জাতীয়

আবারও পাডিক্কালের সেঞ্চুরি, কলম্বোয় এগিয়ে ভারত

j
jagonews24 অনলাইন ডেস্ক
2 বার পঠিত
বিজ্ঞাপন Ad
শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে দ্বিতীয় টেস্টের প্রথম দিনটা নিজেদের করে নিয়েছে ভারত। দেবদূত পাডিক্কালের টানা দ্বিতীয় টেস্টে সেঞ্চুরি, শুভমান গিলের অর্ধশতক আর ব্যাটারদের নিয়ন্ত্রিত ব্যাটিংয়ে দিন শেষে ভারতের সংগ্রহ ৫ উইকেটে ৩০০ রান। দিনের শেষ পর্যন্ত ক্রিজে আছেন অভিষিক্ত সারাংশ জৈন ও ধ্রুব জুরেল। তাদের সংগ্রহ যথাক্রমে ৪ ও ৭ রান। টস জিতে প্রথমে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন ভারত অধিনায়ক শুভমান গিল। কলম্বোর এসএসসি মাঠের গরম ও আর্দ্র আবহাওয়ায় শুরুতে শ্রীলঙ্কার পেসাররা সামান্য সুইং পেলেও সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে সেটি কমে আসে। ফলে ব্যাটিংয়ের জন্য সুবিধাজনক কন্ডিশন কাজে লাগিয়ে ভারত দিনটি নিজেদের করে নেয়। ভারতের ইনিংসের মূল নায়ক পাডিক্কাল। ১১৭ রানের ইনিংসে তিনি গড়েছেন তিনটি গুরুত্বপূর্ণ জুটি। এর মধ্যে শুভমান গিলের সঙ্গে ১২০ এবং রবীন্দ্র জাদেজার সঙ্গে ৭৪ রানের জুটি ভারতকে বড় সংগ্রহের পথে এগিয়ে দেয়। তবে সেঞ্চুরির পথে দুবার জীবন পেয়েছেন পাডিক্কাল। ইনিংসের প্রথম বলেই পয়েন্টে ক্যাচ দিয়েছিলেন তিনি। সোনাল দিনুশার হাতে যাওয়া বলটি অবশ্য পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি। এরপর মাত্র ১ রানে কেশারা নুয়ান্থার বলে স্লিপে আবারও সুযোগ দেন তিনি। ধনঞ্জয়া ডি সিলভা সেই ক্যাচটিও লুফে নিতে পারেননি। দুটি সুযোগ কাজে লাগিয়ে শেষ পর্যন্ত দুর্দান্ত সেঞ্চুরি তুলে নেন বাঁ-হাতি এই ব্যাটার। টেস্ট ক্যারিয়ারে এটি তার দ্বিতীয় শতক, আর টানা দ্বিতীয় টেস্টে সেঞ্চুরি করার কীর্তি গড়লেন তিনি। পাডিক্কালের সঙ্গে গিলের জুটিটি ছিল ভারতের ইনিংসের সবচেয়ে বড় জুটি। গিল নিজেও ৫০ রান করেন। তবে অর্ধশতকের পরই তার ইনিংস থামে লাহিরু কুমারার বলে। অফ স্টাম্পের বাইরের বল তাড়া করতে গিয়ে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দেন ভারতীয় অধিনায়ক। এর আগে কেএল রাহুলও বেশ স্বচ্ছন্দেই ব্যাট করছিলেন। কিন্তু অফ স্টাম্পের বাইরের একটি আলগা বলে অযথা শট খেলতে গিয়ে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন তিনি। ভারতের আরেক ওপেনার জশস্বি জয়সওয়ালও শুরুতে আক্রমণাত্মক ছিলেন। আসিথা ফার্নান্দোর এক ওভারে টানা তিনটি বাউন্ডারি হাঁকানোর পর অবশ্য সেই আসিথার বলেই বোল্ড হন তিনি। ভালো লেংথের বলটি ভেতরে ঢুকে জয়সওয়ালের