বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর)। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী দলীয় নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন।
৩১ আগস্ট দেওয়া এক বাণীতে রুহুল কবির রিজভী বলেন, ৪৮ বছর আগে দেশের এক চরম ক্রান্তিকালে মহান স্বাধীনতার ঘোষক, বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবক্তা, বীর রাষ্ট্রনায়ক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি প্রতিষ্ঠিত হয়। জাতীয় স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের সুরক্ষা, গণতন্ত্রের প্রতিষ্ঠা ও জনগণের অধিকার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠার পর থেকেই বিএনপি নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
দলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এই শুভক্ষণে শহীদ জিয়াউর রহমানের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন রিজভী। একই সঙ্গে তিনি দলের প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়ার সহধর্মিনী দেশনেত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি শ্রদ্ধা জানান এবং তার রুহের মাগফিরাত কামনা করেন।
রিজভী বলেন, দেশ ও জাতির চরম সংকটকালে অসীম সাহসিকতার সঙ্গে জুলুম-নির্যাতন সহ্য করেও দুর্বার আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন বেগম খালেদা জিয়া। বিএনপি প্রতিষ্ঠার পর থেকে এ পর্যন্ত দলের জন্য যেসব নেতাকর্মী আত্মত্যাগ করেছেন, তাদের প্রতিও গভীর শ্রদ্ধা জানান তিনি।
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মী, সমর্থক, শুভানুধ্যায়ী এবং দেশবাসীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব।
বাণীতে বিএনপির রাজনৈতিক আদর্শের কথাও তুলে ধরেন রিজভী। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’ ও বহুদলীয় গণতন্ত্র বিএনপির মূল আদর্শ। বিএনপি প্রতিষ্ঠাকালীন শহীদ জিয়া প্রণীত ১৯ দফা কর্মসূচি দলের রাজনৈতিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের মূল ভিত্তি।
রিজভীর ভাষ্য, দলের প্রতিষ্ঠাতা শহীদ জিয়াউর রহমানের আদর্শ ও দর্শনের ভিত্তিতে ‘বাংলাদেশি পরিচয়’কে প্রতিটি দেশপ্রেমিক নাগরিকের মর্যাদার ভিত্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা, স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং জনগণের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করাই বিএনপির প্রধান লক্ষ্য।
৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে দলের নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে রিজভী বলেন, গণতন্ত্রের পথচলা অব্যাহত রাখতে এবং জনগণের অধিকার স্বেচ্ছাচারী কোনো শক্তি আর যেন কখনোই কেউ হরণ করতে না পারে, সে জন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।
তিনি বলেন, দীর্ঘদিনের গণতন্ত্রহীনতা ও স্বৈরাচারী শাসনের অবসান ঘটিয়ে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ঐতিহাসিক ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে গত ১২ ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনে যে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হয়েছে, তাতে জনগণের প্রত্যাশা পূরণে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তার সার্বিক সাফল্য কামনা করেন রিজভী।
রিজভী বলেন, জনগণের জানমালের নিরাপত্তা বিধানের পাশাপাশি রাষ্ট্র ও সমাজে আইনের শাসন, ন্যায়বিচার, মানবিক মর্যাদা এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বিএনপি তার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে আন্তরিকভাবে কাজ করছে।
জনগণের মতামত ও ভোটাধিকারের বিষয়েও বাণীতে বিএনপির অবস্থান তুলে ধরেন রিজভী। তিনি বলেন, জনগণের মতামত ও ভোটাধিকারকে বিএনপি সবসময় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়। জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার নিশ্চিত করা বিএনপির অঙ্গীকার।
একই সঙ্গে দেশের অর্থনীতি, প্রশাসন, বিচারব্যবস্থা ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে একটি জবাবদিহিমূলক ও জনকল্যাণমুখী রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তুলতে বিএনপি সরকার একযোগে কাজ করে যাচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা, গণতন্ত্রের বিকাশ এবং জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠাকেই বিএনপির রাজনীতির মূল লক্ষ্য হিসেবে উল্লেখ করেন রিজভী। তার ভাষ্য, ক্ষুধা, দারিদ্র্য, বেকারত্ব, বৈষম্য ও সামাজিক অনাচার দূর করে একটি সমৃদ্ধ, মানবিক ও ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার জন্য তারেক রহমানের সার্বিক পরিকল্পনা সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে।
একই সঙ্গে রাষ্ট্র ও সমাজে গণতান্ত্রিক চেতনার বিকাশ এবং জনগণের মৌলিক অধিকার সুরক্ষায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।
বাণীতে সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের কথা উল্লেখ করে রিজভী বলেন, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশে বিএনপি জনগণের সঙ্গে সম্পৃক্ত থেকে সবসময় তাদের অধিকার ও কল্যাণের জন্য কাজ করেছে। বিএনপি রাষ্ট্রের কৃষক, শ্রমিক, শিক্ষক, ব্যবসায়ী, পেশাজীবী এবং নারী ও শিশুসহ সমাজের সর্বস্তরের মানুষের সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে অঙ্গীকারবদ্ধ।
তিনি বলেন, দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, গণতন্ত্র ও জনগণের অধিকার রক্ষায় বিএনপি কখনোই পিছপা হবে না।
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এই শুভদিনে বিএনপির সর্বস্তরের নেতাকর্মী ও দেশবাসীর প্রতি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির পতাকাতলে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান রিজভী।
তিনি বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আদর্শ ও দেশনেত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার গণতান্ত্রিক সংগ্রামের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে একটি স্বাধীন, সার্বভৌম, গণতান্ত্রিক, সমৃদ্ধ ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।
কেএইচ/এসএনআর
বিজ্ঞাপন