একাধিক সামরিক অভিযান ও বিমান হামলা হয়েছে। লেবাননে সামরিক হস্তক্ষেপের পরিকল্পনা নেই লেবানন প্রসঙ্গে আল-শারা বলেন, প্রতিবেশী দেশটিতে সামরিক হস্তক্ষেপের কোনো পরিকল্পনা সিরিয়ার নেই। এ বিষয়ে বিভিন্ন গুঞ্জন ছড়ালেও তা সঠিক নয়। তিনি জানান, বর্তমানে লেবাননের চলমান সংকট কাটিয়ে উঠতে দেশটির কর্তৃপক্ষকে কীভাবে সহায়তা করা যায়, সে বিষয়ে আলোচনা করছে সিরিয়া। আল-শারা বলেন, লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলের দখল করা এলাকা পুনরুদ্ধার এবং দেশটির অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি রাষ্ট্রের হাতে থাকা উচিত। তিনি যুদ্ধ ও শান্তি সংক্রান্ত সব সিদ্ধান্ত কেবল লেবাননের রাষ্ট্রীয় কর্তৃপক্ষের হাতে থাকার পক্ষেও সমর্থন জানান। তার মতে, লেবাননের সংকট কেবল নিরাপত্তা ব্যবস্থা দিয়ে সমাধান করা সম্ভব নয়; এর জন্য রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক বিভিন্ন দিক নিয়ে একটি সমন্বিত সমাধান প্রয়োজন। তিনি সতর্ক করে বলেন, লেবাননে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি হলে তার সরাসরি প্রভাব সিরিয়ার ওপর পড়বে। পাশাপাশি ইরানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যে আরও বিস্তৃত হলে পুরো অঞ্চলে গুরুতর অস্থিরতা তৈরি হতে পারে। নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার ও এসডিএফ চুক্তি সিরিয়ার অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আল-শারা বলেন, শুধু যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য দেশের অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নিলেই যথেষ্ট হবে না। একই সঙ্গে সিরিয়াকে সন্ত্রাসবাদের পৃষ্ঠপোষক রাষ্ট্রের তালিকা থেকেও বাদ দিতে হবে। উত্তর ও পূর্ব সিরিয়ার কিছু অঞ্চল নিয়ন্ত্রণকারী কুর্দি নেতৃত্বাধীন সিরিয়ান ডেমোক্রেটিক ফোর্সেস (এসডিএফ)-এর সঙ্গে সরকারের চুক্তি বাস্তবায়নে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে বলে তিনি স্বীকার করেন। তবে সরকার এখনও ওই চুক্তি বাস্তবায়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং শেষ পর্যন্ত এটি সফল হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। নিখোঁজদের খুঁজতে বিশেষ কমিটি সিরিয়ার গৃহযুদ্ধ চলাকালে নিখোঁজ হওয়া ব্যক্তিদের সন্ধানে একটি বিশেষ কমিটি গঠনের ঘোষণাও দেন প্রেসিডেন্ট আল-শারা। জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী, ২০১১ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে প্রায় এক লাখ মানুষ জোরপূর্বক নিখোঁজ হয়েছেন। তবে সিরিয়ার ন্যাশনাল কমিশন অন মিসিং পারসন্স মনে করে, প্রকৃত সংখ্যা তিন লাখ পর্যন্ত হতে পারে। আল-শারা জানান, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করে কমিটিটি কাজ করবে এবং এ বিষয়ে অভিজ্ঞ দেশগুলোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সহযোগিতা করবে। সূত্র: আল-জাজিরা এমএসএম
বিজ্ঞাপন Ad
পাঠকের মতামত
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন Ad
বিজ্ঞাপন Ad

সম্পাদক ও প্রকাশক: <b>ডি. হাসান. খান</b> | নির্বাহী সম্পাদক: <b>এ. এইচ. সুমন</b>
<div><b>বেলভিউ টাওয়ার ৭১ বীর উত্তম সিআর দত্ত রোড, হাতিরপুল, ঢাকা-১২০৫</b></div>