ব্যাটের ভেতরের কানা ছুঁয়ে স্টাম্পে আঘাত করে। শ্রীলঙ্কার বোলারদের মধ্যে সবচেয়ে সফল ছিলেন আসিথা ফার্নান্দো। দিন শেষে ৪৬ রানে ৩ উইকেট নিয়েছেন তিনি। লাহিরু কুমারা ও কেশারা নুয়ান্থা পেয়েছেন একটি করে উইকেট। কুমারার বোলিং অবশ্য তার পরিসংখ্যানের চেয়েও বেশি কার্যকর ছিল। তার শর্ট বলেই প্রথমে রিশাভ পান্তের হাতে আঘাত লাগে। বলটি পুল করতে গিয়ে পান্তের হাতের নিচের অংশে আঘাত লাগে এবং তাকে মাঠ ছাড়তে হয়। এরপর একই ধরনের একটি ডেলিভারি রবীন্দ্র জাদেজার বাঁ-হাতের আগবাহুতেও আঘাত করে। জাদেজা অবশ্য ব্যথা নিয়েই ব্যাটিং চালিয়ে যান। পরে একই হাতে ক্র্যাম্প দেখা দিলে তাঁকে দুই দফায় ফিজিওর চিকিৎসা নিতে হয়। শেষ পর্যন্ত সেই অস্বস্তির প্রভাব পড়ে তার ব্যাটিংয়ে। আসিথা ফার্নান্দোর ভেতরে ঢুকে আসা বলে ভুল লাইনে ডিফেন্স করতে গিয়ে জাদেজা বোল্ড হন। বলটি ব্যাটের পাশ কাটিয়ে অফ স্টাম্পের মাথা উড়িয়ে দেয়। এরপর শেষ সেশনে পাডিক্কালও হঠাৎই উইকেট হারান। কেশারা নুয়ান্থার দ্রুতগতির বলে অফ স্টাম্পে ডিফেন্স করতে গিয়ে ভুল লাইনে ব্যাট চালান তিনি। বলটি তাঁর ব্যাটের বাইরের কানা এড়িয়ে সরাসরি অফ স্টাম্পে আঘাত করে। সম্প্রতি নতুন করে তৈরি করা হলেও এসএসসির উইকেট নিয়ে ম্যাচের আগে ধারণা ছিল, প্রথম দুই থেকে তিনদিন ব্যাটিংয়ের জন্য বেশ ভালো থাকবে। এরপর উইকেট শুকিয়ে গেলে স্পিনাররা ক্রমেই বেশি সুবিধা পাবেন। টস জিতে ব্যাটিং নেওয়ার ক্ষেত্রে তাই গিলের সিদ্ধান্ত নিয়ে খুব একটা দ্বিমত ছিল না। শ্রীলঙ্কা অধিনায়ক ধনঞ্জয়া ডি সিলভাও টস জিতলে একই সিদ্ধান্ত নিতেন বলে মনে করা হচ্ছিল। শুরুর দিকে লাহিরু কুমারা ও আসিথা কিছুটা সুইং আদায় করে নিলেও অষ্টম ওভারেই প্রভাত জয়সুরিয়াকে আক্রমণে আনা হয়। এতে বোঝা যায়, শ্রীলঙ্কা দ্রুতই বুঝতে পেরেছিল যে পেসারদের জন্য দীর্ঘ স্পেল করার মতো পরিস্থিতি নেই। কুমারা ও আসিথা সাধারণত তিন থেকে চার ওভারের ছোট ছোট স্পেলে বোলিং করেন। তাঁদের মাঝে স্পিনারদের দিয়ে রান আটকানো এবং উইকেটের সুযোগ তৈরির চেষ্টা চালায় শ্রীলঙ্কা। তাতে দিনের বড় একটা সময় বেশ ধীরগতির ক্রিকেট দেখা যায়। ভারতীয় ব্যাটাররা সহজেই স্ট্রাইক বদলেছেন, আবার প্রয়োজনমতো বাউন্ডারিও বের করে নিয়েছেন। আইএইচএস/
বিজ্ঞাপন Ad
পাঠকের মতামত
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন Ad
বিজ্ঞাপন Ad

সম্পাদক ও প্রকাশক: <b>ডি. হাসান. খান</b> | নির্বাহী সম্পাদক: <b>এ. এইচ. সুমন</b>
<div><b>বেলভিউ টাওয়ার ৭১ বীর উত্তম সিআর দত্ত রোড, হাতিরপুল, ঢাকা-১২০৫</b></div>